নিশ্চিত হোক মানসম্মত উচ্চ শিক্ষা

18/07/2013 12:05 am0 commentsViews: 4

উচ্চ শিক্ষার সুযোগকে সুগম করার লক্ষে েেদশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেয়া হয়। বর্তমানে সারােেদশ এ ধরনের ৭১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। এর মধ্যে ৫৪টি প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছর অতিক্রম করেছে। বেসরকারি এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুতে নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। স্বল্প পরিসরে নামকাওয়াস্তে অনেক ছাত্র ভর্তি করে গাদাগাদি অবস’ায় শিক্ষাদান শিক্ষার মান নিশ্চিত করার পরিপনি’ ছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তাগাদায় পর্যায়ক্রমে এগুলোকে সে অবস’া থেকে বের করে আনার চেষ্টায় নানা পদেক্ষপ নেয়া হয়েছে।
২০১০ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় মানসম্মত শিক্ষার কার্যক্রম নিশ্চিত করার লক্ষে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এক বছর সময় দিেয় নিজস্ব ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা দেয়। নির্দষ্টি সময়ের ভেতর যেসব বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজস্ব স’ায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হবে, তারা ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরের পর আর শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না বলে জানিয়ে দেয়া হয়। নির্ধারিত এ সময়ের চার মাস পর ২০১২’র জানুয়ারিতে নিজস্ব স’ায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার সময় আরও এক বছর বৃদ্ধি করে মন্ত্রণালয়। সেই সময়ও পার হয়েছে গত বছরের ডিসেম্বরে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছরের  মধ্যে নিজস্ব ক্যাম্পাসে যাওয়ার কথা। বার বার সময় দেয়া  সত্ত্বেও অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব স’ায়ী ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি। সেগুলোর মধ্যে ১১টি বিশ্ববিদ্যালয় এ বিষয়ে কোনো ধরনের উদ্যোগই নেয়নি। সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যালোচনা সভায় এদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী কঠোর ব্যবস’া নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নানা অব্যবস’াপনা, অনিয়ম আর দুর্নীতিতে জর্জরিত। মালিকানার দ্বন্দ্ব, পরস্পরবিরোধী মামলা-মোকদ্দমার সূত্রে প্রায়ই তারা সংবাদপত্রের খবর হচ্ছে। তা সত্ত্বেও দেশ উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে তারা যে শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখছে, সেটা অস্বীকার করা যাবে না। আমরা মনে করি, কেবল স’ায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠাই নয়, প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষার ব্যবস’া নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক এবং অন্যান্য সুবিধা আছে কিনা সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি যে ১১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে কঠোর পদেক্ষপের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি সম্পর্কেও সচেতন থাকতে হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মালিকরা শিক্ষাকে কেবল ব্যবসায় পরিণত করেছেন। কিন্ত শিক্ষা শুধু ব্যবসা নয়, শিক্ষা সেবাও। মালিকরা যেন এটা ভুলে না যান।

Leave a Reply