দুর্ঘটনা বাড়াচ্ছে রেল লাইনের পাশের বসতি

15/02/2018 1:04 am0 commentsViews: 25

জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে দুর্ঘটনাও বেড়ে চলেছে। ব্যবস’াপনায় পিছিয়ে থাকাই যে এর কারণ সেটা না বললেও চলে। মান্ধাতা আমলের চিনৱা নিয়ে আধুনিক সমাজ গড়ে তোলা কতটা অসম্ভব সেটা বুঝতে আর কত অপেৰা করতে হবে সেটা বলারও যেন কেউ নেই। ফলে রেললাইনের দুধারে বসতি বা স’াপনা নির্মাণের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজও স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।
অন্যান্য নগরীর মতোই রাজশাহীতেও রেললাইনের দুপাশে বসতি ও নানা ধরনের স’াপনার সংখ্যা বেড়ে চলেছে। নগরীর ভেতরে কমপৰে ১০ কিলোমিটার এলাকায় ঝুঁকি নিয়েই চলছে জীবন ও জীবিকা। লাইনের ধারেই বসতি, দোকানপাট, অফিস-চেম্বার হওয়ায় ট্রেন আসার সময়ও তা টের পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। রেললাইন ঘেঁষে চলাচল বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনাও বাড়ছে। গত এক বছরে অনৱত ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছে ট্রেনের ধাক্কায়। নগরীর বেশিরভাগ রেলগেটে গেটম্যান না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই চলছে যানবাহন ও পথচারী। তারপরও দুর্ঘটনার কারণ বসতি ও স’াপনাগুলি বহাল তবিয়তে টিকে আছে বছরের পর বছর। বিষয়টি নিয়ে রেল কর্তৃপৰ বা নগর কর্তৃপৰ কারোরই বাসৱবসম্মত কোনো চিনৱা আছে বলে মনে হয় না।
রেল কর্তৃপৰ মাঝে মধ্যে অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেই দায়িত্ব সারে। অতীতের মতো উচ্ছেদকেই রম্নটিন ওয়ার্ক হিসেবে দেখা যাচ্ছে এখনও। এর পরিণতির চেয়ে অর্থ বরাদ্দ কম নিয়েই তাদের চিনৱা বেশী। বিকল্প ব্যবস’া ছাড়া গায়ের জোরে উচ্ছেদ যে সমাধান নয় সেটা বলারও কি কেউ নেই ?
তা ছাড়া প্রায়শই উচ্ছেদ অভিযান স’গিত রাখতে হয় জনরোষের মুখে। স’ানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিজেদের স্বার্থেই উচ্ছেদের বিরোধিতায় পথে না নেমে পারে না। তারাও বিষয়টির স’ায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধানে আগ্রহী হন না কেন সেটা কে বলবে? ফলে বছরের পর বছর ধরে রেললাইনের ধার ঘেঁষে বসতি ও স’াপনা টিকে থাকছেই না, ক্রমেই বাড়ছে।
অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান চালালেও অনেক স’ানেই লাইনের পাশের জমি ইজারা দিয়ে দখলের বৈধতা দিয়েছে রেল কর্তৃপৰই। লাইন থেকে ১০ ফুট দূরে স’াপনা নির্মাণের নিয়ম কাগজে-কলমে থাকলেও বাসৱবে এর দেখা মেলে না। ফলে দুর্ঘটনায় হতাহত ও ৰয়ৰতিই নিয়মিত হয়ে উঠেছে।
সামগ্রিক উন্নয়নের সাথে নগরীর ভেতরে অরৰিত রেললাইন যে সঙ্গতিপূর্ণ নয় সেটা কি বলার অপেৰা রাখে? প্রতিটি রেলগেটে গেটম্যান নিয়োগের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস’া এবং রেললাইন ঘেঁষে বসতি ও স’াপনা উচ্ছেদের আগে বিকল্প ব্যবস’া ও পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নেয়া জরম্নরি হয়ে উঠেছে। এছাড়া কি পরিসি’তির উন্নতি আশা করা যায়?

Leave a Reply