অতিরিক্ত আখেও উৎপাদনে ঘাটতি!

15/02/2018 2:08 am0 commentsViews: 40

রিমন রহমান: চলতি মৌসুমে লৰ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত আখ সংগ্রহ করেও চিনি উৎপাদনের লৰ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি রাজশাহী চিনিকল। ফলে এবারও সরকারি বিপুল অংকের অর্থের লোকসান প্রায় নিশ্চিত হয়ে পড়েছে। চিনিকল কর্তৃপৰ বলছে, আখের রিকভারির হার কমে যাওয়ায় অর্জিত হয়নি উৎপাদনের লৰ্যমাত্রা।
রাজশাহী চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, চলতি চিনি উৎপাদন মৌসুমে এখানে আখ সংগ্রহের লৰমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭৩ হাজার মে. টন। তবে লৰ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আখ সংগ্রহ হয়েছে ৯৩ হাজার ৯৫ মে. টন। ৭৩ হাজার মে. টন আখ মাড়াই করে চিনি উৎপাদনের লৰমাত্রা ধরা হয়েছিল সাড়ে পাঁচ হাজার মে. টন।
কিন্তু অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করে বাড়তি ২০ হাজার ৯৫ মে. টন আখ সংগ্রহ করেও চিনি উৎপাদনের লৰ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। ৯৩ হাজার ৯৫ মে. টন আখ মাড়াই করে চিনি উৎপাদন হয়েছে পাঁচ হাজার ৪৪৮ মে. টন। এসব আখে চিনি রিকভারির হার শতকরা ৫ দশমিক ৮৫ ভাগ। অথচ রিকভারির লৰ্যমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫ ভাগ।
সংশিৱষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গেল বছরের ১৭ নভেম্বর রাজশাহী চিনিকলে আখ মাড়াই শুর্ব হয়। ওই সময় থেকেই শুর্ব হয় আখ সংগ্রহ অভিযান। চাষিদের কাছ থেকে প্রতিমণ আখ কেনা হয় ১২৫ টাকা দরে। অতিরিক্ত আখ কিনে গত ২৩ জানুয়ারি সংগ্রহ অভিযান শেষ করেছে চিনিকল কর্তৃপৰ। এই সময়ের মধ্যে আখ মাড়াইও হয়েছে। কিন্তু উৎপাদনে রয়েছে ঘাটতি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক দেব দুলাল ঢালি বলেন, অনেক সময় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের মতো বৈরি আবহাওয়ার কারণে আখের চিনি আহরণের অনুপাত কমে যায়। এছাড়া জমি থেকে সময়মতো আখ কাটা না হলেও কমে আহরণের অনুপাত। আবার আখ কেটে দীর্ঘ সময় ধরে সুগার মিলে ফেলে রাখলেও কমে যায় আহরণের অনুপাত।
কৃষি কর্মকর্তা বলেন, রাজশাহী চিনিকল ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত। কলের পুরনো যন্ত্রপাতিগুলো বহু আগেই কর্মৰমতা হারিয়েছে। যন্ত্রের কর্মৰমতা কমলেও রিকভারির হার কমে যায়। মূলত এই চার কারণে এবার আখের রিকভারির লৰ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। ফলে অতিরিক্ত আখ দিয়েও উৎপাদনের লৰ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি চিনিকল।
তিনি জানান, জেলায় এবার মোট ৮ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ৩৩০ হেক্টর আখ কেটে নেওয়া হয়েছে। এতে ফলন পাওয়া গেছে তিন লাখ ৪৩ হাজার মে. টন। তবে এই আখ থেকে চিনি উৎপাদনের হিসাব কৃষি বিভাগের কাছে থাকে না।
অতিরিক্ত আখেও চিনি উৎপাদনের লৰ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজশাহী চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশফাকুর রহমান বলেন, বৈরি আবহাওয়ার কারণে আখের রিকভারির হার কমে গেছে। পুরানো যন্ত্রের কারণেও উৎপাদন কমতে পারে। তবে আখ সংগ্রহের পর তা ফেলে রাখা হয়নি বলে দাবি করেন চিনিকলের এই শীর্ষ কর্মকর্তা।
আশফাকুর রহমান বলেন, গত বছর চাষিদের কাছ থেকে ১১০ টাকা মণ দরে আখ কেনা হয়েছিল। এ বছর কেনা হয়েছে ১২৫ টাকায়। আগামী মৌসুমে আরও ১৫ টাকা বৃদ্ধি করে আখ কেনা হবে ১৪০ টাকায়। আখের দাম বৃদ্ধি করায় চাষিরা চিনিকলে আখ দিতে উৎসাহী হয়ে উঠেছেন। কিন্তু জমিতে মানসম্মত আখ উৎপাদন না হওয়ায় চিনি উৎপাদন ভাল হচ্ছে না বলেও মনে করেন তিনি।
জানা গেছে, রাজশাহী চিনিকলে চাহিদার তুলনায় যুক্ত আছে অতিরিক্ত জনবল। মৌসুম শেষে প্রতিবছরই মিলের গুদামে বিপুল পরিমাণ চিনি অবিক্রিত থাকে। চাহিদা থাকলেও বিক্রি না হওয়ায় পরের বছর তা কম দামে বিক্রি করতে হয়। এতে আটকে থাকে টাকা। ফলে বাড়ে লোকসানের বোঝা। এভাবে গত এক যুগে প্রায় সাড়ে তিনশো কোটি টাকা লোকসান করেছে রাজশাহী চিনিকল।

Leave a Reply