মাতৃভাষা চেতনায় মমতায়

13/02/2018 2:05 am0 commentsViews: 10

স্টাফ রিপোর্টার: ভাষার মাস ফেব্র্বয়ারি ত্রয়োদশতম দিন আজ। নানান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সারাদেশে ফেব্র্বয়ারির প্রথমদিন থেকেই পালিত হচ্ছে দিবসটি। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান কর্মসূচি হচ্ছে রাজধানীতে বাংলা একাডেমির বই মেলা, যা ফ্রেব্র্বয়ারির ১ তারিখে শুর্ব হয়ে মাস জুড়ে চলবে।
গাজীউল হক ‘একুশের গান’ কবিতায় লিখেছেন-‘ভুলবো না ভুলবো না ভুলবো না/সে একুশে ফেব্র্বয়ারি ভুলবো না/ লাঠি গুলি টিয়ারগ্যাস মিলিটারি আর মিলিটারি ভুলবো না’। ভাষা সৈনিক গাজীউল হক ছিলেন রাষ্ট্রভাষা সংগ্রামের অন্যতম একজন নেতা। তিনি কবিতায় একুশে ফেব্র্বয়ারিকে এমন আবেগেই দেখেছেন। আবার দ্রোহের আগুন তাঁর বুকের মধ্যে দাউ দাউ করে জ্বলেছে। এই আগুনের ফুলকি ছড়িয়ে দিয়েছিলেন সারা বাংলায়।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্র্বয়ারিতে এ আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ ধারণ করলেও বস্তুত এর বীজ বপন হয়েছিল বহু আগে, অন্যদিকে এর প্রতিক্রিয়া এবং ফল ছিল সুদূরপ্রসারী। ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্রিটিশ ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তানের উদ্ভব হয়। কিন্তু পাকিস্তানের দুটি অংশ- পূর্ব পাকিস্তান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে সাংস্কৃতিক, ভৌগোলিক ও ভাষাগত দিক থেকে অনেক মৌলিক পার্থক্য বিরাজ করছিল। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করে যে, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।
এ ঘোষণার প্রেৰাপটে পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থানকারী বাংলাভাষী সাধারণ জনগণের মধ্যে গভীর ৰোভের জন্ম হয় ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। পূর্ব পাকিস্তান অংশের বাংলাভাষী মানুষ আকস্মিক ও অন্যায্য এ সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারেনি এবং মানসিকভাবে মোটেও প্রস্তুত ছিল না। ফলস্বরূপ বাংলাভাষার সম-মর্যাদার দাবিতে পূর্ব পাকিস্তানে আন্দোলন দ্র্বত দানা বেঁধে ওঠে। আন্দোলন দমনে পুলিশ ১৪৪ ধারা জারি করে ঢাকা শহরে সমাবেশ-মিছিল ইত্যাদি বেআইনী ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। অবশেষে রক্তের বিনিময়ে মাতৃভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলা। একুশে ফেব্র্বয়ারি আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। একুশের ধারাবাহিকতায় পরবর্তিতে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের জন্ম হয়।

Leave a Reply