জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নেই রাসিকে

12/02/2018 2:09 am0 commentsViews: 92

তৈয়বুর রহমান: রাজশাহী নগরীতে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বেওয়ারিশ কুকুর। প্রতিটি মোড়ে ও পাড়া মহলৱায় দল বেঁধে ওৎ পেতে থাকে এসব কুকুর। সুযোগ পেলে পথচারিদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা। রাতে রাস্তা চলতে গিয়ে কুকুরের মুখে পড়ে পথচারিদের নাস্তানাবুদ হতে হয়।
ইতোমধ্যে কুকুরের প্রজনন ক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। একটি মা’কুকুর তিন থেকে চারটি করে বাচ্চার জন্ম দিয়েছে। ফলে কুকুরের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ থেকে ৫ গুণ। ফলে পথচারিদের রাস্তা চলা দায় হয়ে উঠেছে। আর বাইরের অপরিচিত কেউ আসলেতো রৰাই নেই। কুকুরের দাপটে অবস’াটা এমনই যে ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস’া। ভিৰা চাই না মা কুত্তা সামলা অবস’া। প্রবাদ বাক্যটি অন্য প্রসঙ্গে আসলেও বর্তমানে নগরীর কুকুরের ৰত্রে বাস্তবতা সেরকমই দাঁড়িয়েছে।
আগে সিটি কর্পোরেশনে নিধনের মাধ্যমে কুকুর বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা হতো। এক সূত্রে জানা গেছে যে- এখন নিধনের মাধ্যমে কুকুর নিয়ন্ত্রণ নয়, ভ্যাকসিনের ব্যবহার করে কুকুরের জন্ম নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ রয়েছে। ভ্যাকসিনের অভাব এবং কুকুর নিধন বন্ধ থাকায় লাগামহীনভাবে বাড়ছে বেওয়ারিশ কুকুর। এটা নগরবাসীর জন্য সাঁখের করাত হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সিটি কর্পোরেশনের কাছে- কূল রাখি না শ্যাম রাখি অবস’া।
ইতোমধ্যে শীত প্রায় শেষ। শীতে কুকুরের দাপট অনেকটা কম থাকে। শীতের শেষে কুকুরের দাপট এখন অনেকগুণ বেড়ে গেছে। আর নবজাতক কুকুরের বাচ্চাগুলো ইতোমধ্যে বড় হয়ে উঠছে। অচিরে তারাও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। এটা পথচারিদের জন্য মরণ ফাঁদে পরিণত হচ্ছে। এখনই কোন বিকল্প ব্যবস’া না নেয়া হলে সাধারণ মানুষের জন্য রাস্তায় চলাচল কঠিন হয়ে উঠবে। এর সাথে সাথে কুকুরের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় রাজশাহীকে দুষণমুক্ত রাখা কঠিন হবে।
এ সময়ের কুকুর জলাতঙ্ক বহন করে। ঐ সব কুকুরের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় জলাতঙ্কের ঝুঁকিও বাড়ছে। ঐ সমস্ত কুকুর নিয়ন্ত্রণ করা না হলে এতে যে কোন সময় জলাতঙ্ক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। আর এই জলাতঙ্কের ঝুঁকি নিয়েই চলছে নগরবাসী। অথচ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে রাসিক।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে ভ্যাকসিন রয়েছে কি না জানতে চাইলে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের স্বাস’্য কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা জানান, রাসিকে প্রয়োজনীয় জলাতঙ্ক রোধক ভ্যাকসিন না থাকায় বেকায়দায় রয়েছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন। এ ব্যাপারে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের সাথে কথা বলার কথা জানান তিনি।
বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যাধিক্যের কারণে নগরীতে সর্ব সাধারণের রাস্তা চলাই দায়। পথে দলবদ্ধ আগ্রাসি কুকুর নিয়ে দুশ্চিন্তায় পথচারি। রাতে অটোযোগে পথ চলতে গিয়ে দেখা গেছে যে রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকে। একটি কুকুর তেড়ে আসলে তার সাথে তেড়ে আসে এক পাল কুকুর। এতে পথচারির ত্রাহিত্রাহি অবস’া। এ অবস’া চলছে নগর জুড়ে। তটস’ হয়েই চলতে হচ্ছে নগরবাসীকে। এখনই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া না নেয়া হলে প্রতি দিনই কুকুরের তাড়া খেতে হবে পথচারীদের।
তবে এখনও দিনে পথ চলা কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও রাতের রাস্তা চলে যায় কুকুরের দখলে। অর্থাৎ রাতে রাস্তা থাকে বেওয়ারিশ কুকুরের দখলে। যাত্রীরা অটোতে চলাচল করলেও কুকুর পারে না যে অটোর ওপরই উঠে পড়ে।
নগরবাসীর জন্য সব থেকে আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে জলাতঙ্ক। আর কুকুরে কামড়ালে জলাতঙ্কের যে ভয়াবহতা তা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না করে পারে না। নগরীর কুকুর নিধন কর্মসূচি বন্ধ রেখে ভ্যাকসিন দিয়ে কুকুর নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা থাকলেও এ ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশনের নাই কোন উদ্যোগ।
মরণব্যাধি জলাতঙ্কের হাত থেকে এই নগরবাসীকে বাঁচাতে দ্র্বত ভ্যাকসিনের ব্যবস’া করা, অন্যথা এর বিকল্প ব্যবস’া গ্রহণ করার দাবি নগরবাসীর। তা না হলে যে হারে বেওয়ারিশ কুকুর বাড়ছে তাতে প্রতিটি মানুষকে ঝুঁকি নিয়েই চলতে হবে।
বেওয়ারিশ কুকুর আশঙ্কাজনক ভাবে বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে সিটি কর্পোরেশন কোন উদ্যোগ লৰ্য করা যাচ্ছে না কেন প্রশ্নের উত্তরে এ দায়িত্বে নিয়োজিত রাসিকের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মামুন (ডলার) বলেন, এব্যাপারে রাসিকের কিছু করার নাই। জন্মনিয়ন্ত্রণ ভ্যাক্সিন না থাকায় এব্যাপারে তারা কিছু করতে পারছেন না। এ দায়িত্ব হচ্ছে রাজশাহী প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের। তাদের সাথে কথা বলার জন্য বলেন তিনি।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন বলেন, মানবিক কারণে কুকুর নিধন নিষিদ্ধ। তবে রোগ জীবাণুনাশক ও জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য ভ্যাকসিন রয়েছে। ২০১০ সালে কুকুর যাতে জলাতঙ্ক জীবাণু যেন বহন করতে না পারে এর জন্য ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছিল। তখন নগরীতে কুকুর অনেকটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। এর পর আর রাসিকের পৰ থেকে কোন উদ্যোগ না নেয়ায় এখন কুকুর ভয়ানক হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply