প্রাথমিক শিৰা আরও গুর্বত্ব দাবি করে

12/02/2018 2:04 am0 commentsViews: 11

জাতি শিৰিত না হলে উন্নয়নও টেকসই হয় না। তাই জাতীয় উন্নতির জন্য শিৰার বিকল্প নেই। কথাটা সবার জানা। তাই শিৰার উন্নয়নে সচেষ্ট থাকাই স্বাভাবিক।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদৰেপ শিৰার প্রসার ঘটলেও এর মান নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। মানসম্পন্ন শিৰার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ছাড়াও প্রশিৰিত শিৰক অপরিহার্য। দেশের শিৰক প্রশিৰণ ব্যবস্থা যে পিছিয়ে সেটা শিৰাঙ্গনের পরিস্থিতি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। কারিকুলাম অনুযায়ী শিৰাদানে পর্যাপ্ত শিৰকের যেমন অভাব রয়েছে তেমনি এ জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট ও প্রশিৰণেরও ঘাটতি সাদা চোখেই ধরা পড়ে। বিশেষ করে প্রাথমিক শিৰায় বিষয়টি অগ্রাধিকার দাবি করে।
কারণ এখানেই শিৰার ভিত রচিত হয়। ভিত্তি দূর্বল হলে উন্নয়নও যে নড়বড়ে থেকে যায় সেটি বলাই বাহুল্য। অথচ প্রাথমিক পর্যায়ে শিৰার্থীর সংখ্যাবৃদ্ধির তুলনায় অবকাঠামো ও যোগ্যতাসম্পন্ন শিৰকের অভাব অস্বীকার করা যায় না। এৰেত্রে প্রশিৰিত শিৰকের দিক থেকে দৰিণ এশিয়ায় সবচেয়ে পিছিয়ে আছি আমরা।
গত ১৫ বছরে এ অঞ্চলের প্রাথমিক শিৰা ব্যবস্থার ওপর ইউনেস্কোর এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রাথমিক শিৰায় প্রশিৰিত শিৰকের হার বাংলাদেশে মাত্র ৫৮ শতাংশ। অথচ নেপালে এই হার ৯০ শতাংশেরও বেশি। পাকিস্তান ও শ্রীলংকায় ৮২ শতাংশ এবং মালদ্বীপে ৭৮ শতাংশ। আর প্রতিবেশি মিয়ানমারে শতভাগ প্রাথমিক শিৰকই প্রশিৰিত বলে জানা গেছে। প্রশিৰিত শিৰকের অভাবে শিৰার্থীরাও যথাযথ পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
প্রাথমিক শিৰা অধিদপ্তরের ২০১৭ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে শিৰার্থীদের পিছিয়ে থাকর চিত্র থেকেও পাঠদানে দূর্বলতার প্রমাণ মেলে। ২০১৫ সালে পঞ্চম শ্রেণীর শিৰার্থীদের বাংলা ও গণিতে দৰতা অর্জনের হার ছিল যথাক্রমে ২৩ ও ১০ শতাংশ। সমাপনী পরীৰার ফলাফলেও এর ছাপ লৰ করা যায়। ২০১৩ ও ২০১১ সালের চিত্রও ভিন্ন কিছু বলে না।
অথচ শ্রেণীকৰে পরিকল্পিত পাঠদানের লৰ্যে সরকারি-বেসরকারি সব প্রাথমিক বিদ্যালযে রয়েছে শিৰক সংস্করণ, সহায়িকা ও নির্দেশিকা। এসব অনুসরণ করা হলে শিৰার্থীদের কাঙ্খিত ফলাফল অসম্ভব কিছু নয়। কিন্তু সরকারি এক জরিপেই দেখা গেছে, প্রাথমিক শিৰকদের ৬৪ শতাংশই পাঠদানের ৰেত্রে ওই নির্দেশিকা অনুসরণ করতে পারছেন না। এর কারণ আর কিছু নয়, যথাযথ প্রশিৰকের অভাব। প্রাথমিক শিল্প অধিদপ্তরের (ডিপিই) হিসাবেও ৩০ শতাংশের বিেশি অপ্রশিৰিত শিৰক নিয়ে দেশের প্রাথমিক শিৰা কার্যক্রম পরিচালনার স্বীকৃতি মিলেছে। এর পাশাপাশি শিৰক স্বল্পতার কথা বলার অপেৰা রাখে না।
এমন অবস্থায় কাঙ্খিত আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিদ্যমান দূর্বলতা দূর করা অগ্রাধিকার দাবি করে। শিৰা ব্যবস্থায় বিশেষ করে প্রাথমিক শিৰায় বরাদ্দ ও প্রশিৰণ বৃদ্ধিসহ সামগ্রিকভাবে গুর্বত্ব দেয়া না হলে যুগের চাহিদা মেটাতে শিৰিত ও প্রশিৰিত মানবসম্পদ আশা করা যায় না। এছাড়া উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলার ধারা আদৌ বজায় রাখা সম্ভব কি?

Leave a Reply