হোমিও চিকিৎসার দিকে ঝুঁকছে মানুষ

11/02/2018 2:08 am0 commentsViews: 281

এম আই বাবু : এমবিবিএস এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অস্বাভাবিক পরামর্শ ফি নির্ধারণ করা হচ্ছে সাধারণ মানুষের সামর্থের কথা বিবেচনায় না নিয়েই। সেই সাথে ওষুধের ক্রমবর্ধমান মূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা গ্রহণ এক কথায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এতে করে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার দিকে ঝুঁকছে সাধারণ মানুষ। গরিবের চিকিৎসা হিসেবে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই চিকিৎসা। অভিজ্ঞ মহল মনে করেন হোমিও চিকিৎসার যথাযথ মূল্যায়ন করা হলে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্তের সূচনা হতে পারে।
গরিবের ডাক্তার বলা হয় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসককে। এ পদ্ধতিতে স্বল্প খরচে উন্নত চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায় বলেই হয়তো এমন কথা মানুষের মুখে মুখে চলে এসেছে। একসময় আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এবং বৈজ্ঞানিক মহলে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতিকে অবৈজ্ঞানিক,আজগুবি আর হাতুরে চিকিৎসা হিসেবে গণ্য করা হতো। পরবর্তীতে কঠোর বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, এটা ছিল ক্রটিপূর্ণ গবেষণা পদ্ধতি ও কিছু গবেষকের পক্ষপাতদুষ্ট ফলাফল উপস্থাপন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলে ৫৪ টি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল রয়েছে। সরকার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা সেবা বিকাশের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দেশের ৯০ টি সরকারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেৱঙে হোমিও চিকিৎসক নিয়োগ দিয়েছেন। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি সরকারি এ সকল হাসপাতাল থেকেই রোগীদের বিনামূল্যে হোমিও ঔষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।
অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসার পাশাপাশি মানুষ এখন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতির দিকেও ঝুঁকছে। দিন দিন এ চিকিৎসা পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। পুরাতন, জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসায় রীতিমতো হোমিও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছে মানুষ। একটি বেসরকারি গবেষণার তথ্য মতে, দেশের প্রায় ৪০ ভাগ মানুষ এখন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা সেবা নেন। দেশে গত ১৫ বছরে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নেওয়া লোকের সংখ্যা বেড়েছে অন্তত চারগুণ বলে জানা গেছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত (হোমিওপ্যাথিক) ডা. আতাউর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, হোমিও চিকিৎসা এখন অনেক আধুনিক এবং সরকার হোমিও চিকিৎসার ব্যাপারে যথেষ্ট আন্তরিক। হোমিওপ্যাথিক ঔষুধের কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই বললেই চলে। চিকিৎসা ব্যয়ও খুব কম। স্বল্প আয়ের মানুষেরা সহজেই এ চিকিৎসা সেবা নিতে পারেন। এই হাসপাতালে চিকিৎসার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০ জন মানুষ চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। এখানে চিকিৎসার জন্য ১০ টাকা দিয়ে টিকেট নিয়ে মানুষ চিকিৎসা নিতে পারেন। তিনি আরো জানান, এখানে ডাক্তার হিসাবে একমাত্র তিনিসহ ২ জন স্টাফ রয়েছে। চিকিৎসার পরিধি বাড়াতে পারলে মানুষ আরো বেশী উপকৃত হবে। এর জন্য অন্তত আরো একজন ডাক্তার এবং স্টাফ নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। হোমিও চিকিৎসা বিষয়ে ডাক্তার আব্দুল মান্নান জানান হোমিও ওষুধ শুধু মাত্র রোগ নিয়ন্ত্রণ নয় রোগ সম্পূর্ণ নিরাময় করে। তবে জটিল রোগের ক্ষেত্রে রোগীকে ধৈর্য্য ধরে ওষুধ সেবন করতে হবে। অভিজ্ঞ মহল মনে করেন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকরা যথাযথ মূল্যায়ন করলে দেশের স্বাস্থ্য সেবায় নতুন দিগন্তের সূচনা হতে পারে।

Leave a Reply