সবজির দাম নিয়ে আশংকা কি দূর হবে না ?

11/02/2018 1:04 am0 commentsViews: 28

বাজারে শীতের সবজি আমদানি বেড়ে যাওয়ায় দাম পড়ে গেছে। এতে ক্রেতা খুশি হলেও চাষির মাথায় হাত ওঠার যোগার হয় প্রায়শই। প্রতিবছরই দাম পড়ে যাওয়ায় অনেক চাষি খেতের সবজি বাজারে না এনে গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। এমন অবস’া দূর করা গেলে সবজির দাম নিয়ে আশংকা দূর হওয়াও অসম্ভব নয়।
তবে সাধারণ কৃষক এমন দুরবস’া থেকে মুক্তির পথ দেখে না। বাজারের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে উৎপাদন বাড়িয়ে কৃষককে লোকসান গুণতে হয়। যারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করে তারাই লাভবান হয়। এভাবেই কৃষকের মাথার ঘাম পায়ে ফেলা লাভের গুড় পিঁপড়ায় খেয়ে যায়। এ বাসৱবতা অস্বীকার করা যায় না।
এ অবস’ার পরিবর্তনে জাতীয়ভাবে পরিকল্পিত পদৰেপ দেখা যায় না। তবে বিভিন্ন স’ানে ব্যক্তি উদ্যোগে ভিন্ন অবস’ার কথা জানা যায়। পরিকল্পিতভাবে কৃষিপণ্যের কেনাবেচার ব্যবস’া গড়ে তুলে কৃষকের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিশ্চিত করা যে অসম্ভব নয় সেটাও দেখা গেছে। প্রত্যেক নগরিতে চেইনশপ বা রপ্তানির এমন ব্যবস’াপনা ব্যাপকভাবে গড়ে তোলা গেলে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিশ্চিত হবার পাশাপাশি ক্রেতা সাধারণও মানসম্পন্ন পণ্য পেতে পারে।
দেশে এ ধরনের চুক্তিভিত্তিক কৃষি উৎপাদন শুরম্ন হয়েছে বিচ্ছিন্নভাবে। রাজশাহীর আম এই পদ্ধতিতে বিদেশে যাচ্ছে। সম্প্রতি যশোরের বাঁধাকপি বিশ্ববাজারে বিক্রি হবার খবরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। গত তিনমাসে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ব্রম্ননেই গেছে ১৪০ টন বাঁধাকপি। আর চলতি মাসে তাইওয়ান যাচ্ছে আরও ৪৮ মেট্রিক টন। এর ফলে প্রানিৱক কৃষক সবজির ন্যায্য দাম পেয়ে লাভের মুখ দেখতে পেয়েছে।
একটি বেসরকারি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান চুক্তিবদ্ধ কৃষকের মাঠ থেকেই বাজারমূল্যে বাঁধাকপি কিনে রপ্তানির জন্য প্রক্রিয়াজাত করে। এজন্য স’ানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় ‘কৃষিপণ্য সংগ্রহ ও বিপণন কেন্দ্র’ চালু হয়েছে যেখানে মাঠ থেকে আনা বাঁধাকপি ঝেড়ে-কেটে প্যাকেজিং করে সংরৰণ করা হয়। এভাবে যথাযথমানে প্রক্রিয়াজাতকরণের পর কৃষি বিভাগের প্রত্যয়নপত্রসহ রপ্তানি করার খবর পাওয়া গেছে। বাঁধাকপি ছাড়াও কাঁচা মরিচ, করলা, পটোল, মিষ্টিকুমড়া, কাঁকরোল, আলু রপ্তানির কথাও জানা গেছে।
এ রকম ব্যবস’া যশোরে হলে কেন অন্যত্র হচ্ছে না সে প্রশ্ন উঠতেই পারে। প্রানিৱক কৃষকের স্বার্থ দেখার দায়িত্ব পালনের মতো কি কেউ নেই দেশে ? বাজারের হাতে কৃষকের ভাগ্য ছেড়ে না দিয়ে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস’া ছড়িয়ে দিতে পারলে কৃষির বহুমুখীকরণের মতই কৃষকের জীবন-জীবিকার মানোন্নয়নও সম্ভব হবে। তাহলে বাজারে শীতের সবজির দাম পড়ে যাওয়ার আশংকা থাকবে না। হাসি ফুটে উঠবে কৃষকের মুখে।

Leave a Reply