পাহাড়ে খুন-অপহরণ

17/07/2013 12:35 am0 commentsViews: 4

রোববার রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় পৃথক পৃথক ঘটনায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন জনসংহতি সমিতির সাবেক সদস্য, একজন জনসংহতি সমিতির কর্মি এবং একজন খ্রিস্টান ধর্মযাজক। দুর্বৃত্তদের হামলার ধরণ দেখে মনে হয়, এগুলো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব মোবাইলফোন অপারেটর টেলিটকের চার কর্মকর্তা অপহৃত হওয়ার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। দুর্বৃত্তরা রাঙামাটির বাঘাইছড়া উপজেলা থেকে তাদের অপহরণ করে ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পুলিশ বলছে, অপহরণকারিরা পার্বত্য চুক্তিবিরোধী সংগঠন ইউপিডিএফ’র সদস্য। তবে ইউপিডিএফ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ঘটনাগুলো যারাই ঘটাক না কেন, এর ফলে পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে।
সামপ্রতিক সময়ে পার্বত্য জেলাগুলোয় পাহাড়ি-বাঙালি উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়া ছাড়াও পাহাড়ি সংগঠনগুলোর নিজেদের মধ্যেও বিরোধের প্রকাশ ঘটছে নানাভাবে। বিশেষ করে চুক্তির সমর্থক ও চুক্তিবিরোধী সংগঠনগুলোর কর্মি ও সমর্থকদের মধ্যে খুন-খারাবির ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। এসব ঘটনা তিন পার্বত্য জেলা আবার অশান্ত- হয়ে ওঠার ইঙ্গিতবাহী কিনা তা খতিয়ে দেখা উচিত। আমরা কোনোভাবেই চাই না, পাহাড় আবার অশান্ত- হয়ে উঠুক এবং সেখানে মানুষের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি হোক। পাহাড়ে সত্যিকার শান্তি- ফিরিয়ে আনতে সরকারসহ সবার দৃষ্টি দেয়া দরকার।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর পার্বত্য এলাকায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তৎপরতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেখানে শানি- ফিরে এসেছিল। বৃদ্ধি পেয়েছিল পর্যটকদের আনাগোনাও। কিন্তু সামপ্রতিক বছরগুলোয় পাহাড়ে খুন-হানাহানি বেড়ে যাওয়ায় মানুষ তিন পার্বত্য জেলায় ভ্রমণে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ অবস’ার অবসান ঘটাতে হবে দ্রুত।

Leave a Reply