দুর্নীতি করলে রেহাই নেই

10/02/2018 1:04 am0 commentsViews: 14

৮ ফেব্রম্নয়ারি নিয়ে দেশব্যাপী উদ্বেগ-উৎকন্ঠা সৃষ্টি হয়েছিল। দিনটি ছিল বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরম্নদ্ধে দুর্নীতি মামলার রায়ের দিন। রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদ- হয়েছে। তারেক রহমানসহ অন্য আসামীদের ১০ বছরের কারাদ- দিয়েছেন আদালত। এই মামলা নিয়ে আগে থেকেই যে ভাবে পাল্টা-পাল্টি বাক্যবাণ শুরম্ন হয়েছিল তাতে জনমনে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা ছড়ানোই ছিল স্বাভাবিক। তবে সরকারের সতর্কতামূলক ব্যবস’া কিছুটা ভোগানিৱ সৃষ্টি করলেও এর ফলে যে বড় ধরনের কোনো অঘটন ঘটেনি সেটা স্বসিৱদায়ক হয়েছে বলাই যায়।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে বিদেশ থেকে আসা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এই মামলা দায়ের করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০০৮ সালে। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলার পর আদালতের রায় নিয়ে বিতর্ক আগেই শুরম্ন হয়েছিল। এদেশে হার মানার অভ্যাস কারও নেই। তাই জনগণের রায়ের মতই আদালতের রায় বিপৰে গেলেই অভিযোগের শেষ থাকে না। তবে মামলা নিয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ আছে। এ ৰেত্রে রায়ের বিরোধিতায় সহিংসতা কাম্য ছিল না।
তবে এই রায় নানাভাবে বিশেস্নষণ করা হবে এটাই স্বাভাবিক। কারণ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও একটি বড় রাজনৈতিক দলের প্রধানের বিরম্নদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির মামলাটি হয়েছে নিম্ন আদালতে। এ থেকে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন এর পাশাপাশি দুর্নীতি করলে কারও রেহাই নেই এমন ধারণাও সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ৰেত্রে এমন দৃষ্টানৱ বড় ভূমিকা রাখবে এটা জোর দিয়ে বলা যায়।
ৰমতার সাথে দুর্নীতির সম্পর্ক যে ঘনিষ্ঠ সেটা জানা কথা। আবার ৰমতাধররা দুর্নীতি করে পার পেয়ে যায় এটাও অস্বীকারের উপায় নেই। এমন অবস’ায় সমাজের বিভিন্ন সৱরে বিশেষ করে ব্যাংকসহ আর্থিকখাতে দুর্নীতির বাড়-বাড়নৱ জনমনে যে হতাশা সৃষ্টি করেছে আলোচিত মামলার রায় সে ৰেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এমন আশা করা কি বাড়াবাড়ি হবে? দুর্নীতি করলে রেহাই নেই এমন ধারণা প্রতিষ্ঠা করা গেলে সেটা যে দেশ-জাতি-জনগণের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে এতে সন্দেহ নেই।

Leave a Reply