ট্রাইব্যুনালের রায়ে গোলাম আযম সন্দেহাতীতভাবে অপরাধী প্রমাণিত হয়েছেন

16/07/2013 12:05 am0 commentsViews: 2

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ‘৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় গতকাল সোমবার ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং তাঁর অপরাধ মৃত্যুদণ্ডযোগ্য। তাঁর অপরাধ মৃত্যুদণ্ডযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও স্বাস’্যগত তথা বার্ধক্যজনিত অসুস’তার কারণে এবং বয়স বিবেচনা করে আদালত তাঁকে ৯০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিতের রায় প্রদান করেছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গতকাল এই রায় ঘোষণা করেছেন। এটি হলো একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের পঞ্চম মামলার রায়।
ইতোমধ্যে ঘোষিত চারটি রায়ের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল-১ দিয়েছেন একটি, বাকি তিনটি রায় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর তিনটিই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন। ট্রাইব্যুনাল-১ এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করেন। এদিকে গত বছরের ১৩ মে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল-১। এই আদালতে প্রায় তিন মাস আগে বিচার কাজ শেষে ১৭ এপ্রিল থেকে গোলাম আযমের মামলাটির রায় ঘোষণা অপেক্ষমান রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে গতকাল এই মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। উল্লেখ্য, গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে পাকিস্তানী বাহিনীর সঙ্গে পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র, সহযোগিতা, উস্কানি, সম্পৃক্ততা ও বাধা না দেয়া এবং ব্যক্তিগতভাবে নির্যাতনের পাঁচটি অভিযোগ গঠন করা হয় গত বছরের ১৩ মে। অভিযোগগুলোতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সঙ্গে পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত ৬টি, তাদের সঙ্গে সহযোগিতা সংক্রান্ত ৩টি, উস্কানি দেয়ার ২৮ টি, তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও হত্যা-নির্যাতনে বাধা না দেয়ার ২৩ টি এবং ব্যক্তিগত হত্যা ও নির্যাতন সংক্রান্ত ১টি ঘটনার উল্লেখ করা হয়। গোলাম আযমের বিরুদ্ধে গঠিত প্রথম অভিযোগটি মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে ষড়যন্ত্র করার। এ ধরনের অভিযোগে ছয়টি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। গোলাম আযম একাত্তরে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মূল পরিকল্পনাকারী। তিনি নাটের গুরু ছিলেন। রাজাকার শিরোমনি গোলাম আযম ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে হানাদার তথা দখলদার বাহিনীকে সর্বতোভাবে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে ত্রিশ লক্ষ নিরীহ নিরস্ত্র নারী, পুরুষ ও শিশু হত্যা এবং দুই লক্ষ নারী অপহরণ ও ধর্ষণে সহায়তা করে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন। তাঁর এইসব ঘৃণ্য ও হীন অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দেশবাসী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া রায়ে তার প্রতিফলন প্রত্যক্ষ করছেন।

Leave a Reply