গার্মেন্টস শিল্পের ইতিবাচক অবদান অক্ষুণ্ন রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি

15/07/2013 12:05 am0 commentsViews: 1

সাভারে রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা সত্ত্বেও দেশে পোশাক রপ্তানি ১৬ দশমিক ৭ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছর এ খাত থেকে আয় হয়েছে ২৭০ কোটি ডলার। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবারের সোনালী সংবাদে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুন মাসে শেষ  হওয়া  অর্থবছরে বাংলাদেশ সব মিলিয়ে ২১শ ৫০ লাখ ডলার মূল্যের পোষাক রপ্তানি করে। ঐ বছর সব মিলিয়ে রপ্তানি ১১ ভাগ বেড়েছে যার আর্থিক মূল্য ২ হাজার ৭ শ কোটি ডলার।
উল্লেখ্য, সাভারে গত এপ্রিল মাসে ভবন ধসে ১১৩২ জন শ্রমিক নিহত হওয়ার পর সরকার পোশাক শিল্পে ব্যাপক সংস্কারের ঘোষণা দেয়। আর এ পরিসি’তির মধ্যে পোষাক রপ্তানি বৃদ্ধির খবরটি নি:সন্দেহে খুশির খবর। কারণ অতি সমপ্রতি যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে চলা বাংলাদেশি পণ্যের অগ্রাধিকার সুবিধা জিএসপি স’গিত করেছে। ১৯৭৬ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পেয়ে আসা বিশেষ শুল্ক সুবিধা (জিএসপি) স’গিতের আশংকা ২০০৭ সাল থেকে থাকলেও সেটা দূর করতে বাংলাদেশের তরফ থেকে তেমন কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে এর অবশ্যম্ভাবি কারণ হিসেবে শেষ পর্যন্ত জিএসপি স’গিত হলো। অবশ্য তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে তেমন কোন প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলবেনা। তবে জিএসপি বাতিল হওয়ায় বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে তাৎক্ষণিক তেমন কোন প্রভাব না পড়লেও ইউরোপের সঙ্গে আমাদের যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আছে, তার ওপর দীর্ঘ মেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ী মহলের পাশাপাশি অর্থনীতিবিদরাও জিএসপি স’গিতের সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আশংকার কথা জানিয়েছেন, যা অত্যন্ত স্বাভাবিক। এদিকে, বাংলাদেশ সরকার এবং সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই জিএসপি ফিরিয়ে দেবে। কিন’ তথ্যাভিজ্ঞ মহলের অভিমত হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স’গিত করে দিয়েছে, তা আবার চালু হতে কিছুটা সময় লাগবে। তাদের মতে, সরকারের বিলম্বিত সিদ্ধান্তের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা জিএসপি স’গিত হয়ে গেছে। মূলত বাংলাদেশের শিল্প-কারখানার শ্রমপরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন ছিল অনেক আগে থেকেই। শ্রমিকদের অধিকারও প্রশ্নবিদ্ধ। কিন’ ইতিবাচক কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। শ্রম অধিকার ও কর্মপরিবেশের ওপর আমাদের আরো আগেই নজর দেয়া উচিত ছিল। এছাড়া শ্রমিকেরা যে তৈরি পোশাক শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, সেটি মালিক পক্ষ অনেক থেকেই স্বীকার করতে চায়না। কিন’ তারা যদি শ্রমিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করত, তবে আজকে শিল্পটি এভাবে হুমকির মুখে পড়ত না। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করে তাদের জীবন মানের  উন্নয়ন ঘটানো খুবই দরকার।

Leave a Reply