স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে একটি সড়ক দুর্ঘটনার মামলায় ট্রাক মালিক, চালক ও হেলপারকে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করেছেন শ্রমিকরা। গতকাল সোমবার দুপুর ২টা থেকে রাজশাহী নগরীর রেলগেট, তালাইমারী ও আমচত্বর এলাকায় সড়কে ট্রাক রেখে অবরোধ শুর্ব করেন তারা।
বিকাল পৌনে ৫টা পর্যন্ত এই অবরোধ চলে। এতে কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো মানুষ। পরে সিটি মেয়র এএইচএম খায়র্বজ্জামান লিটনের অনুরোধে অবরোধ তুলে নেন শ্রমিকরা।
নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, গত ১৪ সেপ্টম্বর রাত ৮টার দিকে নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার বালিয়া এলাকায় গর্ব বোঝাই একটি ট্রাক দোকানের মধ্যে ঢুকে যায়। এ সময় মার্বফ হোসেন নামে দোকানে বসে থাকা এক কিশোর মারাত্মকভাবে আহত হয়। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের নানা আজিজুল আলম বাদী হয়ে কাশিয়াডাঙ্গা থানায় ট্রাক মালিক, চালক ও হেলপারের নাম উলেৱখ করে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় গত রোববার রাতে ট্রাকের মালিক তানোরের মালশিরা বাবু আজাদ (৩৭), চালক পবার উজিরপুকুর এলাকার জীবন (৩৭) ও হেলপার নগরীর পশ্চিম তালাইমারী এলাকার বুলবুল হোসেনকে (২৭)। গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর গতকাল সকালে তাদের আদালতে তোলা হয়। আসামিপৰের আইনজীবীরা তাদের জামিনের আবেদন করেন। তবে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠান। এর প্রতিবাদে শ্রমিকরা রাস্তায় এলোমেলোভাবে ট্রাক রেখে অবরোধ শুর্ব করেন। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অবরোধের স্থানগুলোতে গিয়ে অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য শ্রমিকদের অনুরোধ জানান। একপর্যায়ে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেন।
ট্রাক, ট্যাংক, লরি, কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের জেলার সভাপতি সাইদুল ইসলাম অবরোধ চলাকালে বলছিলেন, তাদের ট্রাক মালিক, চালক ও হেলপারকে ছেড়ে দেওয়া হলেই তারা অবরোধ তুলবেন। তা না হলে অবরোধ চলবে। তবে অবরোধ তোলার পর সাইদুল ইসলাম বলেছেন, সিটি মেয়র খায়র্বজ্জামান লিটনের অনুরোধের প্রেৰিতে তারা অবরোধ তুলে নিয়েছেন।