আজমিরা পারভিন: প্রচ- রোদ। বৃষ্টি নেই। ঘরে বৈদ্যুতিক পাখাতেও কমছে না গরম। টানা গরমে পুড়ছে রাজশাহীর জনজীবন। কেউ কেউ চোখে সানগৱাস আর হাতে ছাতা নিয়ে তাপদাহ থেকে পরিত্রাণের পথ খুঁজছেন।
বর্ষার অবসানে তৃতীয় ঋতু শরৎ এক অপূর্ব শোভা ধারণ করে আবির্ভুত হয়। বাংলা ভাদ্র ও আশ্বিন মিলে শরৎকাল। শরতে সাধারণত ভোরে ঘাসের ওপর জমে শিশিরবিন্দু। শেষ রাতে পড়ে শীত। কমে যায় গরমের তীব্রতা। কিন্তু রাজশাহীতে এবার চিত্র ভিন্ন। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে প্রাণ।
পদ্মাপাড়ের এই শহরে এখন দিনের তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে। সূর্য থেকে যেন আগুন ঝরছে। ফলে খেটে খাওয়া দিনমজুরদের মাথায় গামছায় ভরসা। গাছের পাশে বসে গরম থেকে রৰা পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন অনেকে। গরমের কারণে বেড়েছে ডাব, বরফ দেওয়া আঁখের রস এবং লেবু শরবতের চাহিদা।
নগরীর সাহেববাজার এলাকায় আবু সাঈদ ও আবদুস সামাদ নামের দুই রিঙাচালক বলেন, অতিরিক্ত গরমে রাস্তায় লোকজন অনেক কম। ফলে লোক না থাকায় তাদের যাত্রী মিলছে না। যাত্রী কমে যাওয়ায় তাদের আয়-রোজগারে ভাটা পড়েছে। দিনের বেশিরভাগ সময় ছায়ায় বসে পার করে রাতে হতাশ হয়ে বাড়ি ফেরেন তারা।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেৰক নজর্বল ইসলাম জানান, গত ১৫ জুন মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সোমবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন ছিল ২৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভোরে বাতাসের আদ্রতা ছিল সর্বোচ্চ ৯৬ শতাংশ। আর বেলা ১২টার পর সর্বনিম্ন আদ্রতা ছিল ৩৮ শতাংশ।
আবহাওয়াবিদ নজর্বল ইসলাম বলেন, প্রকৃতির হিসেবে এ সময় এমন আবহাওয়া থাকার কথা নয়। ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে আবহাওয়া এমন খামখেয়ালি আচরণ করছে, যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে প্রাণিকূলে।