সীমান্তপথে মাদকের অনুপ্রবেশ রোধে আইনি ব্যবস’া জোরদার করা অত্যাবশ্যক

14/07/2013 12:05 am0 commentsViews: 3

ভারতীয় সীমান্ত পথ দিয়ে রাজশাহীতে বিভিন্ন ধরনের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য প্রবেশ করছে বলে গত মঙ্গলবারের সোনালী সংবাদে প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে। এর ফলে ৪০ ভাগ যুবক মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, এসব মাদকদ্রব্যের বাহক হিসেবে রাজশাহীর সীমান্তবর্তী এলাকার যুবক ও শিশুদের ব্যবহার করা হচ্ছে। এই তথ্য শুধু উদ্বেগজনক বা আশংকাজনকই নয়, দেশ ও জাতির জন্য এক মহা সর্বনাশের কারণও বটে। তথ্যমতে, ভারতীয় সীমান্ত পথ দিয়ে গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন, কোডিন, পেথেডিন, আফিম ও মরফিনসহ  বিভিন্ন ধরনের নেশার সামগ্রি আসছে।
সংশ্লিস্ট সূত্রমতে, এসব মাদকদ্রব্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও বাঘা সীমান্ত পথে রাজশাহীতে প্রবেশ করে বাংলাদেশের বিভিন্ন শহর, বন্দর ও গ্রামাঞ্চলের তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। এগুলো ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে উৎপাদিত হওয়ায় ভারত হয়ে রাজশাহীর সীমান্ত দিয়ে অবাধে প্রবেশ করে। বাজারে এসব নেশার সামগ্রী সহজলভ্য হওয়ার ফলে রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকের ছড়াছড়ি। গড়ে উঠেছে গাঁজা, মদ, ফেনসিডিল ও তাড়ির ভাটি। এর ফলে নগরী এখন মাদকাসক্তের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। আর নেশার পয়সা জোগাতে ছিনতাই ও চুরির ঘটনাও বেড়ে গেছে। যার ফলে দেখা দিয়েছে সামাজিক অসি’রতা। মাদকাসক্তির কারণে মানুষ তার সাধারণ মনুষ্যত্ব বোধ, লজ্জা, ভয়, সামাজিকতা সব কিছুই হারিয়ে ফেলছে। এমনকি চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানিসহ বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কাজ থেকে বিরত রাখার জন্য আইনশৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও অশান্তিতে রয়েছে। এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, বাংলাদেশে ১৮ বছরের ওপর ০.৬৩ শতাংশ মানুষ মাদকাসক্ত। মাদকাসক্তের মধ্যে ৮৫ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। এদের মধ্যে প্রায় ৯১ শতাংশ কিশোর ও যুবক। মাদকাসক্ত নারীর সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। প্রতি বছর মাদকের পেছনে অপচয় হয় প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত যেমন- চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ইত্যাদি। এই তথ্য বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয় যে, বাংলাদেশের যুবসমাজের একটি বিরাট অংশ আজ মাদকের করালগ্রাসে নিমজ্জিত। নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণেই দেশে যুবসমাজের মধ্যে মাদকাসক্তির পরিমাণ সামপ্রতিক সময়ে আশংকাজনকভাবে বেড়ে গেছে। এ ধরনের পরিসি’তি কোন সুস’ সমাজে চলতে পারেনা। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য সরকারের প্রচেষ্টাও যেমন আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন, তেমনি নিবিড় পর্যবেক্ষণের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম শক্তিশালী করা জরুরি। পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগ অত্যাবশ্যক।

Leave a Reply