আগুনে মৃত্যু এড়াতে শীতার্তদের সতর্কতাই যথেষ্ট

21/01/2018 1:04 am0 commentsViews: 15

এবারের দীর্ঘ শৈতপ্রবাহে কমবেশি কাবু সবাই। বিশেষ করে গ্রামের গরিবদের দুর্দশার শেষ নেই। শারীরিক দুর্বলতার সাথে তাদের শীতবস্ত্রের অভাবও প্রকট। এ অবস’ায় শীত নিবারণে আগুনের তাপে শরীর গরম করাই তাদের কাছে স্বাভাবিক ঘটনা। কিন’ এতে যে আগুনে পুড়ে যাবার বিপদ আছে সেটা অস্বীকার করা যায় না। এর মধ্যেই রাজশাহী অঞ্চলে আগুন পোহাতে গিয়ে পুড়ে গিয়ে শিশুসহ ১০ জনের মারা যাবার খবর এসেছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করছে ৭৬ জন। এদের মধ্যে নারীর সংখ্যাই বেশি।
আগুন পোহানোর সময় কাপড়ে আগুন লেগে হতাহত হওয়া অবশ্য নতুন নয়। অসতর্কতার কারণে শাড়ী-চাদরে আগুন লাগার ঘটনাই বেশি। সামান্য সতর্কতাই যে এমন বিপদ থেকে রৰা করতে পারে সেটা ভুলে যাওয়া এড়াতে পারলেই পরিসি’তি ভিন্ন হতে পারতো। আগুন পোহানোর সময় শাড়ি-কাপড় সামলিয়ে রাখা, আগুন লেগে গেলে ছুটাছুটি না করে মাটিতে শুয়ে পড়ে গড়াগড়ি খাওয়া ও দ্রম্নত পানি ঢেলে আগুন নিভিয়ে ফেলা কঠিন কিছু নয়। আগুনে পোড়া রোগিকে বাড়িতে চিকিৎসার নামে সময় নষ্ট না করে দ্রম্নত হাসপাতালে নিলে দুর্ভোগ কমবে বৈকি। এছাড়া গরম পানিতে শিশুদের পুড়ে যাওয়া এড়াতে চুলার ধারেই পাতিল থেকে বালতিতে পানি ঢেলে গোসলখানায় আনার অভ্যাস করাও জরম্নরি। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশু ও নারীদের অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনা থেকেই সংশিস্নষ্ট চিকিৎসকরা এমনসব অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
এসব নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন তারা। বিষয়টি আমলে নেয়ার মত। স’ানীয় প্রশাসন, তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি ও সমিতি-সংগঠন-এনজিও কর্মীরা উঠান বৈঠক, মাইক-লিফ্লেট-পোস্টারে প্রচারণা চালিয়ে আগুনের হাত থেকে রৰা পেতে সতর্ক থাকা নিশ্চিত করতে পারেন। এমন উদ্যোগ নেয়ার সময় এখনও শেষ হয়ে যায়নি। প্রতি শীতে এমন কর্মসূচি নেয়া হলে তার সুফল পাওয়া যাবে, বলা যায় নিশ্চিতভাবেই। তাহলে, শীতের হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে হতাহত হবার সংখ্যা যে দৃশ্যমানভাবে কমে আসবে এতে সন্দেহ নেই। এৰেত্রে সচেতনতা ও সতর্কতাই যথেষ্ট।
এজন্য শীতার্ত-অসহায় মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সতর্ক থাকার বিকল্প নেই। এছাড়া অগ্নিদগ্ধ হওয়ার সংখ্যা কমানোর আর কোনো সহজ পথ আছে বলে মনে হয় না। তৃণমূলে কাজ করেন এমন ব্যক্তি, সংস’া, সংগঠনের কাছে বিষয়টি যথাযথ গুরম্নত্ব পাবে, এটাই সবার কাম্য।

Leave a Reply