শিল্প বিকাশের চাহিদা পূরণ জরম্নরি

18/01/2018 1:04 am0 commentsViews: 15

শুধু চাহিদা থাকলেই আশা পূরণ হয় না। চাহিদা পূরণের পূর্বশর্তও পূরণ হওয়া দরকার। নইলে পরিসি’তির পরিবর্তন হয় না। রাজশাহী অঞ্চলের শিল্পায়ন নিয়ে ঠিক এমন অবস’ারই সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শিল্পে পিছিয়ে থাকা এ অঞ্চলে কাঙিৰত পরিবর্তনের দেখা মিলছে না।
শিল্পায়ন শুরম্ন হয় ৰুদ্র ও মাঝারি শিল্প বিকাশের পথ ধরে। সেই পাকিসৱান আমল থেকে এ অঞ্চলে বেশ কিছু ৰুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও এর স্বাভাবিক বিকাশ যেন আটকে আছে। স্বাধীনতার এত বছর পরও শিল্পে এ অঞ্চলের পিছিয়ে থাকা পরিচয় আগের মতই অটুট রয়ে গেছে।
এসএমই মেলা-২০১৮ উপলৰে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বিজ্ঞ আলোচকদের মুখেও এমন কথাই শোনা গেছে। শিল্পের স্বাভাবিক বিকাশে বাজার ছাড়াও বিনিয়োগ সুবিধা, সসৱা শ্রম, জ্বালানির নিশ্চয়তা ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস’ার বিকল্প নেই। এ অঞ্চলে শ্রমশক্তির অভাব না থাকলেও অন্য সব কিছুর অপ্রতুলতা কিছুতেই কাটিয়ে উঠছে না বলেই শিল্প বিকাশ থমকে আছে। শিল্প প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ বন্ধ, নেই পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ পাওয়াও সহজ নয়, এর ওপর নেই সুষ্ঠু যোগাযোগ ব্যবস’া-এমন অবস’ায় শিল্প প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসা কঠিন বৈকি।
বঙ্গবন্ধু সেতু রাজশাহীর সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করলেও পণ্য পরিবহনে তেমন সুবিধা হয়নি রেল যোগাযোগের অভাবে। নৌ ও রেল পথের চাইতে সড়ক পথে পণ্য পরিবহনে খরচ বেশি, সমস্যাও বেশি। সুযোগ থাকলেও এ দুই সাশ্রয়ী পথ গুরম্নত্ব পায়নি। একই কথা বলা যায় আকাশ পথের ৰেত্রেও। রাজশাহীতে বিমানবন্দর থাকলেও কার্গো সুবিধা নেই। এসব সমস্যায় আটকে আছে রাজশাহীর শিল্প বিকাশ। ৰুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ৰেত্রেও একই কথা বলা যায়। দীর্ঘদিনের বিভাগীয় শহর হলেও এখানে নেই এসএমই ফাউন্ডেশনের কার্যালয়। ফলে সরাসরি সুযোগ- সুবিধা না পেয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে ৰুদ্র-মাঝারি শিল্পোদ্যোগ। মধ্যস্বত্বভোগীদের পোয়াবারো অবস’া গোপন কিছু নয়।
ফলে নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠাই শুধু আটকে নেই, পুরানো শিল্প টিকে থাকতেও হিমশিম খাচ্ছে। রেশমের ঐতিহ্য থাকলেও রাজশাহী রেশম কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া থেকেই বোঝা যায় বৈরিতার ঘটনা। কৃষিভিত্তিক শিল্প ঘোষণার পরও তার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে রেশমনগরী রাজশাহীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের রেশম শিল্পকে। এর ফলে হতাশাই গভীর হয়েছে। অবশেষে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় রেশম কারখানা চালুর ব্যবস’া হলেও অন্যান্য বিষয়গুলো যথাযথ গুরম্নত্ব না পাওয়ায় এ অঞ্চলে শিল্প বিকাশে হতাশা কাটার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
উলেস্নখিত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের মুখ থেকেও শিল্প বিকাশের ৰেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাসমূহ দূর করতে সংশিস্নষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণের সেই পুরানো কথাই শোনা গেছে। আমরাও আশা করি এৰেত্রে বর্তমান সরকারের ইতিবাচক ভূমিকায় অবস’ার পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়ে উঠবে। রাজশাহী অঞ্চলের শিল্প বিকাশের চাহিদা দ্রম্নতই পূরণ হবে।

Leave a Reply