দীর্ঘস্থায়ী শৈত্যপ্রবাহে দুর্ভোগ বাড়ছে

16/01/2018 2:04 am0 commentsViews: 13

টানা ১২ দিনের শৈত্যপ্রবাহ একটু অস্বাভাবিকই। কারণ শীতে প্রতিবছর শৈত্যপ্রবাহের দেখা মেলে এবং তা সাধারণতঃ ৩ থেকে ৫ দিন স্থায়ী হয়। কিন্তু এবার শৈত্যপ্রবাহ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় জনজীবনে দুর্ভোগ বেড়েছে। বেড়েছে ৰয়ৰতিও। ঠিক যেন, মাঘের শীতে বাঘ পালানোর দশা!
টানা শৈত্যপ্রবাহ ও ঘনকুয়াশার কারণে দিন এনে দিন খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষজনই সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। কাজ না পেয়ে অনাহারে-অর্ধহারে দিন কাটছে অনেকেরই। কাজে যেতেও পারছে না কেউ কেউ। গরম কাপড়ের অভাবে কষ্টও ভোগ করতে হচ্ছে। শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের খবর পাওয়া গেলেও তা যে প্রয়োজনের তুলনায় সামান্যই তা বলাই বাহুল্য। ফলে শীত নিবারণে আগুন তাপাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হওয়ার সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ভর্তি হয়েছে ৬৬ জন, যাদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি। ৮ জনের মারা যাবার খবর পাওয়া গেছে। শীতের হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে আগুন জ্বালিয়ে এভাবে হতাহত হওয়া এড়াতে সতর্কতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।
ঘন কুয়াশা ও শৈতপ্রবাহে কৃষিতেও হুমকি দেখা দিয়েছে। এ সময় আলু ও টমেটোর খেতে লেটবৱাইট, পান ও মসুরে পচন রোগ, বোরোর বীজতলায় কোল্ড ইনজুরির প্রকোপ বেড়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। বিভিন্ন বালাইনাশক ব্যবহার করে ফসল রৰার চেষ্টা অকার্যকর হয়ে উঠতে পারে প্রতিকূল আবহাওয়া আরও দীর্ঘস্থায়ী হলে। ফলে বিষয়টি নিয়ে আশঙ্কায় দিন কাটছে কৃষকের।
আসলে শীতের দুর্ভোগ সহনীয় করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে। জনজীবনের দুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজন সাবধানতা ও সহযোগিতা। ছিন্নমূল শীতার্ত মানুষের প্রতি সামর্থবানদের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়ার ঘটনা যত বাড়বে পরিস্থিতি ততই সহনীয় হয়ে উঠবে। এ ৰেত্রে সরকার এবং বেসরকারী ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসমূহের আরও বেশি ভূমিকা জর্বরি। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের শীত সহ্য করার ৰমতা কম থাকায় তাদের প্রতি একটু বেশি নজর দেয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। হাসপাতালগুলিতে শীতজনিত কারণে অসুস্থদের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা সেবা বৃদ্ধির বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া না হলে দুর্ভোগে নতুন মাত্রা যুক্ত হওয়া এড়ানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে কৃষি ৰেত্রে সৃষ্ট পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ ৰেত্রে একটু বেশি তৎপরতা আশা করা দোষণীয় হবে না বলেই মনে হয়।
এ ভাবে সহযোগিতা ও সহমর্মিতা বাড়িয়ে আমরা দীর্ঘস্থায়ী শৈত্যপ্রবাহের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও সহনীয় করে তুলতে পারি। কারণ, মানুষতো মানুষের জন্য! জীবন তো জীবনের জন্য!

Leave a Reply