সনৱানদের জন্য পাহাড় কেটে ৮ কিমি রাসৱা বানালেন বাবা

13/01/2018 1:04 am0 commentsViews: 12

এফএনএস ডেস্ক: ভারতের উড়িষ্যার একটি পাহাড়ি এলাকায় সনৱানদের স্কুলে যাওয়া সহজ করতে শুধু কোদাল ও শাবল দিয়ে আট কিলোমিটার রাসৱা তৈরি করেছেন এক বাবা। এজন্য তার সময় লেগেছে প্রায় দুই বছর। অবশিষ্ট ৭ কিলোমিটার রাসৱা নির্মাণে আরও তিন বছর কাজ করার পরিকল্পনা ছিল তার। তবে বিষয়টি আলোচনায় আসার পর এখন বাকি রাসৱা নির্মাণের দায়িত্ব নিয়েছে স’ানীয় সরকার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে। জালান্ধার নায়েক নামের ওই বাবার তিন ছেলে রয়েছে। পাহাড়ি ও পাথুরে রাসৱা ধরে স্কুলে যেতে তিন ছেলের সময় লাগত প্রায় তিন ঘণ্টা। ফলে দুই বছর আগে সবজি বিক্রেতা একটি কোদাল ও শাবল দিয়ে সনৱানদের যাতায়াতের জন্য একটি সহজ রাসৱার খোঁড়ার কাজ শুরম্ন করেন। এই সপ্তাহে ঘটনাটি স’ানীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে সরকারের নজরে আসে।
জালান্ধার বলেন, স্কুলে যাওয়া-আসার অপ্রশসৱ ও পাথুরে রাসৱা দিয়ে চলাচল করা আমার সনৱানদের জন্য কষ্টকর ছিল। আমি প্রায়ই দেখতাম তারা পাথরে হোঁচট খেয়ে পড়ছে। ফলে আমি সিদ্ধানৱ নেই পাহাড়ের পাশ দিয়ে একটা রাসৱা তৈরি করার যাতে করে তারা সহজে হাঁটতে পারে।
স’ানীয় কর্মকর্তা ব্রম্নন্ধা ডি বলেন, পাহাড় কেটে রাসৱা বানানোর জন্য নায়েকের উদ্যোগ ও দৃঢ়তা আমাকে বাকরম্নদ্ধ করেছে। তিনি জানান, রাসৱা তৈরি যে সময় ও শ্রম দিয়েছেন নায়েক সেটার মূল্য সরকার পরিশোধ করবে। নায়েক বাস করেন গুমসাহি গ্রামে এবং তার সনৱানদের স্কুল ফুলবানিতে। রাসৱাটি স্কুলের সঙ্গে গ্রামের সংযোগ তৈরি করেছে। তাদের পরিবারই শুধু গুমসাহি গ্রামে রয়ে গেছে। বাকিরা এই এলাকা ছেড়ে চলে গেছে।
এই বাবা জানান, তার পরিকল্পনা ছিল আরও তিন বছর ধরে কাজ করে অবশিষ্ট ৭ কিলোমিটার রাসৱা তৈরি করবেন। এই কাজটি সম্পূর্ণ করার দায়িত্ব এখন নিয়েছে সরকার। তিনি বলেন, জেলার কালেক্টর আমাকে আশ্বসৱ করেছেন গ্রামের রাসৱাটির কাজ সম্পূর্ণ করা হবে। বিহারের দশরথ মানঝির ঘটনার সঙ্গে নায়েকের প্রচেষ্টাকে তুলনা করা হচ্ছে। বিহারের এক মজুর প্রায় ২২ বছর ধরে পাহাড় কেটে একটি রাসৱা তৈরি করেছিলেন। এর ফলে দুটি জেলার মধ্যে দূরত্ব ৪২ কিলোমিটার কমে গিয়েছিল। মানঝির ঘটনায় বেশ কিছু চলচ্চিত্রও নির্মাণ করা হয়েছে। পাহাড়ি পথ ধরে পার হতে গিয়ে স্ত্রীর মৃত্যুর পর মানঝি রাসৱা নির্মাণ শুরম্ন করেন। ২০০৭ সালে তার মৃত্যু হয়। তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছিল।

Leave a Reply