৩০ মিনিট আগে এসএসসি পরীৰার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের নির্দেশ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন

13/01/2018 2:06 am0 commentsViews: 49

এম আই বাবু : এসএসসিতে পরীৰার্থীদের পরীৰা শুর্বর ত্রিশ মিনিট পূর্বে কৰে প্রবেশের নির্দেশকে উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া বলেই মনে করছে মানুষ। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে মন্ত্রণালয়ের পৰ থেকে এমন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কি-না তা নিয়ে জনমনে নানান প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
মানুষ বলছে অপরাধীদের বির্বদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়ে কোমলমতি শিৰার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। যা উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত রাঘব বোয়ালদের বির্বদ্ধে পদৰেপ নিতে ব্যর্থ হয়ে শিৰার্থীদের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে দায়। মানুষের প্রশ্ন , শিৰার্থীরা আগে ভাগে পরীৰা কৰে প্রবেশ করলেই কি বন্ধ হয়ে যাবে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা। এতদিন যারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সাথে জড়িয়ে আছে তাদের বির্বদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা জানে না মানুষ। মানুষ মনে করে ঘটনার সাথে জড়িতদের বির্বদ্ধে যদি কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হতো তাহলে পরবর্তীতে কেউ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটাতে সাহস পেত না। এই সিদ্ধান্তটি শিৰার্থীদের ওপর একটা বাড়তি মানসিক চাপ বলেই মনে করছেন অভিভাবকরা। তারা বলছেন বিভিন্ন কারণে শিৰার্থীদের কেন্দ্রে যেতে দেরি হতেই পারে তাই বলে তাদের পরীৰা দেয়া হবে না এই সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। অভিভাবকরা বলছে এটা নিজেদের ব্যর্থতার দায় অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা।
প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনাকে ঘিরে মন্ত্রণালয়ের পৰ থেকে বলা হয়েছে পরীৰার সকালে ফেসবুকসহ ইন্টারনেটের বিভিন্ন মাধ্যমে প্রশ্ন-উত্তর ছড়িয়ে পড়ার প্রেৰাপটে আসন্ন এসএসসি পরীৰায় কেন্দ্রে প্রবেশের সময়সীমা কঠোর করেছে শিৰা মন্ত্রণালয়। পরীৰা শুর্বর ৩০ মিনিট আগে কেউ কেন্দ্রে প্রবেশ না করলে তাকে আর পরীৰাকৰে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে মন্ত্রণালয়ের পৰ থেকে জানানো হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এফএনএস’র সংবাদে বলা হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিৰা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইনের সভাপতিত্বে গত ৩ জানুয়ারি বুধবার সচিবালয়ে এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয় বলে শিৰা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এতে বলা হয়, আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীৰায় পরীৰার্থীদের পরীৰা শুর্বর আধা ঘণ্টা আগে অবশ্যই পরীৰার হলে প্রবেশ করতে হবে। অন্যথায় পরীৰায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। নকলমুক্ত পরিবেশে পরীৰা অনুষ্ঠানের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। আগামী ১ থেকে ২৪ ফেব্র্বয়ারি পর্যন্ত এসএসসি ও সমমানের তত্ত্বীয় বিষয়ের পরীৰা হবে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে পাবলিক পরীৰা শুর্বর ৩০ মিনিট আগে পরীৰার্থীদের পরীৰা কেন্দ্রে ঢোকা বাধ্যতামূলক করার কথা গত বছরের ২৪ অক্টোবর জানায় সরকার।
গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত জেএসসি-জেডিসি পরীৰা থেকে নতুন এই নিয়ম কার্যকর করা হলেও ওই পরীৰায় যারা পরীৰা শুর্বর ৩০ মিনিট পরেও কেন্দ্রে গিয়েছিল তাদেরও ঢুকতে দেওয়া হয়েছে। পরীৰার সকালে ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্রের সামনে গিয়ে দেখা যায় জটলা ধরে মোবাইলে প্রশ্ন ও তার উত্তরে চোখ বোলাচ্ছেন শিৰার্থীরা। ওই প্রশ্নই পরীৰার প্রশ্নের সঙ্গে হুবুহু মিলে যেতে দেখা যায়। বিনা পয়সায় বিভিন্ন ফেইসবুক পেইজ ও গ্র্বপে প্রশ্নোত্তর ছড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রশ্ন ফাঁস ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে শিৰামন্ত্রী নুর্বল ইসলাম নাহিদ বলেন, প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে পরীৰার সকালে কেন্দ্র থেকে, আর তা করছেন শিৰকরা। মানুষের প্রশ্ন মন্ত্রী যদি জেনেই থাকেন প্রশ্ন ফাঁস করছে শিৰকরা তাহলে তাদের বির্বদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
এই প্রেৰাপটে আসন্ন এসএসসি পরীৰায় পরীৰা শুর্বর ৩০ মিনিট আগে শিৰার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ বাধ্যতামূলক করা হল। প্রশ্ন ফাঁস রোধে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা হিসেবে সভায় প্রশ্নব্যাংক প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরীৰাকেন্দ্রে প্রশ্নপত্র বহনের ৰেত্রে নিরাপত্তা টেপযুক্ত বিশেষ খামে পরিবহনের ব্যাপারে আলোচনা হয়। বহু সেট প্রশ্ন প্রস্তুত রাখা, নির্ধারিত সময়ের আগে প্রশ্নপত্র না খোলা, পিন কোড ব্যবহার, অনলাইনে বা ইউএসবি ডিভাইসের মাধ্যমে পরীৰাকেন্দ্রে প্রশ্ন পাঠানো এবং পরীৰা শুর্বর আগে থেকে কিছু সময়ের জন্য কেন্দ্র এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধ রাখার ব্যাপারেও সভায় আলোচনা হয়। অভিভাবকরা বলছেন, যদি বিদ্যুৎ না থাকে যদি ইন্টরনেট বন্ধ থাকে তাহলে কি ভাবে কেন্দ্রে প্রশ্ন পৌঁছাবে? এছাড়াও দেশে নেটের যে অবস্থা তাতে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা কোথায়? ওই মন্ত্রণালয়ের সভায় আরো জানানো হয়, পরীৰাকেন্দ্রে কেউ স্মার্ট ফোন ব্যবহার করতে পারবে না। শুধু কেন্দ্র সচিব একটি সাধারণ ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। সচিব সোহরাব বলেন, আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীৰা সম্পূর্ণ নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। নকলমুক্ত পরিবেশে পরীৰা অনুষ্ঠানে সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে সচিব সংশিৱষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিৰা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মুফাদ আহমদ, মোলৱা জালাল উদ্দিন, জাবেদ আহমেদ ও মোহাম্মদ জয়নুল বারী, জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী নাজির হোসেন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিৰা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এস এম ওয়াহিদুজ্জামান, ঢাকা শিৰা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান, কারিগরি শিৰা বোর্ডের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ পরীৰা উন্নয়ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ রবিউল কবির চৌধুরী প্রমুখ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
অভিভাবকরা বলছেন, নকলমুক্ত পরিবেশে পরীৰা নেয়ার কথা বলা হচ্ছে কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িতদের বির্বদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে তা স্পষ্ট নয়। মানুষ প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার সাথে জড়িতদের বির্বদ্ধে অতীতে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বা আগামীতে কি হবে তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা জানতে সময়মত যদি প্রশ্ন ফাঁসকারিদের বির্বদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়া হতো তাহলে বার বার এধরনের ঘটনা ঘটাতে সাহস পেতো না অপরাধীরা। মূল হোতারা বরাবর ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকাই সব ধরনের পরীৰাতেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটছে। এতে করে প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছে আর সুবিধা নিচ্ছে ধনীর সন্তানরা অর্থ কামাচ্ছে দূর্নীতিবাজরা। মানুষ আগামিতে দেখতে বা শুনতে চায় না প্রশপত্র্ন ফাঁসের ঘটনা।

Leave a Reply