এক বছরে ১১০ অস্ত্র উদ্ধার, আটক অর্ধশত/ শিবগঞ্জ সীমানেৱ বন্ধ হচ্ছে না অস্ত্রের চোরাচালন

13/01/2018 1:04 am0 commentsViews: 12

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি: শিবগঞ্জ সীমানৱ এলাকা চোরাচালা-নের নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে। কোনভাবেই বন্ধ হচ্ছে না অস্ত্রের চোরাচালান। এদের প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যতটা তৎপর তার চেয়েও বেশি বেপরোয়া অস্ত্র চোরাচালানিরা।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য মতে, পুলিশ-বিজিবি ও র‌্যাবের হাতে শুধু আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক হয়েছে প্রায় অর্ধ শত চোরাকারবারি। এসব ঘটনায় উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ১ শ ১০টি অস্ত্র। আর এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে শিবগঞ্জ উপজেলার সীমানৱসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চাঁপাইনবাব-গঞ্জ জেলার অধিকাংশই পার্শ্ববর্তী ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত। ওইসব এলা-কায় কিছুসংখ্যক জায়গায় কাঁটাতা-রের বেড়া দেয়া থাকলেও সিংহভাগ জায়গায় নেই বেড়া। এ কারণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-বিএসএফ’র টহল দলের চোখ ফাঁকি দিয়ে খুব সহজেই দুই দেশের চোরাকারবারিরা একত্রিত হয়ে অস্ত্র ব্যবসা চালিয়ে আসছে।
শিবগঞ্জ উপজেলার শিঙ্‌নগর, তেল-কুপি, আজতপুর, সাহাপাড়া, নামো-চাকপাড়া ও সোনামসজিদ এলাকার বেশ কয়েকজন চোরাকারবারির সঙ্গে আলাপ করে এমনই তথ্য পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, প্রায় প্রতিদিনই রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চোরা-কারবারিদের আনাগোনা বেড়ে যায় সীমানৱ এলাকায়। মোবাইলফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে চাহিদা মত যে কোন অস্ত্রের অর্ডার দেয়া হয়। আর সেই অস্ত্রের টাকা সামীনৱ এলাকায় থাকা এক শ্রেণির হু-ব্িযবসায়ীর মাধ্যমে চলে যায় সংশিস্ন্লষ্ট ব্যবসায়ীর কাছে। ভারতীয় চোরাকারবারিরা রাতের আঁধারে সেই পণ্য পৌঁছে দেয় সীমানৱ এলাকায়। সেখান থেকেই বাংলাদেশের চোরাকারবারিরা নিয়ে এসে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স’ানে সরবরাহ করে থাকে। এসব চোরাচালানের সঙ্গে সরাসরি সহযোগিতা করে ভারতীয় কিছু-সংখ্যক বিএসএফ সদস্য। সেই অস্ত্রগুলো বহন করে বাংলাদেশে নিয়ে আসে ভাড়া করা শ্রমিক। তারা টাকার বিনিময়ে দেশের বিভিন্ন স’ানে পৌঁছে দেয়। আর এই শ্রমিকদেরই কিছু অংশ মাঝে মধ্যে ধরাও পড়ে। কিনৱু অবৈধ টাকার বিনিময়ে খুব সহজেই ছাড়া পেয়ে আবারও জড়িয়ে পড়ে এমন কর্মকা-ে। আর তাদের ছাড়ানোর মূল ভূমিকা পালন করে অস্ত্র আমদানিকারক গডফাদাররা। কিনৱু সেই মূল হোতারা সব সময় থেকে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এ কারণে ঠেকানো যাচ্ছে না অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসা। মূল অস্ত্র ব্যবসায়ী-দের চিহ্নিত করে ধরা গেলে এই অস্ত্র ব্যবসার লাগাম অনেকটা ধরা যেত।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৯ বিজিবি ব্যাটালিয়-নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আবুল এহসান জানিয়েছেন, গত ২০১৭ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমানেৱ প্রায় ৩৬টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আর এসব ঘটনায় অনেক চোরাকার-বারিকে আটক করা হয়েছে। চোরা-চালান ঠেকাতে বিজিবি’র প্রতিটি সদস্য কঠোর অবস’ানে থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এদিকে র‌্যাব-৫ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্প কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার সাঈদ আব্দুলস্নাহ আল-মুরাদ জানান, গত বছরে শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমানৱ এলাকাসহ বিভিন্ন স’ানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪৬টি অস্ত্রসহ ২৭ জনকে আটক করা হয়। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপর-দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম জানিয়ে-ছেন, জেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের অভিযানে ২৮টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তিনি দাবি করেন, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ীরা জাতির শত্রম্ন তাদের নিমূল করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

Leave a Reply