প্রচ- শীতে কর্মহীন হয়ে পড়ছে কর্মজীবী মানুষ

13/01/2018 2:09 am0 commentsViews: 26

তৈয়বুর রহমান: প্রচ- শীতে কর্মহীন হয়ে পড়েছে রাজশাহীর শ্রমজীবী মানুষ। রাজশাহীতে কয়েক দিন ধরে পড়ছে তীব্র শীত। এর সাথে রয়েছে ঘন কুয়াশা। এতে সর্বত্রই জবুথবু অবস্থা। সকালে বাড়ির বাইরে বের হলেই চারিদিক কুয়াশায় ঢাকা। ঘরের বের হলেই দূরের কিছু দেখা যায় না। শীতের প্রচ-তায় স্বাভাবিকভাবে বাস-ট্রাক চালাতে পারছে না চালক। শীতের তীব্রতায় শ্রমজীবী মানুষের ঘরের বের হওয়া দায়। বের হলেই শীতের কোপানলে পড়তে হয়েছে তাদের।
শীতে থর থর করে কাঁপছে শরীর। শ্রমজীবী মানুষ কাজে যেতে পারছে না। এর ফলে নগরীতে দেখা দিয়েছে শ্রমিক সঙ্কট। যাদের দিন আনতে পান্তা ফুরায় একমাত্র তারাই। সকাল হলেই গ্রাম থেকে শহরে ছুটে আসে কাজের খোঁজে। তারা দীর্ঘ দিন ধরে এভাবেই শহরে কাজ করেন। এখন একেতো শীত তার উপর ঘন কুয়াশা। এ দু’য়ের কারণে তারা শহরে কাজে আসতে পারছে না। এর ফলে শ্রমিকের অভাবে নগরীর কাজে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
নগরীতে যে সব শ্রমিক কাজে আসে তার অধিকাংশই হচ্ছেন নির্মাণ শ্রমিক.মাটি কাটা ও বাড়ি-ঘর নির্মাণ শ্রমিক। কিন্তু শীতের তীব্রতায় তারা ঘর থেকে বের্বতে পারছে না।
শীতের কারণে নগরীতে সব থেকে বেশি সমস্যায় পড়েছেন রিকশাচালক, অটোচালক, ভ্যান চালকরা। তাদের জীবন ধারণের একমাত্র ভরসা হচ্ছে রিকশা, অটো ও ভ্যান চালানো। তারা কনকনে শীতে রিকশা, অটো রিকশা ও ভ্যান চালাতে পারছে না।
এ সম্পর্কে ৭০ বছর বয়সের অটো চালক আকবর আলী বলেন, আমার একমাত্র আয়ের অবলম্বন হচ্ছে অটো চালানো। কিন্তু যে শীত পড়ছে তাতে আমার জন্য অটো চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। রিকশাচালক শরীফুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন বলেন, যে শীত পড়ছে তাতে রিকশার হ্যা-েল ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এ ভয়ে রিকশা চালাতে পারছেন না বলে তারা জানান।
শীতের কারণে সমস্যায় পড়েছেন ইটভাঙা শ্রমিকসহ বিভিন্ন হকার ও ৰুদে ব্যবসায়ীরাও। শীতে শুধু দুপুর ছাড়া অন্য সময়ে ব্যবসা করতে পারছেন না। এ সম্পর্কে ইটভাঙা শ্রমিক কালু মিস্ত্রি বলেন, ইটভাঙা কঠিন কাজ। এই শীতের সময়তো আরো কঠিন। এতে অহরহ হাতে-পায়ে ইটের আঘাত লাগার সম্ভাবনা খুবই বেশি। এই ভয়ে তারা কাজ বন্ধ করে দিয়ে অর্ধাহারে বাড়িতে বসে আছেন। কাজ করতে না পারায় তাদের আয়ের পথ প্রায় বন্ধ হবার উপক্রম হয়ে পড়েছে।
নগরীর ব্যবসায়ীর সাথে সাথে শীতের কবলে পড়ে বিপদের মধ্যে আছে কৃষকরাও। কৃষকরা জমিতে চাষ-বাস করতে পারছেন না। তারা চাষাবাদ বন্ধ করে দিয়ে ঘরে বসে আগুন জ্বেলে শীত নিবারণ করছেন।
শীতে কাজকর্ম প্রায় বন্ধ হবার উপক্রম হওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে অর্থনৈতিক সংকটে আছেন বিপুল সংখ্যক কর্মজীবী মানুষ।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানায়, গতকালও রাজশাহীতে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত ছিল। গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আদ্রতা ছিল সকাল ৬টায় ১০০ পারসেন্ট এবং সন্ধ্যা ৬টায় ৮৪ পারসেন্ট। গতকালও ঘন কুয়াশা ছিল। এ অবস্থা আরো দুই একদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

Leave a Reply