ক্রেতা নয় পেঁয়াজের দামে খুশি কৃষক

13/01/2018 1:04 am0 commentsViews: 25

চালের পর পরই পেঁয়াজের আকাশ ছোঁয়া মূল্য সহ্য করা ক্রেতা-ভোক্তাদের জন্য কষ্টকর হলেও করার কিছু ছিল না। পরবর্তীতে কিছুটা কমলেও এখনও এই দুই নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক হয়েছে বলা যাবে না। কিন’ এদেশে একবার দাম বাড়লে তা যে স্বাভাবিক হয় না এমনটাই যেন স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। ফলে বাজারে নতুন পেঁয়াজ উঠলেও দাম এখনও বেশ চড়াই। কেজি প্রতি ৬০-৭০ টাকা পেঁয়াজের দাম কেউই স্বাভাবিক বলবে না। তবে ক্রেতারা না হলেও এ দামে খুশি কৃষক। গতকালের সোনালী সংবাদে প্রকাশিত খবরে এমনটাই বলা হয়েছে।
রাজশাহীর গ্রামাঞ্চলে গত বছরের বন্যায় মারাত্মক ৰতির পর পানি নেমে যাবার সাথে সাথেই আগাম পেঁয়াজ চাষ করার সুফল ঘরে তুলতে পেরে খুশি কৃষক। ফলন কম হবার আশঙ্কা থাকলেও এখন দাম বেশি পাবার আশা পূরণ হচ্ছে। আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়াতেই কৃষক আগের ৰতি পুষিয়ে নেবার এটুকু সুযোগ পেয়েছে বলা যায়। এতে করে কৃষক লাভবান হলেও সাধারণ ক্রেতা-ভোক্তাদের পকেটে টান পড়েছে ভালোই।
তবে সাধারণভাবে এমন অবস’ার দেখা পাওয়া কঠিনই কৃষকের জন্য। উৎপাদন বেশি হলে বা ফলন ওঠার মৌসুমে বাজারে কৃষিপণ্যের দাম পড়ে যাওয়াই এ দেশে স্বাভাবিক ঘটনা। এতে করে কৃষককে লোকসান গুণতে হয়। এবারও যদি প্রকৃতিক দুর্যোগ বা আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বাড়তি না হতো তবে লাভের মুখ দেখা কৃষকের জন্য অনিশ্চিতই ছিল, অস্বীকার করা যাবে না।
বাজারের এই অনিশ্চয়তা উৎপাদন ও ক্রেত-ভোক্তা কারও স্বার্থ রৰার নিশ্চয়তা দেয় না। ফলে উভয়ের ৰতিগ্রসৱ হওয়া স্বাভাবিক হলেও সেদিকে নজর দেয়ার কাউকে পাওয়া যায় না। বাজার ব্যবস’াপনার এই দূর্বলতা কেন গুরম্নত্ব পায় না সেটাই প্রশ্ন। সাধারণ নাগরিকের স্বার্থরৰার বিষয়টা গুরম্নত্ব পেলে বাজারের ওপর নির্ভরশীলতার পরিবর্তে উৎপাদক ও ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ রৰায় পরিকল্পিত বাজার ব্যবস’াপনার দেখা পাওয়া যেত, এটা বলাই বাহুল্য।
সরকারের উৎপাদন বৃদ্ধি ও উন্নয়নের সফলতার পাশে বাজার ব্যবস’াপনা স্বাভাবিক রাখার দূর্বলতা দুঃখজনক। বিশ্বের অনেক দেশেই সরকারি বা সমবায় ব্যবস’ার মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করেই উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ রৰা নিশ্চিত করা হয়। অতীতে মুক্ত বাজারের নামে বাজার নিয়ন্ত্রণের পথ ছেড়ে দেয়ার পরিণতিতেই যে পণ্য মূল্য অস্বাভাবিক হওয়া নিয়মিত হয়ে উঠেছে সেটা সাদা চোখেই দেখা যায়। এর ফলে মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা ঘাটে ঘাটে ফায়দা লোটার সুযোগে উৎপাদক বা ক্রেতাদের নাভিশ্বাস ওঠালেও বলার কিই বা থাকে। ভাগ্য বা কপালের ওপর নির্ভর করার এমন ব্যবস’ার পরিবর্তন জরম্নরি না বলে পারা যায় না।
এছাড়া কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন যেমন টেকসই হবে না, তেমনি ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ রৰাও নিশ্চিত হবে না। তাই এখন বাজারে পেঁয়াজের দামে ক্রেতা না হলেও কৃষকের খুশি হবার খবর স’ায়ী বলার সময় আসেনি।

Leave a Reply