মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত দুর্ভোগ কাটছেনা মানুষের

12/01/2018 2:08 am0 commentsViews: 29

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। ঘন কুয়াশার সাথে উত্তরের হিমেল হাওয়ায় দুর্ভোগ কাটছেনা নিম্নআয়ের মানুষের।
গতকালও রাজশাহীতে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত ছিল। সেই সাথে ছিল ঘন কুয়াশা। কুয়াশার কারণে সকাল ১১টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। মহাসড়ক গুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। তাপমাত্রা আগেরদিনের মত থাকলেও উত্তরের হিমেল হাওয়ার কারনে শীত কাটছে না। ফলে নিম্নআয়ের মানুষজনকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন মানুষ। বেশি কষ্ট পাচ্ছে অসুস’, বৃদ্ধ ও শিশুরা। এর মধ্যে ছিন্নমূল ও কর্মজীবী মানুষগুলো পড়েছেন বেকায়দায়। সকালে তারা কাজে যেতে পারছেন না। তীব্র শীত থেকে রৰা পেতে তারা খড়কুটো জ্বালিয়ে শরীর গরম করছেন। নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা কম দামে গরম কাপড় কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন বিভিন্ন ফুটপাতের দোকানগুলোতে। এই সুযোগে দাম বাড়িয়েছেন দোকানিরা। সরকারি- বেসরকারি পর্যায়ে শুর্ব হয়েছে শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জর্বরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, শীতের কারণে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি। আক্রান্তদের অনেকেই ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া নিয়ে হাসপাতালে আসছেন বলেও জানান তিনি। এ সময়ে সাবধানে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন আলু, টমেটো ও বোরো চাষিরা। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, এই প্রতিকূল আবহাওয়ায় আলু ও টমেটোতে লেটবৱাইট এবং বোরোর বীজতলায় কোল্ড ইনজুরি দেখা দিবার আশংকা রয়েছে। এই পরিসি’তিতে তারা বিভিন্ন বালাইনাশক ব্যবহার করছেন। কোন কোন এলাকায় বোরোর বীজতলায় কোল্ড ইনজুরি দেখা দিতে শুর্ব করেছে। কোল্ড ইনজুরি থেকে রৰা করতে চাষিরা বীজতলা রাতে পলিথিন বা পানি দিয়ে ঢেকে রাখছেন। সূর্য উঠলে তা সরিয়ে ফেলছেন। আলুতেও ব্যবহার করছেন বিভিন্ন বালাইনাশক। এই অবস’ায় কৃষিবিদরা চাষিদের স’ানিয় কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া নিতে পরামর্শ দিচ্ছেন। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় পুকুরে চাষকৃত মাছে সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানায় গতকাল বৃহস্পতিবার এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আদ্রতা ছিল সকাল ৬টায় ৯৬ পারসেন্ট এবং সন্ধ্যা ৬টায় ৮৬ পারসেন্ট। গত বুধবারও এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রা আরো ২/১ দিন অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান সংশিৱষ্টরা।

Leave a Reply