এফএনএস আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র কেনায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা থাকলেও ভারতের আশা তারা ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে বিশেষ ছাড় পাবে। ভারতের আশঙ্কা, তারা যদি চুক্তিটি স্বাৰর না করে তাহলে রাশিয়া সরাসরি পাকিস্তানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করবে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভৱাদিমির পুতিনের ভারত সফরেই অত্যাধুনিক র্বশ এস-৪০০ ৰেপণাস্ত্র প্রতিরৰা ব্যবস’া কেনার চুক্তি চূড়ান্ত করবে ভারত। ৫ ও ৬ অক্টোবর ভারত-রাশিয়া সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিলিৱ সফর করবেন পুতিন। তার এই সফরেই চুক্তি চূড়ান্ত করা হবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এ বছরের এপ্রিল মাসেই জানিয়েছিল, অক্টোবরে ভারত-রাশিয়া সম্মেলনে চুক্তিটি চূড়ান্ত হবে। মে মাসে সংবাদমাধ্যমটি আবার জানায়, রাশিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র কেনায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা থাকলেও দিলিৱ চুক্তিটি করতে চায়। ভারতীয় কর্মকর্তারা জানান, এই চুক্তিটি ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখা এবং সামরিক সরঞ্জাম আমদানির ৰেত্রে কোনও নির্দিষ্ট দেশের ওপর নির্ভরশীল না হওয়ার পদৰেপ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতীয় কর্মকর্তারা জানান, এই সপ্তাহে এস-৪০০ ৰেপণাস্ত্র প্রতিরৰা ব্যবস’ার পাঁচটি ইউনিট ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে নিরাপত্তা বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটি। তবে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে চারটি যুদ্ধবিমান তৈরির চুক্তিটি কারিগরি জটিলতায় আটকে গেছে। খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র কেনার কথা জানিয়েছে এবং অনুরোধ করেছে সে দেশের প্রেসিডেন্সিয়াল ছাড় পাওয়ার রজন্য। মোদি সরকারকে নতুন ও পুরনো মিত্রের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হলে ভারত সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে সংকটে পড়বে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৬০ শতাংশেরও বেশি সরঞ্জাম রাশিয়ায় নির্মিত। এগুলোর মধ্যে রয়েছে জঙ্গিবিমান, ট্যাংক থেকে শুর্ব করে ৰেপণাস্ত্র। এসব অস্ত্রের আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ছাড়া দেশটির সেনাবাহিনীর যুদ্ধ করার সৰমতা উলেৱখযোগ্য হারে কমে যাবে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর সুখই যুদ্ধবিমান, সেনাবাহিনীর টি সিরিজ ট্যাংক ও নৌবাহিনীর এয়ারক্রাফট কেরিয়ার বিক্রমাদিত্য সবক’টিই রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা। হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, ভারতের মরিয়া হয়ে চুক্তিটি চূড়ান্ত করার আরেকটি কারণ হচ্ছে, কর্মকর্তারা মনে করছেন দিলিৱ চুক্তিটি না করলে হতাশ রাশিয়া হয়তো সরাসরি পাকিস্তানের কাছে অস্ত্র বিক্রি শুর্ব করবে। চীনের কাছে যেভাবে রাশিয়া অস্ত্র বিক্রি করছে, এতে আঞ্চলিক সামরিক নিরাপত্তার ভারসাম্য বিনষ্ট হতে পারে। কূটনৈতিকভাবেও এস-৪০০ চুক্তিটি বাতিল বা পিছিয়ে দিলে মোদি ও পুতিনের মধ্যে যে সম্পর্ক গড়ে ওঠেছে সেটার অবনতি হতে পারে। কর্মকর্তারা বলছেন, পুতিনের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করতে মোদিকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। যদিও তা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বাদ দিয়ে হয়নি। ভারতীয় কর্মকর্তারা আরও মনে করেন, কারিগরি দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের তুলনায় হয়তো রাশিয়ার অস্ত্র শীর্ষে নেই। তবে এগুলোর দাম অনেক কম এবং এতে অন্য কোনও শর্ত নেই। মুদ্রার একদিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং অপর পিঠে র্বশ-চীন পৰের কারণে ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিরৰা কারখানায় দ্র্বত অস্ত্র নির্মাণ করার তাগিদ তৈরি হচ্ছে। উদাহরণ দিয়ে তারা বলছেন, হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক লিমিটেড ভারতীয় বিমানবাহিনীর হালকা যুদ্ধবিমানের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে পারছে না। এজন্য সরকার কোনও নির্দিষ্ট দেশের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেরাই যাতে উৎপাদনে যেতে পারে সেদিকটাতেই মনোযোগ দিচ্ছে। রাশিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র কিনলেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে সরছে না ভারত। পেন্টাগনের কাছ থেকে ৫০০ কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র কেনার চুক্তি করেছে দেশটি। এই চুক্তি অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ১টি ভারী পরিবহন হেলিকপ্টার সি-১৭ (ভারতের আছে দশটি), চারটি অতিরিক্ত পি৮১ সাবমেরিন বিধ্বংসী যুদ্ধবিমান, ছয়টি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার, ২৪টি সুখই হেলিকপ্টার এবং এম-৭৭ হাল্কা হোয়িটজার কিনবে ভারত। এ ছাড়া ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য মার্কিন এফ-১৮ ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কেনার কথাও রয়েছে চুক্তিতে।