রাজনীতিতে উন্নয়নের ইস্যুই গুরম্নত্বপূর্ণ

11/01/2018 1:04 am0 commentsViews: 14

সাধারণভাবে রাজনীতি হলো আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বাধা দূর করে এগিয়ে চলা নিশ্চিত করা। যে রাজনীতি বা রাজনৈতিক দল এৰেত্রে সৰম নয় মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে এটাই স্বাভাবিক। পাকিসৱান আমলে উন্নয়নের ৰেত্রে এ অঞ্চলকে বঞ্চিত করে বৈষম্য সৃষ্টির বিরম্নদ্ধেই রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বারবারই। সে রাজনীতিই দেশকে স্বাধীনতার পথ দেখিয়েছে। একই ভাবে স্বাধীন বাংলাদেশেও রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে উন্নয়নের মাপকাঠিতে। একইভাবে স’ানীয় রাজনীতিতে স’ানীয় উন্নয়নই প্রাধান্য পাবে সঙ্গত কারণেই।
রাজশাহীর উন্নয়নে ভূমিকা দিয়েই মানুষ রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বিচার করবে। এ ৰেত্রে সাম্প্রতিককালে কয়েকটি পদৰেপ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিগত বিএনপি সরকারের আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া রাজশাহী বিমানবন্দর ও রেশম কারখানা চালু বর্তমান সরকারের সাফল্য হিসেবেই দেখছে রাজশাহীবাসী। যাত্রী না হওয়ার অজুহাতে বিএনপি শাসনামলে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিমানবন্দর ২০১৫ সালে চালুর পর থেকে যাত্রী সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এখন প্রতিদিনই ফ্লাইট চলছে। মাঝে মধ্যেই টিকিট দুষ্প্রাপ্যতার কথাও শোনা যায়। দাবি উঠেছে কার্গো সার্ভিস ও আনৱর্জাতিক ফ্লাইট শুরম্ন করার। এর মধ্যেই মাঝারি পরিসরে বিমান ওঠানামার জন্য রানওয়ে সম্প্রসারণের প্রসৱাব বিবেচনায় নেয়ার খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে ২০০২ সালে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী রেশম কারখানাটি বন্ধ করা হয় তহবিল সঙ্কটের কথা বলে। সে সময় ৰমতাসীন দলের কয়েক নেতার প্রভাবে দুয়েকজন বিশেষ রেশম ব্যবসায়ীকে সুবিধা দেওয়ার জন্যই যে কারখানা বন্ধের সিদ্ধানৱ সেটা গোপন কিছু নয়। আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ৰমতায় আসার পর মানুষ কারখানাটি চালুর আশায় বুক বাঁধে। সম্প্রতি স’ানীয় এমপির বিশেষ উদ্যোগে কারখানার তালা খুলে যায়। পরীৰামূলকভাবে চালুর পর ৪৫ দিনের মধ্যেই পুর্নোদ্দমে উৎপাদন শুরম্নর ঘোষণা মানুষকে একটা কথাই মনে করিয়ে দেয়, রেশম কারখানা বন্ধের সিদ্ধানৱ সঠিক ছিল না। সে সময়কার ৰমতাসীন নেতাদের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তাহলে কি রাজশাহীর উন্নয়ন ব্যাহত করতে বা আঞ্চলিক বৈষম্য সৃষ্টি করতেই এমন সিদ্ধানৱ?
শুধু বিমানবন্দর ও রেশম কারখানা চালু নয়, সাম্প্রতিক সময়ে বন্ধ থাকা রাজশাহী টেক্সটাইল মিলস চালুর সিদ্ধানৱও রাজশাহীবাসীকে উৎসাহিত করেছে। তাছাড়া বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কের পর বঙ্গবন্ধু স্কয়ার তৈরির পদৰেপও এগিয়ে চলেছে। অর্থাৎ এই সরকারের আমলে রাজশাহীতে উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো, অস্বীকার করা যায় না।
উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা রৰা করা এখন রাজশাহীবাসীর দায়িত্ব। যে সরকারের আমলে এবং যে রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রচেষ্টায় রাজশাহীর বন্ধ কলকারখানা চালু হচ্ছে, নতুন নতুন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সিদ্ধানৱ হচ্ছে তাদের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেই যে রাজশাহীর অব্যাহত উন্নয়ন নিশ্চিত রাখা সম্ভব এটা না বোঝার কারণ নেই। রাজনীতিতে উন্নয়নের ইস্যু খুবই গুরম্নত্বপূর্ণ এটা ভুলে গেলে চলবে না।

Leave a Reply