দুই ইস্যুতে পিছিয়ে পড়েছে রাজশাহী বিএনপি

10/01/2018 2:09 am0 commentsViews: 76

সোনালী ডেস্ক: রাজশাহী বিমানবন্দর ও রেশম কারখানা চালুর পর এই দুই ইস্যু নিয়েই ভোটের রাজনীতিতে বিপাকে পড়েছে বিএনপি। রাজশাহীর জনমতে প্রভাব বিস্তারকারী এই দুই প্রতিষ্ঠানই বন্ধ হয়েছিলো তাদের শাসনামলে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী রেশম কারখানা এ অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি বিশেষ গুর্বত্ববহ জায়গা। সেই কারখানা ২০০২ সালে বন্ধের পর এখানকার মানুষ ৰুব্ধ হয়। তবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ৰমতায় এসে দীর্ঘদিন পরও তা চালু করতে না পারায় এতোদিন সেই ৰোভ খুব একটা প্রকট হয়নি। তবে সমপ্রতি কারখানাটি পরীৰামূলকভাবে চালু হওয়ার পর পুরনো সেই ৰোভকে উস্কে দেওয়ার কাজ করছে আওয়ামী লীগ ও তাদের শরীকরা। বিশেষ করে রেশম বোর্ডের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও স্থানীয় এমপি ফজলে হোসেন বাদশা নিজে এই কারখানাটি ৪৫ দিনের মধ্যে পূর্নোদ্দমে চালুর ইঙ্গিত দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বেড়েছে। বিএনপি শাসনামলের এই ব্যর্থতা নতুন করে উঠে আসছে আলোচনায়।
অন্যদিকে বিএনপি আমলের শেষ দিকে রাজশাহী বিমানবন্দর থেকে যাত্রীবাহী বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। সে সময় কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছিলো যাত্রী স্বল্পতাকে। তবে ২০১৫ সালে বিমানবন্দরটি ফের চালুর পর থেকে প্রতিদিনই এখানে যাত্রী বাড়ছে। আলোচনায় এসেছে এখান থেকে কার্গো ও স্বল্পদূরত্বের একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলের সম্ভাবনা।
রাজশাহী রৰা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খানের দাবি, আঞ্চলিক বৈষম্য তৈরি করে রাজশাহীকে পিছিয়ে রাখতেই বিএনপি আমলে পরিকল্পিতভাবে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছিলো। তিনি বলেন, ‘যে সরকারই রাজশাহীকে বঞ্চিত কর্বক, এখানকার মানুষ ব্যালটে তার জবাব দিয়ে থাকে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক ব্যবসায়ী নেতা জানান, দলটির স্থানীয় নেতাদের কেউই সেই সময় তাদের সরকারের এসব সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারেননি। এমনকি ইস্যুগুলো নিয়ে সরবও হতে পারেনি। আর সে কারণেই রাজশাহীতে একসময় বিএনপির ভালো অবস্থান থাকলেও আগামী নির্বাচনে এসব জনপ্রিয় ইস্যু তাদের জন্য কাল হতে পারে।
রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মনির্বজ্জামান মনি বলেন, ‘একসময় শুনেছি, এই বিমানবন্দরে নাকি যাত্রীই হতো না। সে জন্য নাকি বন্ধ করে দেওয়া দরকার হয়ে পড়েছিল। কিন্তু এখন তো রোজ ফ্লাইট আছে, টিকিট পাওয়াই মুশকিল। এখন এতো যাত্রী হয় কোত্থেকে?’ এই ব্যবসায়ী নেতা জানান, বিমানবন্দর আবার চালুর পর তারা দাবি তুলেছেন কার্গো ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপৰের সূত্র মতে, এই বিমানবন্দরটি কার্গো ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের উপযোগী করতে ২০২০ সালে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে তার আগেই মাঝারি পরিসরে বিমান ওঠানামার জন্য বর্তমান রানওয়ের সামনের অংশে এক হাজার ফুট এবং পেছনের অংশ তিন হাজার ফুট বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
রাজশাহী রেশম বোর্ডের সাবেক সিবিএ নেতা নূর্বল ইসলাম জানান, ২০০২ সালের ৩০ নভেম্বর রেশম কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হলেও এই প্রক্রিয়া শুর্ব হয় ২০০১ সাল থেকেই। তিনি বলেন, ‘কোনো এক বিশেষ কারণে বারবার রেশম কারখানা বন্ধের জন্য আমাদের চাপ দেওয়া হচ্ছিলো মন্ত্রণালয় থেকে।’ তার দাবি, তাকেসহ বেশ কয়েকজন সিবিএ নেতাকে সে সময় মন্ত্রণালয়ে ডেকে নিয়ে রেশম কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিনিময়ে তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ারও প্রলোভন দেখানো হয়। নূর্বল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কেউই এসব প্রলোভনে রাজি হইনি। তখন সরকার আমাদের বির্বদ্ধে মিথ্য মামলা দিয়ে কারখানা বন্ধ করে দেয়।’ তিনি দাবি করেন, রেশম কারখানার সঙ্গে যুক্ত কেউই এই সিদ্ধান্ত মানতে পারেননি।
বাংলাদেশ রেশম শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি লিয়াকত আলী অভিযোগ করেন, সেই সময় ৰমতাসীন দলের কয়েক নেতার প্রভাবে দুয়েকজন বিশেষ রেশম ব্যবসায়ীর হাতে সুবিধা তুলে দিতে কারখানাটি বন্ধের সিদ্ধান্ত ঠেকানো যায়নি।
নাম প্রকাশে অনাগ্রহী বিএনপির ব্যবসায়ী নেতা জানান, রেশম কারখানা সমপ্রতি পরীৰামূলকভাবে চালু হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনোভাব বিএনপির বিপৰে চলে গেছে। পরবর্তীতে ভোটের রাজনীতিতে বিষয়টি তাদের জন্য সমস্যা তৈরি করবে বলে মনে করেন তিনি।
স্থানীয় এমপি ও ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা জানান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক আগ্রহেই বিএনপির আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া দুই প্রতিষ্ঠান আবার চালু হয়েছে। বিষয়টি এখানকার মানুষ মনে রাখবেন বলেই মত বাদশার।
যদিও এ ব্যাপারে মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল দাবি করেন, ইস্যুগুলো নিয়ে তারা বেকায়দায় নেই বরং আগামী নির্বাচনে জাতীয় রাজনীতির ইস্যুই ফ্যাক্টর হয়ে উঠবে।

Leave a Reply