অবৈধ ইটভাটার মালিকেরা কিছুরই তোয়াক্কা করে না

08/01/2018 2:02 am0 commentsViews: 29

নগরীর বাইরে যত্রতত্র ইটভাটার কারণে ফসল, গাছ-গাছালি, পরিবেশ ও জনস্বাসে’্যর ৰতি হলেও দেখার যেন কেউ নেই। প্রভাবশালী ইটভাটা মালিকেরা নানাভাবে ছলা-কলা-কৌশলে অনুমোদন ছাড়াই অবৈধ ইটভাটা চালিয়ে যাচ্ছে। পত্রিকানৱরে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বিভিন্ন স’ানে এমন ১৮টি ইটভাটা গড়ে ওঠার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এসব ইটভাটা ফসলী জমিতে, মহাসড়কের পাশে, পৌরসভায়, জনবসতি ও শিৰা প্রতিষ্ঠানের পাশে হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে মানুষজনকে। ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও ছাইয়ে বাতাস ও পানি দূষিত হচ্ছে, পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, আশপাশের খেতের ফসল, ফলের বাগানের গাছ-গাছালিও ৰতিগ্রসৱ হচ্ছে, জনস্বাস’্য ভেঙে পড়ছে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের অসুবিধা হচ্ছে বেশি। বিষয়টি নিয়ে স’ানীয় প্রশাসনে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি, এমন মনৱব্য করেই হতাশা প্রকাশ করেছে সাধারণ মানুষ।
অথচ, ২০১৩ সালে অনুমোদিত ইট প্রস’ত ও ভাটা স’াপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনের খসড়ায় পৌরসভা, আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা, বনভূমি, জলাশয়ের আশপাশের ইটভাটা স’াপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ফসলী জমির উর্বর মাটি ব্যবহার ও জ্বালানি হিসেবে কাঠ পোড়ানোও নিষিদ্ধ। এসব অমান্যকারীদের বিভিন্ন মেয়াদের জেল ও জরিমানার বিধানও রয়েছে উক্ত আইনে। আর লাইসেন্সবিহীন ইটভাটা তৈরির অপরাধেও জেল-জরিমানা রাখা হয়েছে সেখানে।
কিন’ বাসৱবে এ সব কিছুই সেই ‘কাজীর গরম্ন কেতাবে আছে গোয়াল শূন্য’ কথাটাই মনে করিয়ে দেয়। আইন উপেৰা করে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অনেকটা গায়ের জোরেই নিজেদের পছন্দসই জায়গায় ইটভাটা চালিয়ে যাচ্ছে। ফসলী জমির ওপরের উর্বর মাটি কেটে নিয়ে ইট তৈরি করছে। কাঠ জ্বালিয়েই ইট পোড়ানো হচ্ছে ভাটায়।
আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখাতে তারা কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। উচ্চ আদালতে রিট করা বা পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতির কাগজ দেখিয়ে স’ানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করার কথাও অজানা নয়। আইনের ফাঁক-ফোকড় দিয়ে এভাবে ফসল, পরিবেশ ও জনস্বাসে’্যর ৰতি করেও বছরের পর বছর ধরে তারা ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে।
এ অবস’ায় ইটভাটা মালিকদের ঔদ্ধত্বের সামনে সাধারণ মানুষ অসহায় বোধ না করে পারে না। অন্যদের মতো সাংবাদিকদেরও তারা হুমকি-ধামকি দিতে ছাড়ে না। এভাবে শুধু পুঠিয়া নয়, বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় অসংখ্য ইটভাটা অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে লাখ লাখ ইট তৈরি করে চলেছে। এই বেপরোয়া মালিকদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা না হলে ফলের গাছ, ফসল, পরিবেশ ও জনস্বাসে’্যর ৰতি অপূরণীয় হয়ে উঠবে।

Leave a Reply