নকলের রাজত্ব

06/01/2018 2:04 am0 commentsViews: 19

দিনে দিনে নকলের ঘটনা বেড়ে চলেছে। উদ্বেগজনক হলেও একথা অস্বীকার করা যাবে না। আগে পরীৰায় নকলের ঘটনাই দেখা যেত। নকল বন্ধেও ছিল উদ্যোগ-আয়োজন। কিন্তু অগ্রগতি হয়েছে বলা যাবে না। বরং নকলের বিস্তার ঘটেছে। শিৰাঙ্গন থেকে নকল ছড়িয়ে পড়েছে দোকানে, হাটে-বাজারে। নকল পণ্যে ছেয়ে গেছে সর্বত্র। কোথায় নকল নেই সেটা কেউই বলতে পারবেন না ফলে অনেকটাই সহনীয় হয়ে এসেছে নকল। মানুষের চরিত্রেও নকলের উপস্থিতি কম নয়।
সম্প্রতি পত্রিকার পাতায় নকল ইলিশের বিপদ নিয়ে খবর ছাপা হয়েছে। তাও আবার বিদেশি ইলিশ। দেখতে ইলিশের মতো, কিন্তু ইলিশ নয়। দেদারসে আমদানি হওয়া কলম্বো ও চন্দনা নামের এসব মাছ বাজারে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ নামেই। যাতে পাওয়া গেছে ৰতিকর পদার্থের উপস্থিতি। যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক সব রোগের কারণ হতে পারে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপৰ কর্তৃক চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ছাড় হাওয়া বেশ কিছু মাছ পরীৰা করে তাতে স্বাস্থ্যের জন্য ৰতিকর ক্যাডমিয়াম ও সীসার উপস্থিতি ধরা পড়েছে। সহনীয় মাত্রার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি পরিমাণে বিষাক্ত পদার্থ থাকায় আমদানি করা সব মাছ পরীৰা করার নির্দেশ দেয়ার কথাও জানা গেছে।
দামে সস্তা হওয়ায় বিদেশি ইলিশ বিক্রিও হয় ভালো। জাতীয় মাছ ইলিশ খাওয়ার তৃপ্তি পেলেও এতে করে যে লিভার ও কিডনির কার্যৰমতা নষ্ট হয় সেটা অনেকেরই জানা নেই। ধীরে ধীরে নীরব ঘাতকের মতো কাজ করছে শুধু ইলিশ নামের এসব মাছই নয়, দেশে কৃত্রিমভাবে উৎপাদিত মাছ থেকেও একই প্রতিক্রিয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা।
প্রতি বছরই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বিপুল পরিমাণ মাছ আমদানি হয়ে থাকে। এগুলি বাজারে আসে পরীৰা-নিরীৰা ছাড়াই। কিছু যে পরীৰা হয় না তা নয়। তবে সেখানেও ঘাপলার কথা গোপন নয়। কনটেইনারের বাইরে থেকেই মাছ দেয়া হয় পরীৰার জন্য। পরীৰা নিয়ে এই ধরনের নকলবাজি কোথায় নেই, সেটা নিশ্চিত করে বলা কঠিন।
ফলে বাজার থেকে কেনা মাছ নিয়েই শুধু নয়, যে কোনো পণ্য বা সেবা নিয়েই সন্দেহ জাগা স্বাভাবিক। ডায়াগনষ্টিক সেন্টার বা ল্যাবে পরীৰার রিপোর্ট নিয়ে বিতর্ক তো আর এমনি এমনি ওঠে না। এ ধরনের বিতর্ক ও সন্দেহ নিয়েই জীবন চলছে। নানা ৰেত্রে নকলের রাজত্বই যেন স্থায়ী হয়ে উঠেছে।
নকল পরীৰাতেও নকলের ঘটনা কি সেটাই প্রমাণ করে না? অথচ দেশে নকলের বির্বদ্ধে আইন আছে। নকল প্রতিরোধের ব্যবস্থাও রয়েছে। কিন্তু এসব কার্যকর বলা যাবে না। নিয়মিত নজরদারি না থাকা বা নজরদারি ব্যবস্থার গাফিলতির ফলেই যে এমন অবস্থা সেটা না বললেও চলে। কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেয়াই এখন সময়ের দাবি।

Leave a Reply