শেষ পর্যনৱ জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রশাসনের উদ্যোগ

04/01/2018 1:04 am0 commentsViews: 9

গ্রামের মানুষ একটু বেশি অসহায়। স’ানীয় প্রভাবশালীরাই সেখানে সর্বেসর্বা। তাদের অবৈধ কাজের বিরম্নদ্ধে অভিযোগ করেও সময়মতো ফল পাওয়া কঠিনই। রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় আনোলিয়া বিলের জলাবদ্ধতা নিরসনে তাই একটু বেশিই সময় লেগেছে। প্রশাসনের উদ্যোগে জলাবদ্ধতা সৃষ্টিকারী অপরিকল্পিত পুকুর পাড় কাটতে বাধা দেয়া পুকুর মালিককে আটক করা হলেও তার লোকজনের হামলার শিকার হতে হয়েছে কৃষকদের। এমন বেপরোয়া হবার মদদ আসে কোথা থেকে সেটাই সবার প্রশ্ন।
গত সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যনৱ স’ানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের সহযোগিতায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টিকারী পুকুর পাড় দ্বিতীয়বারের মতো কাটতে হয়। প্রায় মাস খানেক আগে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস’া হলেও তা আবারও বন্ধ করে দেয় প্রভাবশালীরা। সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে দুই শতাধিক বিঘা জমি অনাবাদি থেকে যায়। ফলে স’ানীয় আনোলিয়া ও পোড়াবিলে ধান, পান, মরিচ, আলু, লাউ, কুমড়াসহ শাক-সবজি চাষ করতে না পেরে বিপাকে পড়েছিল কৃষকরা। কয়েক বছর ধরে প্রভাবশালীদের যত্রতত্র অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননে এমন অবস’া সৃষ্টির প্রতিকার চেয়ে দেনদরবার শুরম্ন হলে শেষ পর্যনৱ প্রশাসন নড়ে চড়ে বসতে বাধ্য হয়েছে।
গ্রামাঞ্চলে এমন প্রভাবশালীদের কারণে সাধারণ মানুষ ৰতিগ্রসৱ হলেও সময়মতো এর প্রতিকার পাওয়া যে কঠিন সেটা না বললেও চলে। স’ানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের ঘুম ভাঙতে দেরি হওয়ার মাশুল গুণতে হয় ভূক্তভোগী জনগণকে। অথচ জনগণের প্রয়োজনে যথাযথ ভূমিকা পালন তাদের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। মুষ্টিমেয় প্রভাবশালীদের কারণে কৃষক সাধারণের ৰতিগ্রসৱ হওয়াতে জবাবদিহি করা বাধ্যতামূলক হলে নিশ্চয়ই পরিসি’তি ভিন্ন হতো।
এমন জবাবদিহিতা আশা করা কি ভুল? এ বিষয়ে সংশিস্নষ্ট সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করার পাশাপাশি আমরা শেষ পর্যনৱ জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রশাসনের উদ্যোগ গ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখতে চাই। এমন ভূমিকা সর্বত্র বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে খুবই জরম্নরি। গ্রামের অসহায় মানুষের প্রয়োজনে স’ানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের এগিয়ে আসা নিশ্চিত হলে পরিসি’তি অনেকাংশেই পাল্টে যেতো। গ্রামাঞ্চলে শানিৱ ও স্বসিৱর মতোই এর ফলে কৃষকের মুখেও হাসি ফুটে উঠবে জোর দিয়েই বলা যায়।

Leave a Reply