ধূমপান বন্ধে পদৰেপ নেই

15/12/2017 1:04 am0 commentsViews: 24

পাবলিক পেস্নসে ধুমপান নিষিদ্ধ। এমন ঘোষণা থাকলেও সর্বত্র প্রকাশ্যেই ধূমপান করতে দেখা যায়। স্বাস’্য সচেতনতার কারণে আগের চেয়ে কমলেও ধূমপান বন্ধে কার্যকর পদৰেপ দেখা যায় না। ফলে বিড়ি-সিগারেটের প্যাকেটে সাবধান বাণী লেখা থাকলেও প্রকাশ্যেই চলছে ধূমপান।
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন হয়েছে ২০০৫ সালে। ২০১৩ সালে আইনটি হালনাগাদ করে জরিমানার পরিমাণ এবং ৰেত্র বাড়ানো হলেও প্রয়োগের কোনো আলামত দেখা যায় না। যত্রতত্র রাসৱা-ঘাটে এমনকি অফিস-আদালতেও ধূমপানের দৃশ্য চোখে পড়ে। থানা-পুলিশও এর বাইরে নয়। যানবাহনে ধূমপানের প্রবণতা কমলেও চালক ও সহযোগিদের ধূমপান পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
এর ফলে ধূমপায়ীদের চরম ৰতির পাশাপাশি আশপাশের লোকজনকেও পরোৰ ধূমপানের শিকার হতে হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে আমাদের দেশে কর্মৰেত্রে ৬৮% পুরম্নষ এবং ৩০% নারী আর পাবলিক পরিবহন বা পেস্নসে ৬৯% পুরম্নষ ও ২১% নারী পরোৰ ধূমপানের শিকার হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ৰতি হচ্ছে শিশুদের। কদিন আগে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ও আশাপাশ এলাকার ৯৫% শিশুর শরীরে ৰতিকর নিকোটিন পাওয়া গেছে। পরোৰ ধূমপান এই নিকোটিন উপসি’তির কারণ। ধূমপান তথা তামাকজাত পণ্য ব্যবহারে ৰতির বিষয়টি এখন আর কারও অজানা নেই। খোদ স্বাস’্য প্রতিমন্ত্রীই সম্প্রতি স্বীকার করেছেন, সরকার তামাক খাত থেকে আয় করে বছরে দুই হাজার ৪০০ কোটি টাকা আর এই খাতের কারণে ৰতি হয় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ তামাক খাতের কারণে নীট-ৰতির পরিমাণ বছরে দুই হাজার ৬০০ কোটি টাকা। তারপরও বিষয়টি নিয়ে চোখ-কান বন্ধ করে থাকা প্রশ্ন উদ্রেক না করে পারে না।
প্রচলিত আইনের দুর্বলতা নিয়ে প্রায়শই কথা শোনা যায়, কিন’ বিদ্যমান আইন প্রয়োগে উদাসীনতা কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে সেটাও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। ধূমপান বিষয়ক আইনটির পরিণতিই প্রকৃত অবস’া চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। এ অবস’ায় নীতি নির্ধারণী মহল থেকে যত কথাই বলা হোক বা নতুন নতুন আইন করা হোক পরিসি’তির পরিবর্তন কি ভাবে আশা করা যায়?
এমন অবস’ায় ধূমপান নিয়ন্ত্রণে কার্যকর অগ্রগতি আশা করা যায় না। মাঝে মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির নামে আনুষ্ঠানিকতার চমক থাকলেও ফলাফল শূন্যই। এৰেত্রে প্রশাসনিক উদাসীনতা চোখে পড়ার মতো।
ধূমপান নিরোধে এখনই কঠোর পদৰেপ নেয়া না হলে এ জন্য জাতিকে কী ধরনের মূল্য দিতে হবে সেটা রাজধানী ও আশপাশের ৯৫ শতাংশ শিশুর শরীরে নিকোটিনের উপসি’তির তথ্যই বলে দেয়। এমন বিষয়টি নিয়ে অবহেলা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার। আইন প্রয়োগে উদাসীনতার বিরম্নদ্ধে দৃষ্টানৱমূলক ব্যবস’াও দেখতে চাই আমরা।

Leave a Reply