রংপুরে জুয়া আসরের সময় পরিবর্তন

07/12/2017 1:04 am0 commentsViews: 1079

 

এফএনএস: বিতর্কিত সীমানায় জমজমাট জুয়া আসরের সময়ে পরিবর্তন এনেছে জুয়াড়িরা। এখন বিকেলের আসরটি বন্ধ করে একই স’ানে রাতে জুয়া আসর চালানো হচ্ছে। আগে প্রতিদিন দুপুরের পর থেকে শেষ রাত পর্যনৱ জুয়া আসর-গুলো চলতো। পীরগঞ্জের উঁচাপাড়া নামক স’ানে দেড়যুগ ধরে একটি জুয়া আসর এখনো চলছে। সংশিস্নষ্ট এলাকাবাসী, জুয়াড়ী ও পুলিশ সুত্র জানায়,রংপুরের পীরগঞ্জ, দিনাজ-পুরের নবাবগঞ্জ এবং ঘোড়াঘাট উপজেলার সীমানা দিয়ে বয়ে যাওয়া করতোয়া নদীটির চরে একাধিক স’ানে দীর্ঘদিন ধল জমজমাট জুয়া আসর চলে আসছিল। কোন কোন জুয়া আসরের বয়স কমপৰে দেড়-যুগ। নদীটির পীরগঞ্জ সীমানায় পারবোয়ালমারী, বোয়ালমারী, টোংরারদহ, গিলাবাড়ী, উঁচাপাড়া, নামাপাড়া, টগরার বাজার, রাম-নাথপুরের ঘাট, নবাবগঞ্জের মোগর-পাড়া, কবলিপাড়া, বিনোদনগর, ঘোড়াঘাটের শালিকাদহসহ বেশ কয়েকটি স’ানে জেগে উঠা চরে জুয়া আসর চলতো। দিনাজপুরের নবাব-গঞ্জের বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন জুয়ার ব্যাপারে সংগঠক হিসেবে কাজ করে থাকেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানান। অপরদিকে নবাবগঞ্জের ইস্কেন্দার আলীর নেতৃত্বেও জুয়া আসর চলছে। এলাকাবাসীর প্রতি-বাদের কারণে অনেক আসরগুলো বন্ধ হলেও এখনো পীরগঞ্জের বড়আলমপুর ইউনিয়নের উঁচাপাড়া নামকস’ানে নদীর চরে জুয়া আসর চলছে। এটির নেতৃত্বে রয়েছে বড়-আলমপুর ইউনিয়নের ধর্মদাসপুরের আবদুস সাত্তারের পুত্র আতোয়ার রহমান। মজার ব্যাপার হলো, প্রতিদিনই জুয়া আসরে আসা জুয়াড়ীদের বহনকারী অর্ধশতাধিক মোটর সাইকেল ও ৫/৬ টি মাইক্রোবাস পীরগঞ্জের বড়আলমপুর ইউনিয়নের ধর্মদাসপুর ও টগরার বাজারে গ্যারেজ করার মতো সারি-বদ্ধ করে রাখা হয়। একাধিকবার পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই মোটর সাইকেল ও কার আটক করলেও পরবর্তীতে মোটা অংকের বিনিময়ে তা ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। জুয়া এলাকার কয়েকজন নাম না প্রকাশের শর্তে জানায়, অনেক সময় আমরা আমাদের ফসলী ৰেত রৰা ও সনৱানদেরকে বিপথগামীর পথ থেকে ফেরাতে জুয়া আসর বন্ধ করতে গিয়ে জুয়াড়ীদের কর্তৃক মারপিটের শিকার হয়েছি। ইউএনও-পুলিশকে বলেও কোন প্রতিকার পাইনি। সংশিস্নষ্ট থানা পুলিশের সাথে আলো-চনা সাপেৰে সামপ্রতিক সময়ে উঁচাপাড়ায় বিকেলের পরিবর্তে জুয়া আসর রাতে চালানো হচ্ছে বলে বিশ্বসৱ সুত্রে জানা গেছে। অপরদিকে উলিস্নখিত থানার পুলিশ তাদের সীমানায় জুয়া খেলা হয় না বলে দাবি করেন। এ ব্যাপারে জুয়াড়ী নেতা পীরগঞ্জের আতোয়ার রহমান মোবাইল ফোনে জানায়, পীরগঞ্জ ও ঘোড়াঘাট থানা ম্যানেজ করে আমি দিনাজপুর সীমানায় জুয়া চালাচ্ছি। এখন তো বিকেলে নয়, রাতে খেলছি। শীতের কারণে পেস্নয়ারও কম আসছে বলে তিনি দাবি করেন। বড়আলমপুর ইউপির চেয়ারম্যান হাফিজার রহমান বলেন, আমার ইউনিয়নের উঁচাপাড়ার জুয়া আসর-টির বিরম্নদ্ধে আমি, ওয়ার্ড মেম্বার ও এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলেও তারা দিব্বি খেলে যাচ্ছে। আসরটি আমার এলাকায় দেড়যুগ ধরে চললেও জুয়াড়ীরা স’ানটি দিনাজপুর সীমানায় বলে দাবি করে। জুয়া খেলার ব্যাপারে পীরগঞ্জ থানার ওসি রেজা-উল করিম, ও নবাবগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত কুমারকে মোবাইল ফোন করা হলে তারা এর দায় না নিয়ে বলেন, আমাদের সীমানায় খেলা হচ্ছে না। ঘোড়াঘাট থানার ওসি আমিরম্নল ইসলাম জানান, আমি এখানে একমাস আগে যোগদান করেছি। এখানে কোথাও জুয়া হচ্ছে না। খেলা হবেও না। অনেকেই ৰেদোক্তি প্রকাশ করে বলেন, খেলাটি কি নো-ম্যান্সল্যান্ডে হচ্ছে ? শত শত মানুষ নিয়মিত জুয়া খেলায় মেতে উঠেছে। এটি তো ভারতের ভূখ- নয় ? যে কারণে পুলিশকেই এর দায় দায়িত্ব নিতে হবে বলেও এলাকাবাসী জানান।

Leave a Reply