আলুতে লোকসান নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই

07/12/2017 1:04 am0 commentsViews: 29

বাজারে পানির দামে আলু বিক্রির খবর এখন সবার জানা। মৌসুমের শেষে ব্যাপক লোকসান সত্ত্বেও রাজশাহী অঞ্চলে আলুচাষ বেড়েই চলেছে। গতবারের চেয়ে বেশি জমিতে এবার আলু চাষ করতে কোমড় বেঁধে নেমেছে চাষি। এর মধ্যেই শতকরা ৩০ ভাগ জমিতে বীজ রোপণের খবর জানা গেছে।
কৃষি দপ্তরের মতে, গতবছর ৪০ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লৰ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে ৪৩ হাজার ৪৮১ হেক্টর। এবার লৰ্যমাত্রা ধারা হয়েছে ৪২ হাজার ১৫০ হেক্টর। এবারও লৰ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবার আশা করা হচ্ছে।
অথচ মৌসুমের শেষ সময়ে এসে আলুচাষি,ব্যবসায়ী ও কোল্ডস্টোরেজ মালিকদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছে। এখনও শতকরা ২০ ভাগ আলু স্টোরে পড়ে রয়েছে। অন্য বছর যেখানে নভেম্বরেই স্টোর খালি হয়ে যায় এবার সে জন্য ডিসেম্বরের শেষ পর্যনৱ অপেৰা করার বিকল্প দেখা যাচ্ছে না। কারণ কোল্ড স্টোরেজের আলু তুলে ব্যাপক ৰতির মুখে পড়তে হচ্ছে আলুচাষি ও ব্যবসায়িদের।
যেখানে মৌসুমের শুরম্নতে ৮৫ কেজির প্রতিবসৱা আলু বিক্রি হয়েছে এক হাজার ১১শ টাকায়। সেখানে এখন তার দাম চারশ থেকে পাঁচশ টাকা। স্টোর ভাড়াসহ খরচ চারশ টাকা বাদ দিলে এক বসৱা আলু বিক্রি করে চাষির হাতে আসছে ৫০ থেকে ১০০ টাকা। অর্থাৎ বসৱাপ্রতি লোকসান হাজার টাকার কম নয়। এই হলো আলু উৎপাদন বৃদ্ধির পুরস্কার!
এমন অবস’া কৃষকের জন্যই শুধু বিপদের নয়, আলু ব্যবসায়ী, কোল্ডস্টোর মালিক সর্বোপরি কৃষি অর্থনীতির জন্য শুভ বলা যাবে না। আলুর মত কৃষিপণ্যের বহুমুখী ব্যবহার ও বাজারজাতকরণের সুব্যবস’া ছাড়া এ অবস’ার পরিবর্তন সম্ভব নয়। এজন্য দেশে আলুর ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানি বাড়ানোর ব্যবস’া করাও জরম্নরি। সে অনুযায়ী পরিকল্পিতভাবে উৎপাদন বাড়ানো হলে আলু নিয়ে এ ধরনের বিপদে পড়তে হবে না কাউকে।
সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে আলুর ব্যবহার কেন বাড়ছে না সেটা চিনৱার বিষয়। উৎপাদন ও ব্যবহারের মধ্যে ভারসাম্য না থাকলে কোনো উৎপাদকের পৰেই সুসি’র থাকা সম্ভব নয়। এজন্য অগ্রাধিকারভিত্তিতে রেশনিং, কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচী, বিভিন্ন ধরনের ত্রাণ কাজে এমনকি রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিতরণেও আলু দেয়ার সিদ্ধানৱ নেয়া যেতে পারে। কৃষি নিয়ে এ ধরনের অবহেলার ধারা আর কত দীর্ঘায়িত হবে সে প্রশ্ন তোলারও কেউ নেই।
ফলে আলু চাষিদের মত যারাই উৎপাদন বাড়াতে আগ্রহী হয়ে ওঠে তারাই লোকসানে বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। এমন অবস’া বেশি দিন স’ায়ী হলে বিপর্যয়ই গভীর হবে। এ নিয়ে তেমন মাথাব্যথাও দেখা যায় না কারো। এমন অপরিকল্পিত কৃষি কৃষকের ভাগ্যোন্নয়নে কতদূর কি করতে পারে সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Reply