কাঁচা টমেটো পাকছে কেমিকেলে

06/12/2017 2:02 am0 commentsViews: 9

কৃষক জমিতে উৎপাদন করে আর কৃষিপণ্য বাজারজাত করে ব্যবসায়ীরা। লাভ বা মুনাফা করাই ব্যবসায়ীদের লৰ্য। নজরদারি না থাকলে এ জন্য যা ইচ্ছা তাই করতেও দেখা যায়। টমেটোর মত কৃষি পণ্যের ভালো দাম নিশ্চিত করতে অবাধে কেমিকেল ব্যবহারের পেছনে সেটাই কারণ। কাঁচা টমেটো কৃত্রিমভাবে পাকিয়ে আসছে বাজারে। দরদাম করে কিনছে সবাই।
গতকালের সোনালী সংবাদে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে কাঁচা টমেটো পাকানো হচ্ছে ইথিফন গ্রম্নপের কেমিকেলে। পঁচন ঠেকাতে ব্যবহার করা হচ্ছে ডায়াথিন গ্রম্নপের কেমিকেল। আর টমেটো চকচকে আকর্ষণীয় করতে দেয়া হচ্ছে শ্যাম্পু। কাঁচা টমেটো রোদে শুকানোর সময় এ সব দিয়েই বাজারে বিক্রির উপযোগী করা হচ্ছে প্রকাশ্যেই। এভাবে দেশের সবচেয়ে বেশি চাষ হওয়া শীতকালিন টমেটো রাজশাহীর গোদাগাড়ী থেকে চলে যাচ্ছে রাজধানীসহ সারা দেশে। এবার এখানকার দুই হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে মোট টমেটো চাষ হচ্ছে প্রায় ৭৮ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন। এসব টমেটো সাধারণত সালাদে কাঁচাই বেশি খাওয়া হয়। তবে কৃত্রিমভাবে পাকানো টমেটো স্বাস’্য রৰায় কী ভূমিকা রাখে সেটা সম্ভবত অনেকেরই জানা নেই।
ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় খেত থেকে কাঁচা টমেটো কিনে রোদে ফেলে ইথিফন, ডায়াথিন জাতীয় কেমিকেল ও শ্যাম্পু ছিটিয়ে পাকা লালটুকটুকে করে বাজারে আনে। রাজশাহীর জেলা সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, মানবদেহে ইথিফনের বিষক্রিয়া তাৎৰণিক বোঝা যায় না। তবে ইথিফন মেশানো ফল-ফলারি খেলে কিডনি বিকল ও ক্যান্সারের মত মারাত্মক রোগ-ব্যাধিতে আক্রানৱ হবার আশঙ্কা রয়েছে। আর ছত্রাকনাশক ডায়াথিনে স্বাস’্য ঝুঁকি আরও বেশি। এসব কেমিকেল মেশানো ফল বা সবজি না খাওয়াই ভালো বলে তার মত। কিন’ আজকের বাসৱবতায় এটা কতদূর সম্ভব সেটাই প্রশ্ন?
শুধু টমেটোর ৰেত্রেই নয়, বেশিরভাগ ফল-মূল যা এখন আর পঁচে না, এমনকি সবজিও যে কেমিকেল মিশ্রিত সেটা অস্বীকার করা যাবে না। বাজারে নিরাপদ খাদ্য পাওয়াই দুস্কর। এসব কমবেশি জানা থাকলেও বিকল্প না থাকায় নিরম্নপায় ক্রেতারা। এতে করে স্বাস’্য ঝুঁকি বাড়ছে, রোগ-ব্যাধিতে আক্রানেৱর সংখ্যাও বাড়ছে। এর দায় কার?
দেশে নিরাপদ খাদ্য আইন থাকলেও বাসৱবায়ন নিশ্চিত না হওয়ায় সমাজে রোগ-শোকের প্রকোপ বাড়ছে বৈ কমছে না। এ ৰেত্রে সংশিস্নষ্ট কর্তৃপৰের তৎপরতার অভাব সাদা চোখেই ধরা পড়ে। তবে বৃহত্তর স্বার্থেই বিষয়টি নিয়ে অবহেলার অবসান হওয়া জরম্নরি। বাজারে নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা থাকা সবারই কাম্য।

Leave a Reply