এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহায়তা বৃদ্ধিতে জোর প্রধানমন্ত্রীর

06/12/2017 2:05 am0 commentsViews: 4

এফএনএস: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহায়তা ও আন্তযোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই অঞ্চলের মানুষের সার্বিক উন্নয়নের জন্যই এসব সহায়তা বাড়ানো উচিত। তিনদিনের কম্বোডিয়া সফরে গতকাল মঙ্গলবার দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও রয়েল পার্টির প্রেসিডেন্ট নরদম রানারিদ্ধের সঙ্গে বৈঠকে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফ করা হয়। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ পূর্ব ও পশ্চিমের দেশগুলোর মধ্যে সেতু হয়ে কাজ করতে পারে। সেজন্যে ঢাকার অদূরে নতুন বিমানবন্দর তৈরি করা হচ্ছে। তিনি এ সময় দেশটির সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তারা তাদের একটি সড়কের নাম জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেননসহ অন্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দু’দেশের সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে কম্বোডিয়ার ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান। গত সোমবার বিকেলে হোটেল সোফিটেলে বাংলাদেশ-কম্বোডিয়া বাণিজ্য সংলাপে প্রধান অতিথির ভাষণে বলেন, আসুন দুদেশের মানুষের সমৃদ্ধির অন্বেষায় আমরা অংশীদার হই এবং একসঙ্গে দুদেশের কোটি কোটি মানুষের জীবনের পরিবর্তন আনতে উদ্যোগী হই। তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত যে, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরাও একইভাবে কম্বোডিয়ায় বাণিজ্য সুবিধা অন্বেষণে আগ্রহী। কম্বোডিয়ায় তিন দিনের সরকারি সফর শেষে গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা পৌনে ২টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে নম পেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দ্যেশ্যে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান কম্বোডিয়ার মহিলা বিষয়ক মন্ত্রী ইং কানথা ফাভি, দেশটির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট ইট সোফিয়া, কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সমবর্তী দায়িত্বপ্রাপ্ত সাঈদা মুনা তাসনিম এবং বাংলাদেশে কম্বোডিয়ার অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত পিচকুন পানহা। তিন দিনের এই সফরে রোববার নম পেনে পৌঁছে প্রথম দিনই শেখ হাসিনা কম্বোডিয়ার স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভে এবং কম্বোডিয়ার জাতির পিতা প্রয়াত রাজা নরোদম সিহানুকের রাজকীয় স্মৃতি ভাস্কর্যে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর কম্বোডিয়ার গণহত্যা জাদুঘর পরিদর্শন করেন। এছাড়া কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সমবর্তী দায়িত্বপ্রাপ্ত সাঈদা মুনা তাসনিমের দেওয়া একটি নৈশভোজে অংশ নিয়ে সেদিন তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে বক্তৃতা দেন। গত সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পিস প্যালেসে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত ও দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকের পর দুদেশের মধ্যে নয়টি সমঝোতা ও একটি চুক্তি সই হয়। পরে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশের সহযোগিতার সম্পর্ক নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। একই দিনে প্রধানমন্ত্রী কম্বোডিয়ার রাজা নরোদম সিহামনির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন এবং কম্বোডিয়া চেম্বার অব কমার্সের আয়োজনে ব্যবসায়ীদের একটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের দেওয়া নৈশভোজেও তিনি যোগ দেন। কম্বোডিয়ার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বেলির প্রেসিডেন্ট হেং শামরিন এবং কম্বোডিয়ান রয়্যাল পার্টির প্রেসিডেন্ট নরোদম রানারিদ হোটেলে গিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করেন। কম্বোডিয়া সফরে বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম, মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং এফবিসিসিআইয়ের সভাপতির নেতৃত্বে একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

Leave a Reply