চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনা জরম্নরি

23/11/2017 1:04 am0 commentsViews: 19

চালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সমাজে অসি’রতা সৃষ্টি করলেও কার্যকর ব্যবস’ার দেখা মিলেনি। ফলে এখনও বেশি দামেই চাল কিনতে হচ্ছে মানুষকে। বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থতার দায় গিয়ে পড়ছে সরকারের ওপর।
সংশিস্নষ্টরা এজন্য মনিটরিং ব্যবস’ার দূর্বলতাকেই দুষছেন। মজুদদারদের কারসাজি, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের ভূমিকার কথাও উঠে আসছে আলোচনায়। খাদ্য মন্ত্রণালয় চাল আমদানিসহ বেশ কিছু পদৰেপ নিয়ে বাজারের ঊর্ধ্বগতি রোধ করলেও এখনও চালের দাম স্বাভাবিক হয়েছে বলা যাবে না।
বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চালের মজুদদার, আড়তদার, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়। যাতে করে চাল ব্যবসায়ে জড়িতদের সামগ্রিক কর্মকা- মনিটরিং করা সম্ভব হয়। কার্যৰেত্রে বিষয়টি নিয়ে হতাশাজনক খবরই পাওয়া গেছে।
ফুড গ্রেইন লাইসেন্স গ্রহণের শেষ সময় ৩০ অক্টোবর পার হয়ে গেলেও রাজশাহী অঞ্চলের বেশিরভাগ চাল ব্যবসায়ীই এতে সাড়া দেননি বলে সোনালী সংবাদে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে। রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় অনৱত ২০ হাজার চাল ব্যবসায়ী থাকলেও লাইসেন্স নেয়ার সংখ্যা ১১ হাজার ৫১ বলে জানা গেছে। সংশিস্নষ্ট দপ্তরের লোকজন অবশ্য অর্ধেকেরও বেশি সংখ্যক ব্যবসায়ীর লাইসেন্স না নেয়ার কথা জানিয়েছেন। এজন্য শীঘ্রই তাদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস’া নেয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।
এই লাইসেন্সের মাধ্যমে খাদ্য বিভাগ চাল ব্যবসায়ীদের কর্মকা-, বিশেষ করে চাল মজুদ ও কেনা-বেচার তথ্যাদি জানার সুযোগ পাবে। এতে করে সরকারি কোষাগারেও মোটা অংকের টাকা জমা পড়বে। কিন’ বাসৱবতা যে হতাশাজনক সেটা না বললেও চলে।
এজন্য ব্যবসায়ীদের অজ্ঞতা বা সরকারের প্রচারণার অভাবের কথা বলা হলেও এর পেছনে অন্য উদ্দেশ্য কাজ করছে কি-না সেটা ভেবে দেখার বিষয়। কারণ অবৈধ মজুদকারীরা দৃষ্টির আড়ালে থেকে বাজারকে অসি’র করার অপকৌশল গ্রহণ করে ফায়দা লোটার সুযোগ নিতে পিছপা হয় না। সরকারের কাছে যদি খাদ্যশস্য মজুদের সঠিক হিসাব না থাকে বা বাজার সম্পর্কে সঠিক ধারণার অভাব থাকে তবে বাজার নিয়ন্ত্রণে সিদ্ধানৱ গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ে বৈ-কি। এর মূল্য দিতে হয় ক্রেতা সাধারণকে।
তাই বাজার ব্যবস’াপনার স্বার্থেই ব্যবসায়ীদের কর্মকা- আইনের আওতায় আনা অপরিহার্য। যারা এর বাইরে থাকবেন তাদের সম্পর্কে কঠোর ব্যবস’া না নিলে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজসাধ্য হবে না।
চালসহ বাজারের পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সরকারের কঠোর পদৰেপ নেয়ার বিকল্প নেই। এ ৰেত্রে শৈথিল্যের অর্থ মুনাফাখোরদের হাতে বাজারকে জিম্মি হতে সহায়তা করা। এটা কারোরই কাম্য নয়।

Leave a Reply