চিকিৎসা নিতে এসে হয়রানির অবসান জর্বরি

22/11/2017 1:04 am0 commentsViews: 18

চিকিৎসাসেবা জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে অনেক কিছুই করছে বর্তমান সরকার। কিন্তু এক শ্রেণীর সুবিধাভোগীর কারণে সব কিছু ভেঙে পড়ার দশা মানুষের দৃষ্টি এড়ায় না। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে এসে রোগীদের হয়রানির শিকার হওয়া যেন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। গতকালের সোনালী সংবাদে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে প্রেসক্রিপশন নিয়ে টানাটানির যে ঘটনা জানা গেল তা বিশৃঙ্খলার ভয়াবহতাই তুলে ধরে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালসহ বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোতে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের অবাধ যাতাযাত শুধু চিকিৎসক নয়, রোগীদেরও দুর্ভোগের কারণ হয়ে উঠেছে। সরকারি হাসপাতালে সপ্তাহে দুই দিন, সোমবার ও বুধবার দুপুর ১২ টা থেকে ১টা পর্যন্ত কোম্পানীর প্রতিনিধিদের সাৰাতের নিয়ম অগ্রাহ্য করে চলায় রোগীরা অহেতুক হয়রানির শিকার হচ্ছেন, এমন অভিযোগ বেশ পুরানো। অন্যত্র পরিস্থিতি যে আরও ভয়াবহ সেটা না বললেও চলে। অনেক চিকিৎসকই বিশেষ কারণে প্রতিনিধিদের থামাতে পারেন না বা চান না। এ ছাড়াও চিকিৎসকের চেম্বার থেকে বেরিয়ে আসা মাত্রই রোগীর হাতে থাকা প্রেসক্রিপশন নিয়ে মোবাইলে ছবি তোলার হিড়িক দেখে হতবাক না হয়ে পারা যায় না। ওষুধের দোকানেও এমন চিত্র যেন স্বাভাবিক হয়ে গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ থেকে কোন চিকিৎসক কোন কোম্পানীর কি কি ওষুধ লিখলেন সেটা জানাই আসল কথা। সেটা কোম্পানীকে জানাবার নির্দেশনা না থাকলে কি এমনটা দেখা যেত? ফ্রি স্যাম্পল ছাড়াও আর্থিক ও নানা ধরনের উপঢৌকন দিয়ে চিকিৎসকদের হাতে রাখার কথা বহুল প্রচারিত। এসবের তদারকি করার প্রয়োজনেই সম্ভবত কোম্পানীর প্রতিনিধিদের দিয়ে প্রেসক্রিপশন খবরদারির ব্যবস্থা করেছে ওষুধ কোম্পানীগুলোই। চাকরি রৰা বা পদোন্নতির স্বার্থে প্রতিনিধিরা বেপরোয়া হয়ে উঠলে তাদের কি খুব দোষ দেয়া যায়? কিন্তু এর ফলে সামগ্রিক চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাই যে ভেঙে পড়ছে সে চিন্তা করার কাউকে দেখা যায় না। হাসপাতাল কর্তৃপৰ বা সংশিৱষ্ট চিকিৎসক যদি একটু দায়িত্ব সচেতন হতেন তবে নিশ্চয়ই এমন অবস্থা সৃষ্টি হতো না। আর ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের বেপরোয়াপনা ঠেকানোর দায় কার সেটাও ভেবে দেখতে হবে। ওষুধ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে গুর্বত্ব না দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিনই বলতে হবে।
রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়ার দায়িত্ব যাদের তারাই যদি অসুস্থ পরিস্থিতির শিকার হন তবে মানুষ যাবে কোথায়? এ অবস্থায় স্বাস্থ্য বিভাগে বিদ্যমান অব্যবস্থার আশু চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার না করেই বিষয়টির প্রতি সংশিৱষ্ট কর্তৃপৰের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, চিকিৎসা নিতে এসে হয়রানি-ভোগান্তির অবসানে কার্যকর পদৰেপ নেয়া জর্বরি হয়ে পড়েছে।

Leave a Reply