রেল যোগাযোগ দ্রম্নত সম্প্রসারিত হোক

21/11/2017 2:02 am0 commentsViews: 10

যোগাযোগ ছাড়া এ যুগ অচল। বিভিন্ন মাধ্যমের যোগাযোগের মধ্যে নৌপথের পরই রেলপথ নিরাপদ ও সাশ্রয়ী। মূলত এ দুই পথেই যাতায়াত ও বাণিজ্য জনপ্রিয় ছিল। সড়কপথ পুরাতন হলেও সীমাবদ্ধতাও কম নয়। সড়ক ও আকাশপথ ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সম্প্রসারণে তাল মেলাতে পারেনি রেল ও নৌপথ। ফলে নদীমাতৃক দেশ হয়েও আমাদের নৌপথ সঙ্কুচিত হয়েছে। রেলপথ সে তুলনায় সঙ্কুচিত না হলেও সম্প্রসারিত হয়েছে বলা যাবে না। তবে বাসৱবতার নিরিখেই এখন রেলপথের গুরম্নত্ব ও প্রয়োজনীতা আর অস্বীকার করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে আঞ্চলিক যোগাযোগের ৰেত্রে রেলপথকেই বেছে নেয়ায় প্রমাণ মিলে স্বল্পকালের মধ্যে ঢাকা-কলকাতা ও খুলনা-কলকাতা যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর ঘটনায়। এর ফলে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে রেলপথ আরও সম্প্রসারিত হওয়া এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।
সর্বশেষ রাজশাহী-কলকাতা ট্রেন সার্ভিস চালুর পদৰেপ নেয়ার খবরে বিশেষ করে এ অঞ্চলের মানুষ স্বসিৱর নিঃশ্বাস ফেলেছে। কারণ ব্রিটিশ আমলের রেল অবকাঠামো সংস্কার করে সহজেই নিকট প্রতিবেশী দেশেই শুধু নয় আঞ্চলিকভাবেই রেল যোগাযোগ জনপ্রিয় হয়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি দেশের ভিতরেও সাশ্রয়ী ও নিরাপদ যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহন সহজতর হয়ে উঠবে। সম্ভাবনার এসব খবরে আশাবাদী হয়ে উঠতে বাধা কোথায়?
উলেস্নখযোগ্য যে, রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্যের প্রসৱাবে সাড়া দিয়েই রাজশাহী- কলকাতা ট্রেন সার্ভিস চালুর বিষয়ে এগিয়ে এসেছে ভারতীয় কর্তৃপৰ। আগামী মাসে আঞ্চলিক যোগাযোগ নিয়ে রাজশাহীতে বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল ভুটানের মধ্যে যে বৈঠক নির্ধারিত আছে সেখানে বিষয়টি বিশেষ গুরম্নত্ব পাবে বলেও জানা গেছে। এতে করে এ অঞ্চল থেকে চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিৰা বা ভ্রমণে ভারতসহ আশপাশের দেশে যাতায়াত করতে দুর্ভোগের অবসান আশা করাই যায়।
এর মধ্যেই রাজশাহী-আমনুরা-রহনপুর হয়ে মালদা রম্নটে রেলপথে পণ্য পরিবহণ চালু হয়েছে। এ পথেই কলকাতার সঙ্গে যাত্রীবাহী ট্রেন সার্ভিস চালু হতে তাই বেশি সময়ের প্রয়োজন হবে না। এটা এ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিকে বেগবান করবে সন্দেহ নেই।
তবে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত রেল অবকাঠামো পরিকল্পিতভাবে সংস্কার ও সম্প্রসারিত করলে শুধু আঞ্চলিক ৰেত্রে নয়, জাতীয় ৰেত্রেও রেল যোগাযোগ ব্যবস’ায় বিপস্নব সংঘটিত হবে। রেলের দখল হয়ে যাওয়া জায়গা-জমি পুনরম্নদ্ধার করে অতিসহজেই ডুয়েল গেজ লাইন চালু করা মোটেই অসম্ভব ব্যাপার নয়। এ জন্য আনৱরিকতা, দৃঢ়তা ও সঠিক পরিকল্পনাই যথেষ্ট। বর্তমান সরকারের কাছে বিষয়টা যে গুরম্নত্ব পেয়েছে সেটা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। রেল যোগাযোগের দ্রম্নত সম্প্রসারণে জাতীয় উদ্যোগের পাশাপাশি এখন প্রয়োজন স’ানীয় প্রচেষ্টারও। এৰেত্রে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক-সামাজিক-ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের ভূমিকার ওপর আমরা আস’া রাখতে চাই।

Leave a Reply