নিরাপদ সড়ক কতদূর

19/11/2017 1:04 am0 commentsViews: 6

সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের খবরে নতুনত্ব নেই। এমন অপমৃত্যুর ঘটনা যেন স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। সড়কের এমন অবস’া মানুষের জানমালের নিরাপত্তাহীনতাই বাড়িয়ে দিয়েছে।
গত শুক্রবার একদিনে রাজশাহীতেই সড়ক দুর্ঘটনায় দম্পতিসহ চারজনের মৃত্যু এবং শিশুসহ ১০ জনের আহত হবার খবর পত্র-পত্রিকায় ফলাও প্রচার পেয়েছে। রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে দুপুরে একটি যাত্রীবাহী বাস ওভারটেক করতে গিয়ে মোটরসাইকেল ও ভুটভুটিকে ধাক্কা দিয়ে খাদে উল্টে পড়ে। এতে মোটরসাইকেল আরোহী পিতা-মাতা ঘটনাস’লে মারা যান। কোলের শিশু ছিটকে পড়ে গুরম্নতর আহত হয়েছে। একই রাসৱায় সকালে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের গাড়িকে ধাক্কা মেরে মারাত্মকভাবে ৰতিগ্রসৱ করে চলনৱ বাস। তিনি গুরম্নতর আহত হয়েছেন। সন্ধ্যায় বড়াইগ্রামে বনপাড়া বাইপাস মোড়ে বাসের নিচে চাপাপড়ে মোটরসাইকেল চালক নিহত ও আরোহী তার বাবা আহত হয়েছেন। আর সেদিনই ভোরে গোদাগাড়ীতে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ছুটির দিন হলেও কেন দুর্ঘটনার সংখ্যা বেশি সেটা ভেবে দেখার বিষয়। যানবাহনের সংখ্যা কম ছিল বলে বেপরোয়া হয়ে উঠতে চালকেরা কি উৎসাহী হয়ে উঠেছিলেন ?
সড়কে দুর্ঘটনায় প্রথমেই আঙ্গুল ওঠে চালকের দিকে। তাদের বেপরোয়াপনার জন্যই তাৎৰণিকভাবে শাসিৱর দাবিও ওঠে। এতে করে অবশ্য অনেক সময়ই দুর্ঘটনার আসল কারণ আড়াল হবার আশঙ্কা যে থাকে না সেটা জোর দিয়ে বলা যাবে না। আসলে সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে একাধিক কারণ অস্বীকারের উপায় নেই। ধারণৰমতার তুলনায় রাসৱায় অতিরিক্ত যানবাহন, সড়ক নির্মাণে ত্রম্নটি, প্রশসৱতা, দ্রম্নত ও ধীরগতির যানের পৃথক লেন না থাকা, ডিভাইডার না থাকা, গাড়ির দ্রম্নতগতি, চালকের অদৰতা প্রভৃতি নানা কারণ সাদা চোখেই দেখা যায়। এসব নিয়ে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে অনেক কিছুই হয়েছে। সংখ্যার হিসাবে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসলেও তা নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলার সময় এখনও আসেনি।
তবে মহাসড়কে ডিভাইডার, পৃথক লেন ও চালকের সাবধানতা নিশ্চিত হলে স্বল্প সময়েই পরিসি’তির উন্নতি দৃশ্যমান হয়ে উঠবে, সন্দেহ নেই। ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ডিভাইডার দিয়ে প্রশসৱ করাতেই দুর্ঘটনার সংখ্যা ন্যূনতম হয়ে এসেছে। তবে এই শুক্রবারের ঘটনায় বাসের দ্রম্নতগতির কথাই সামনে এসেছে। এর দায় কার সেটা না বললেও চলে।
অবশ্য তার পরও কথা আছে। সড়ক দুর্ঘটনায় মামলা হলেও বেশিরভাগ ৰেত্রেই নিষ্পত্তির খবর পাওয়া যায় না। ফলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় অজানাই থেকে যায়। এর পেছনে আইন ও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াও বাইরের চাপ কাজ করে কি-না সেটাও জানা দরকার। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাপট ও রাজনৈতিক সংশিস্নষ্টতার কথা কারও অজানা নয়। সড়ক দুর্ঘটনা দৃশমানভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে এ ধরনের সব বিষয়কেই গুরম্নত্ব দিতে হবে।
অন্যথায় নিরাপদ সড়ক কথা ও কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে। জানমালের নিরাপত্তাহীনতাও দূর হবে না।

Leave a Reply