ফলন ও দামে চাষিরা খুশি

15/11/2017 2:06 am0 commentsViews: 15

কাজী নাজমুল ইসলাম: রাজশাহীর চাষিরা এখন আমন ধান কাটতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ধানের ফলন ভাল হওয়ায় এবং দাম ভালো থাকায় চাষিরা খুশি।
কৃষক ও কৃষিবিদদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে রাজশাহীর চাষিরা আমন ধান কাটতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ইতিমধ্যে প্রায় ৩০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। এবার আবহাওয়া আমন চাষের অনুকুলে থাকায় ফলন ভাল হয়েছে। তাছাড়া দামও ভালো রয়েছে। এতে চাষিরা খুশি।
বরেন্দ্র অঞ্চলের আউশ-আমন আবাদ মূলত: বৃষ্টি নির্ভর। এই সময় প্রয়োজন পর্যাপ্ত বৃষ্টির। গতবছর কাংখিত বৃষ্টি না হওয়ায় বেকায়দায় পড়েছিলেন এ অঞ্চলের চাষিরা। যাদের সেচ সুবিধা ছিল তারা অধিক খরচ করে সেচ দিয়ে আমন চারা রোপন করেছিলেন। কিন্তু এবার আবহাওয়ার কিছুটা পরিবর্তন লৰ করা গেছে। এবার বর্ষা মৌসুমের শুর্ব থেকেই দফায় দফায় বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের ভাষ্য মতে গত ৪/৫ বছরের মধ্যে এবার এখানে বৃষ্টিপাত বেশি হয়েছে। এবার আমন চারা রোপনে চাষিদের তেমন সেচ লাগেনি। চাষিরা বলেন এবার ধান-চালের দাম বেশি থাকায় এবং আমন চাষে খরচ কমে যাওয়ায় আবাদ বেড়েছে, অন্যদিকে ফলনও মোটামুটি ভালো হয়েছে। তবে শেষে নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টির সাথে ঝড়ো হাওয়ার কারণে বেশকিছু এলাকার ধান মাটিতে পড়ে যায়। এই সমস্ত এলাকার ফলন কিছুটা কম হচ্ছে।
পবার বিলনেপাল পাড়ার চাষি নুর্বল আমিন জানান, এবার তিনি ৫ বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেছিলেন। এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় একদিকে যেমন খরচ কম হয়েছে, অন্যদিকে ফলনও ভাল হয়েছে। তার এলাকায় চাষিরা এবার বিঘায় ১৬ থেকে ১৮ মন করে ধান পাচ্ছেন। অথচ গত বছর এর চেয়ে ২/৩ মন করে কম পেয়েছেন। তিনি বলেন এবার পোকার আক্রমনও কম ছিল। ফলন ভাল হওয়ায় চাষিরা খুশি।
এদিকে পবার কর্নহার এলাকার চাষি জাইদুর রহমান বলেন, তিনি এবার ৩০ বিঘা জমিতে আমন ধান করেছেন। এখন ধান কাটা শুর্ব করেছেন। শেষের ঝড়-বৃষ্টিতে তার বেশ কিছু জমির ধান পড়ে গিয়েছিল। ওই জমি গুলোতে ১২ থেকে ১৪মন ধান পাওয়া যাচ্ছে। তাছাড়া ওই সমস্ত জমির খড়ও নস্ট হয়েছে। অন্যগুলোতে ১৬ থেকে ১৮মন ধানও পাওয়া যাচ্ছে। হাটে নতুন ধান বিক্রি হচ্ছে ৭/৮শ’ টাকা মন দরে। এবার লেবার ও বালাইনাশক খরচ বেশি হওয়ায় প্রতি বিঘায় ধান আবাদ করতে খরচ হয়েছে প্রায় ৪ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে আমনের ফলন ও দামে চাষিরা খুশি।
কৃষিবিদরা বলেন, এবার রাজশাহীতে কয়েক বছরের চেয়ে বৃষ্টির পরিমান বেড়েছে। ফলে আমন চারা রোপনে চাষিদের তেমন সেচ লাগেনি। এছাড়া এবার আমন আবাদও বেড়েছে। তাছাড়া পোকার আক্রমনও এবার তেমন একটা ছিলনা। তারপরেও কৃষি বিভাগের লোকজন মাঠে সার্বৰনিক নজর রেখেছে এবং চাষিদের প্রয়োজনিয় পরামর্শ দিয়েছে। শেষের ঝড়-বৃষ্টিতে কিছুটা ৰতি হয়েছে। এখন আগাম জাতের ধান উঠছে। পরের গুলোনে ফলন আরো বেশি হবে। সব মিলিয়ে চাষিদের ধানের উৎপাদন এবার ভাল হয়েছে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক দেব দুলাল ঢালী বলেন, এখানে ইতিমধ্যে ৩০ শতাংশ ধান সংগ্রহ হয়েছে। এবার বিঘায় ১৭ থেকে ১৯ মন ধান পাচ্ছেন চাষিরা। শেষের ঝড়-বৃষ্টিতে কিছু ধানের ৰতি হয়েছে। ২/১ জায়গায় পোকার আক্রমন দেখা দিতে শুর্ব করলেও কৃষি বিভাগের তৎপরতায় তা রোধ করা গেছে। সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত ধানের ফলন ভালো হয়েছে।
রাজশাহী কৃষি সমপ্রসারন অধিদপ্তর জানায় এবার এখানে আমন চাষের লৰমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭০ হাজার ২২৪ হেক্টরে। আবাদ হয়েছিল ৭৩ হাজার ৮৮৭ হেক্টরে। এর মধ্যে বন্যার কারনে নস্ট হয়েছে ২৬শ’ হেক্টর। উৎপাদনের লৰমাত্রা ধরা আছে ১লাখ ৯৩ হাজার ৩৭৮ হেক্টর।

Leave a Reply