নির্বাচন এলো, বহুদিন পর!

15/11/2017 2:07 am0 commentsViews: 44

রিমন রহমান: জটিলতা সীমানা নিয়ে রিট হয় উচ্চ আদালতে। এরপর আটকে যায় রাজশাহীর বাঘা পৌরসভাসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন। মেয়াদ শেষ হলেও বছরের পর বছর দায়িত্বে থাকার সুযোগ পান মেয়র ও চেয়ারম্যানরা। অবশেষে সেই পরিস্থিতির অবসান ঘটলো বাঘা পৌরসভা এবং পুঠিয়া উপজেলার ভালুকগাছি ও শিলমাড়িয়া ইউনিয়নে।
সবকিছু ঠিক থাকলে বহুদিন পর আগামী ২৮ ডিসেম্বর এই পৌরসভা ও ইউনিয়ন দুটিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। বাঘা পৌরসভার তফসিল ঘোষণা হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে। আর ভালুকগাছি-শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের তফসিল ঘোষণা হয়েছে গত রোববার বিকেলে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান জানান, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী- আগামী ২৭ নভেম্বর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। ২৯ নভেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরদিন বরাদ্দ করা হবে প্রতীক। আর প্রচারণা শেষে ভোটগ্রহণ হবে ২৮ ডিসেম্বর।
প্রায় ১২ বছর আগে বাঘা পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনে সাবেক মেয়র আব্দুর রাজ্জাককে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ নেতা আক্কাস আলী। পৌরসভাটি তৃতীয় শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় এবং সর্বশেষ এ বছর প্রথম শ্রেণিতে উন্নিত হয়েছে। তফসিল ঘোষণা হওয়ায় এ নির্বাচনে অংশ নিতে প্রার্থীদের মধ্যে শুর্ব হয়ে গেছে প্রস্তুতি। মোড়ে মোড়ে চলছে আলোচনা, কে কে প্রার্থী হবেন এবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে এবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আক্কাস আলী ছাড়াও সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াহিদ সাজিদ কবির, বাঘা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল কুদ্দুস সরকার, সাধারণ সম্পাদক মামুন হোসেন, সাবেক সম্পাদক কামাল হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা আমানুল হাসান দুদু, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহিনুর রহমান পিন্টু ও সাবেক সম্পাদক তসিকুল ইসলাম প্রার্থী হতে দলের মনোনয়ন চাইবেন।
অন্যদিকে সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা আবদুর রাজ্জাক, পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক তোফিকুল ইসলাম তোফিক ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুলৱাহ আল মামুন নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মহিদুল ইসলাম এবং বাঘা পৌর জামায়াতের আমির সাইফুল ইসলামও।
একইভাবে পুঠিয়া উপজেলার শিলমাড়িয়া ও ভালুকগাছি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে ঘিরে সাম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যেও দৌড়ঝাপ শুর্ব হয়ে গেছে। এই দুই ইউনিয়নে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ২০-২৫ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। স্থানীয় হাট-বাজারসহ বিভিন্ন চায়ের দোকানে দোকানে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন তারা। এখন শিলমাড়িয়া ইউপির চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন মুকুল। আর ভালুকগাছিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন বিএনপির সমর্থক আব্দুল করিম।
সর্বশেষ ২০০৩ সালে শিলমাড়িয়া এবং ২০১০ সালে ভালৱুকগাছি ইউপির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই দুই ইউনিয়নের কিছু অংশ নিয়ে ধোকড়াকুল-গোপালপাড়া নামক নতুন ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করাকে কেন্দ্র করে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দেয়। ওই সময় উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই দুই ইউপির ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়।
নির্বাচন কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান জানান, সম্প্রতি আদালতে সীমানা সংক্রান্ত এই জটিলতার সমাধান হয়েছে। সমাধান হয়েছে বাঘা পৌর এলাকার সীমানারও। তাই নির্বাচনের জন্য তারা নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে অনুমতি চান। সেখান থেকে নির্দেশনা পেয়ে নির্বাচনের আয়োজন করা হচ্ছে। তবে নির্বাচন স্থগিত থাকা জেলার অন্য ইউনিয়নগুলোর ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, মেয়াদ শেষ হলেও সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এখনও পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর এবং বাঘা উপজেলার বাজুবাঘা, গড়গড়ি, গনিগ্রাম ও পাকুড়িয়া ইউপির ভোটগ্রহণ করা যাচ্ছে না। সর্বশেষ ২০০৩ সালের ৪ ফেব্র্বয়ারি এসব ইউপির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আদালতে সীমানা জটিলতার অবসান না হওয়া পর্যন্ত এসব ইউপির নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনাও নেই।

Leave a Reply