স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) নব-নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের সংবর্ধনা দিয়েছেন সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। সেখানে সংসদ সদস্য বাদশা ও রাসিক মেয়র এএইচএম খায়র্বজ্জামান লিটন হাতে হাত রেখে আগামী পাঁচ বছর কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। কাউন্সিলর আর সংরৰিত নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের সঙ্গেও একই অঙ্গীকার করেছেন মেয়র লিটন। বলেছেন, রাজনীতি হবে শুধু উন্নয়নের।
গতকাল শনিবার রাতে নগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়ের একটি চাইনিজ রেস্তোরাঁয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুর্বতে সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা মেয়র এএইচএম খায়র্বজ্জামান লিটনের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে তাকে সংবর্ধনা জানান। এরপর একে একে সকল কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলরদের ফুলের মালা পরিয়ে দেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা।
এ সময় তিনি বলেন, রাজশাহী সদরের সংসদ সদস্য হিসেবে এই সংবর্ধনা দেয়াটা নিজের দায়িত্ব বলে বোধ করেছি। আমি সেই দায়িত্ব পালন করলাম। খায়র্বজ্জামান লিটন যতদিন মেয়র ছিলেন, ততদিন উন্নয়নের গতি বেগবান ছিল। গত পাঁচ বছরে তার শূন্যতা অনুভব করেছি। এই শূন্যতা পূরণ হওয়ায় প্রশান্তি পেয়েছি। এখন আবার আমরা হাতে হাত রেখে কাজ করব। রাজশাহীকে আবার কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সেই পরিকল্পনা আমরা দুজন মিলেই তৈরি করব। আগামী পাঁচ বছর আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারলে রাজশাহী হবে দেশের সেরা শহর।
কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্যে বাদশা বলেন, কয়েকদিনের মধ্যেই আপনারা দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। দায়িত্ব নেয়ার পর যেন আপনাদের হাতে কাজ থাকে, আমি সেই ব্যবস’া করেছি। সরকার আমাকে ৫০ কোটি টাকা দিয়েছে। এই টাকার উন্নয়ন আমি আপনাদের হাত দিয়েই করাতে চাই। প্রত্যেক কাউন্সিলর তার ওয়ার্ডের জন্য পাবেন এক কোটি টাকা। আর নারী কাউন্সিলররা তিনটি ওয়ার্ডের জন্য ২৫ লাখ করে পাবেন ৭৫ লাখ টাকা। দায়িত্ব নেয়ার ৭ দিনের মধ্যেই আপনারা প্রধান প্রকৌশলীর কাছে প্রকল্প জমা দেবেন। অক্টোবরের ১৫ তারিখের মধ্যেই প্রকল্পগুলো যেন মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন হয়ে যায় আমি সেই ব্যবস’া করব। এর মাধ্যমে প্রতিটি ওয়ার্ডের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর সমাধান হয়ে যাবে বলেই আমি আশা করি।
নিজের থোক বরাদ্দের টাকা সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এবং সংবর্ধনা জানানোয় সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মেয়র এএইচএম খায়র্বজ্জামান লিটন বলেন, এই টাকা তিনি নিজের মতো করে উন্নয়ন কাজে খরচ করতে পারতেন। কিন’ কাউন্সিলরদের মাধ্যমে খরচ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি আমাদেরকেই সম্মানিত করেছেন। কারণ, আমাদের নীতি ও আদর্শ এক। সেটা হলো উন্নয়ন।
নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি লিটন বলেন, আগামী পাঁচ বছর আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করব। আমি আর সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা রাজশাহীর জন্য অনেক মেগা প্রকল্প আনব। পাঁচ বছরে আমরা ১০-১৫ বছরের কাজ করব। যে যে দলের মতাদর্শী হোক না কেন, আমাদের নীতি শুধু উন্নয়ন। উন্নয়নের রাজনীতি হবে, দলবাজি নয়। আমাদের ঐক্যটাকে ধরে রাখতে হবে। আমি আশা করি, আগামী পাঁচ বছরে রাজশাহীতে পাঁচ থেকে আট হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হবে।
এ সময় সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, আগামী ৯ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় রাজশাহী ওয়াসার সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প পাস হতে যাচ্ছে। এই প্রকল্পের পেছনে তার নিজের যেমন অবদান আছে, তেমনি অবদান আছে মেয়র খায়র্বজ্জামান লিটনেরও। এভাবে কাজ করলে আট হাজার কোটি টাকার কেন, তার চেয়েও বহুগুণ বেশি টাকার উন্নয়ন কাজ রাজশাহীতে বাস্তবায়ন হবে।
অনুষ্ঠানে এমপিপত্মী অধ্যাপিকা তসলিমা বেগম, মেয়রপত্মী শাহীন আক্তার রেণী, মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি লিয়াকত আলী লিকু, সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামানিক দেবু, জেলা সভাপতি রফিকুল ইসলাম পিয়ার্বল, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আশরাফুল হক তোতা, জাসদের মহানগর সম্পাদক আবদুলৱাহ আল মাসুদ শিবলী, বাংলাদেশ জাসদের সম্পাদক শফিকুর রহমান শফিকসহ ১৪ দলের নেতারা উপসি’ত ছিলেন। মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি র্বহুল আমিন প্রামানিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।