অবৈধ অটোরিকশার বৈধতা দিচ্ছে রাসিক

14/11/2017 1:06 am0 commentsViews: 24

মোহাম্মদ মাসুদ: নগরীতে অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার উৎপাত থেকে কেউ নিরাপদ নয়। জনসাধারণের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে, চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠছে নগরী। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে গতকাল পর্যন্ত মহানগরীতে শিশু, নারী-পূর্বষ ও বৃদ্ধ সহ নিহত হয়েছেন ৩১ জন মানুষ। আহত হয়েছেন ১২৯ জন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে মহানগরীতে ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে অটোরিকশা। আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ হাজার অটোরিকশা এবং ৬ থেকে ৭ হাজার মোটর চালিত সাধারণ রিকশা নগরীতে চলাচল করে থাকে। যা সড়কের ধারণ ৰমতার চেয়ে তিনগুণ বেশি। এছাড়াও এতে করে প্রতিদিন অটোরিকশার কবলে পড়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। আহত বা নিহত হচ্ছেন পথচারীরা। চলাচলে ভোগান্তিও চরমে পৌছেছে। এদিকে যানজট নিয়ন্ত্রণে নাকানি-চুবানি খাওয়ার মত অবস্থা ট্রাফিক পুলিশের। এরপরও লাইসেন্স দেয়া বন্ধ করেনি রাসিক কর্তৃপৰ। এ সুযোগে এক ধরণের অসাধু ব্যবসায়ীরা নিয়মের তোয়াক্কা না করে স্থানীয়ভাবে তৈরি করছে বিভিন্ন মডেলের অটোরিকশা। আর এই অবৈধতার বৈধতা দিচ্ছেন রাসিক। রাসিক থেকে একটি লাইসেন্স নম্বর নিয়ে উক্ত নম্বর দিয়ে একাধিক অটোরিকশা চলাচল করে থাকে। এতে করে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে সুন্দর এই নগরী।
স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) অধ্যাদেশ, ২০০৮ -এর ১১৭ নম্বর আইনে বলা হয়েছে, পথচারীগণ পথ চলতে বিপদগ্রস্ত না হন এবং তাহারা নিরাপদে ও অনায়াসে পথ চলাচলের জন্য সিটি কর্পোরেশনের প্রবিধান দ্বারা যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবে। কিন্তু সমপ্রতি রাসিকের এ ধরণের কোন কর্মকা- পরিলৰিত হয়নি। নগরীতে অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের (অটোরিকশা) চাপে প্রতিনিয়ত মানুষ জীবন বিপন্ন’র ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এ ব্যাপারে রাসিক-এর রাজস্ব কর্মকর্তা (আরও) আবু সালেহ মোঃ নূর-ঈ-সাইদ বলেন, রাসিকের সড়ক ব্যবহার করে অটোরিকশা। তাদের ব্যবহারের কারণে সড়কগুলো ৰতিগ্রস্ত হয় আর রাসিককে তা মেরামত করতে হয়। এ কারণে আমরা লাইসেন্স দিয়ে থাকি। তবে জনগণের চলাচল ও সড়কের ধারণ ৰমতার দিকে লৰ্যে রেখে সীমিত আকারে লাইসেন্স দেয়া হয়ে থাকে। বর্তমানে লাইসেন্সের পরিমাণ ৩ হাজার হবে এবং সকল নবায়ন কমপিৱট হলে ৮ হাজারের বেশি হতে পারে। আর বাকি সকল অটোরিকশা অবৈধভাবে চলাচল করছে। এছাড়াও রাসিকের হিসাবমতে মোটর চালিত লাইসেন্সবাহি সাধারণ রিকশা রয়েছে ৩ হাজার। তিনি আরো বলেন, আমরা অবৈধ অটোরিকশার বিষয়ে পুলিশকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্যও অনুরোধও জানিয়েছি। তবে ট্রাফিক পুলিশের সাথে অটোচালকদের সম্পৃক্ততা থাকার কারণে যত্রতত্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়াও তিনি বলেন, রাসিক-এর জেনারেল মিটিং-এর মাধ্যমে অটোরিকশার জোড় সংখ্যাগুলো একবেলা এবং বিজোড়সংখ্যাগুলো আরেকবেলা চলাচলের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এতে করে বর্তমান অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ ব্যাপারে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল বারিক মানিক বলেন, আমরা নগর উন্নয়নের জন্য সিটি কর্পোরেশনকে ট্যাঙ ভ্যাট দিয়ে থাকি। কিন্তু যে কারণে আমরা ট্যাঙ ভ্যাট দিয়ে থাকি সে সকল নাগরিক সুবিধা আমরা পাচ্ছি না। নগরবাসীর অভিযোগ, রাসিক কর্তৃক নগর উন্নয়নমূলক কর্মকা- বর্তমানে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। মহানগরীতে রাস্তাগুলোর বেহালদশা, চারিদেকে ধূলাবালি, রাস্তা ধোয়ার ব্যবস্থা স্থবির, শহরের বেশিরভাগ পোলগুলোতে বাতি নেই, সবুজ নগরী অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরিণত হয়েছে।
এদিকে অতিরিক্ত দায়িত্ব ট্রাফিক-এর উপ-পুলিশ কমিশনার হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, রাসিকের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানায়। পাশাপাশি তারা যদি আমাদের সহযোগিতা চান তাহলে আমরা তাদেরকে সহায়তা প্রদান করতে সর্বদা প্রস্তুত আছি। রাসিকের নিজস্ব ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছে তারা যদি মনে করেন রাস্তায় চলাচলকারী অবৈধ অটোরিকশা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিবেন তাহলে নিতে পারেন। এছাড়াও স্থানীয়ভাবে যে সকল অবৈধ অটোরিকশা তৈরি হচ্ছে সে সকল কারখানাগুলোও তারা সিলগালা করে দিতে পারেন। মহানগরীর যানজোট মুক্ত করা খুব বেশি জটিল বিষয় নয়, শুধুমাত্র আন্তরিকতার অভাব।

Leave a Reply