নজরদারি নেই প্রশাসনের

13/11/2017 2:02 am0 commentsViews: 25

বিশেষ প্রতিনিধি : রাজশাহীর কোর্ট চত্বরে স্যাকারিন পার্র্টি এবং পকেটমারের দৌরাত্ম্য বেড়ে গেছে। এতে করে আদালতে আসা অনেকেই পড়ছেন বেকায়দায় । সর্বস্বান্ত হয়ে হাহাকার করলেও পাচ্ছেন না কোন সহায়তা। প্রতিদিনই ঘটে চলেছে এসব ঘটনা।
ভুক্তভোগিসহ বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, মাদকাসক্ত মুখচেনা একটি চক্র প্রতিনিয়ত ঘটাচ্ছে এসব ঘটনা। আদালত চত্বরে পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও অসাধু চক্রটি তাদের অপকর্ম নির্বিঘ্নে ঘটিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে মানুষ আদালতে এসে পড়ে স্যাকারিন পার্টির খপ্পড়ে। নয়তো শিকার হয় পকেটমারের। প্রতারকদের দৌরাত্ম্য এতটাই যে এদের প্রতিবাদ করতে গিয়ে মানুষকে পড়তে হয় বিপদে। বিভিন্ন সূত্র মতে প্রতারকরা প্রথমত টার্গেট করে অপেৰাকৃত সহজ সরল মানুষকে। তারপর টার্গেটকৃত ব্যক্তির সামনে নিজেরাই জড়িয়ে পড়ে তর্ক বিবাদে। হাতে থাকে বিভিন্ন মোড়ক বা চকচকে প্যাকেট যাতে ভরা থাকে বালু অথবা মাটি। তারপর প্রতারকদের কেউ পাওনা টাকা পরিশোধের নাটক সাজিয়ে টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে সাৰী মানে এবং ভাল মানুষের রুপ ধরে প্যাকেটে মূল্যবান স্যাকারিন আছে যা বিক্রি করে পাওনা শোধ করবে বলে জানায়। এসময় প্রতারক টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকার দ্রব্য এক হাজার টাকায় জিম্মা রাখার জন্য বলে এবং এক ঘণ্টা বা আধা ঘণ্টার মধ্যে লাভ দিয়ে প্যাকেট নিয়ে যাওয়ার জন্য টার্গেট করা ব্যক্তিকে প্যাকেট রেখে তাকে উপকারের জন্য অনুরোধ জানায়। অল্প সময়ের ব্যবধানে লাভের আশায় টাকা দিয়ে ঘণ্টা পর ঘণ্টা অপেৰার পর যখন প্রতারক ফিরে না তখন প্যাকেট খুলে বুঝতে পারেন শিকার হয়েছেন প্রতারণার। আর এ ধরনের ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে আদালত চত্বরে।
এছাড়া পকেটমারের ঘটনা প্রতিদিন প্রত্যৰ করছে মানুষ। মাদকাসক্তদের একটা বড় অংশ এসবের পেছনে জড়িয়ে রয়েছে। মাঝে মাঝে গণপিটুনির শিকার হলেও কোন কোন সময় এরাও চড়াও হয় মানুষের ওপর। এদের নিয়ন্ত্রণকারী হিসাবে আড়ালে আবডালে রয়েছে গডফাদাররা। কোর্ট চত্বরের জনৈক ডাব বিক্রেতা প্রতিবেদককে জানান তিনি প্রায় স্যাকারিন পার্টির হাতে মানুষকে হেনস্তা হতে দেখেন। টহল পুলিশও দেখছে এসব প্রতারক এবং পকেটমারদের।
এ প্রসঙ্গে রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার সমিতির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নূর-এ-কামর্বজ্জামান ইরান বলেন এ ধরনের ঘটনার কথা প্রায়ই তারা শোনেন। তিনি এ বিষয়টিতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার ওপর গুর্বত্বারোপ করেন। কিন্তু দিনের পর দিন আদালত চত্বরে এধরনের অপরাধ ঘটে চললেও ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের প্রতিরোধ বা উচ্ছেদে কোন কার্যকর পদৰেপ নজরে আসে না মানুষের। আদালত সংশ্লিষ্টদের অভিমত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন একটু তৎপর হলেই স্যাকারিন পার্টি এবং পকেটমারদের উচ্ছেদ সম্ভব। এর ফলে কোর্ট চত্বরে নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

Leave a Reply