বচারপতি এস কে সিনহার পদত্যাগ

12/11/2017 2:09 am0 commentsViews: 27

সোনালী ডেস্ক: ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে ৰমতাসীনদের তোপের মুখে ছুটি নিয়ে বিদেশ যাওয়া প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা পদত্যাগ করেছেন। ব্যাপক আলোচনার মধ্যে বঙ্গভবনের পৰ থেকে গতকাল শনিবার দুপুরে বিচারপতি সিনহার পদত্যাগপত্র পাওয়ার কথা জানানো হয়।
বার্তা সংস্থা এফএনএস জানায়, এর আগে গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে ৰমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, বিচারপতি সিনহার কোনো পদত্যাগপত্র বঙ্গভবনে পৌঁছায়নি। একই সময় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আরেক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি বিচারপতি সিনহার পদত্যাগের বিষয়ে কিছু জানেন না। দুপুর ১টায় রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, উনার পদত্যাগপত্র আজই (গতকাল শনিবার) বঙ্গভবনে এসেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের ঘটনা এটাই প্রথম।
ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে ৰমতাসীনদের ব্যাপক সমালোচনার মুখে গত ৩ অক্টোবর ছুটি নিয়ে ১৩ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ায় যান বিচারপতি সিনহা। সেখানে তার মেয়ে থাকেন। পরে তার স্ত্রীও ঢাকা থেকে অস্ট্রেলিয়া যান। প্রায় এক মাস অস্ট্রেলিয়ায় বড় মেয়ের কাছে কাটিয়ে বিচারপতি সিনহা সিঙ্গাপুর হয়ে কানাডায় ছোট মেয়ের কাছে রওনা হন গত শুক্রবার। তার আগে তিনি সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠান। ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পাওয়া বিচারপতি সিনহার চাকরির মেয়াদ ছিল আগামি ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। বিচারপতি সিনহা ছুটিতে যাওয়ার পর আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধান বিচারপতি দায়িত্বে ফেরা না পর্যন্ত নিয়ম অনুযায়ী বিচারপতি ওয়াহহাব মিয়াই ওই দায়িত্ব পালন করে যাবেন বলে আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন। বিচারপতি সিনহা ছুটি নিয়ে বিদেশ যাওয়ার পর তার বির্বদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ ওঠার কথা সুপ্রিম কোর্টের পৰ থেকে জানানো হয়। সর্বোচ্চ আদালত জানায়, ওই সব অভিযোগের ‘গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা’ তিনি না দিতে পারায় সহকর্মীরা তার সঙ্গে এজলাসে বসতে নারাজ। এর পরিপ্রেৰিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলে আসছিলেন, সহকর্মীরা বসতে না চাওয়ায় এস কে সিনহার প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে ফেরা ‘সুদূর পরাহত’।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ২১ জন বিচারক প্রধান বিচারপতির পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাই প্রথম পদত্যাগ করলেন। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে ৰমতাসীন দলের তোপের মুখে ছুটি নিয়ে বিদেশ যাওয়ার পর সেখান থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন তিনি। স্বাধীনতার পর বিচারপতি আবু সাদত মোহাম্মদ সায়েম ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম বিচারপতি। বাংলাদেশের ৪৭ বছরে এস কে সিনহাই ছিলেন প্রথম অমুসলিম প্রধান বিচারপতি। ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন এস কে সিনহা। বয়স অনুযায়ী ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি তার অবসরে যাওয়ার কথা ছিল। তবে কার্যকাল শেষ হল মেয়াদের ৮১ দিন আগেই। দায়িত্ব পালনের আগে থেকে নানা কারণে আলোচিত ছিলেন বিচারপতি সিনহা, পরেও নানা ঘটনায় হন আলোচিত। যুদ্ধাপরাধের মামলার শুনানিতে একাত্তরে নিজের শান্তি কমিটিতে থাকার কথা তুলে ধরে আলোচিত হন বিচারপতি সিনহা। তবে তিনি একইসঙ্গে বলেছিলেন, শান্তি কমিটির ছদ্মাবরণে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেছিলেন তিনি। প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বিচার বিভাগের ৰমতা খর্ব করার অভিযোগ নানা সময় তুলেছিলেন তিনি। নিম্ন আদালতের বিচারক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ নিয়ে তার সঙ্গে সরকারের বিরোধও ছিল আলোচিত। অবসরের পর রায় লেখা নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সহকর্মী বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে তার বাদানুবাদ বিচারাঙ্গন ছাড়িয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তাপ ছড়ায়। এরপর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ভাস্কর্য স্থাপন নিয়েও সরকারের সঙ্গে টানাপড়েন চলে বিচারপতি সিনহার। তার শেষ বিতর্কের শুর্ব সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে, যা প্রথমে ছুটি এবং শেষে পদত্যাগে গিয়ে শেষ হয়।

Leave a Reply