বাল্যবিবাহ রোধে অনেক কিছুই করার আছে

12/11/2017 1:04 am0 commentsViews: 16

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সমাজের অগ্রগতি তাল মেলাতে পারছে না। কথাটা মনে খটকা লাগলেও অস্বীকার করা যাবে না। উন্নয়নে বৈষম্যই এর কারণ। আবার নাগরিক সমাজের আধুনিকতার সাথে গ্রামীণ সমাজের পশ্চাদপদতাও চোখে পড়ার মত। এৰেত্রে বাল্যবিবাহ উলেস্নখযোগ্য।
সুবিশাল গ্রাম সমাজে বাল্যবিবাহের প্রচলন বহু পুরানো। সেখানে কুড়িতেই বুড়ি-কথাটা মোটেই অজানা নয়। ফলে সময় থাকতেই মেয়ের বিয়ে দিতে আগ্রহীরা বালিকাদেরই বিয়ের পিঁড়িতে বসায়। এর ফলে সংসারে সুবিধা-অসুবিধার হিসাব কষা বেশ কঠিন। শিৰা ও উপযুক্ত শারীরিক-মানসিক বিকাশের আগেই সনৱান ধারণ করে ভয়াবহ বিড়ম্বনায় পড়ার ঘটনা কম নয়। অপুষ্ট মা অপুষ্ট সনৱান জন্ম দেবে এটাই স্বাভাবিক। জন্মকালীন জটিলতাও কম নয়। এ সব কিছু বিবেচনায় বাল্যবিবাহ রোধে সরকারি-বেসরকারি প্রচেষ্টা একেবারে বৃথা যায়নি। বাল্যবিবাহের হার কমছে। কমেছে মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হারও। কিন’ সমাজে বাল্যবিবাহের আশঙকা রয়েই গেছে।
২০১৫ সালের এক জরিপে ১৮ বছরের নিচে বিয়ের শতকরা হার ছিল ৬২ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০১৭ সালে তা নেমে এসেছে ৪৭ শতাংশে। একইভাবে ১৫ বছরের নিচে বিয়ের শতকরা হার ছিল ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ। যা দু’বছরে কমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৭ শতাংশে। অর্থাৎ এখনও গ্রাম সমাজে অসংখ্য বালিকা বাল্যবিয়ের অভিশাপের শিকার হচ্ছে। যদিও প্রশাসন, ভ্রাম্যমাণ আদালত, বেসরকারি সংস’া এবং সাহসী কিশোরীদের প্রতিবাদে বাল্যবিয়ের হার ক্রমেই কমছে। তবে বাল্যবিবাহ বন্ধে আরও অনেক কিছুই করার আছে।
সামাজিক সচেতনা বৃদ্ধি, প্রতিরোধ ও আইনগত পদৰেপ ছাড়াও সামাজিক-অর্থনৈতিক বাসৱবতাও এৰত্রে গুরম্নত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। হতদরিদ্র পরিবারে অর্থনৈতিক দুর্দশা যেমন মেয়ের তাড়াতাড়ি ‘বিদায়’ তরাম্বিত করে তেমনি সামাজিক নিরাপত্তাহীনতাও এৰেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। ঘরে-বাইরে একজন কিশোরী কতটা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে খোঁজ নিলেই তার ভয়াবহতা জানা অসম্ভব নয়। স্কুলে যাবার পথে কিশোরীদের ইভটিজিংয়ের মারাত্মক যেসব খবর পাওয়া যায় তাও কম উদ্বেগজনক নয়।
এসব থেকে রৰা পাওয়ার সহজ পথ হিসেবে বিয়ের বাইরে আর কিছু খুঁজে পাওয়া অনেকের পৰেই কঠিন গ্রাম সমাজে। ফলে এনিয়ে লুকোচুরি, কলা-কৌশলের আশ্রয় নেয়ার অভাব দেখা যায় না। এ ছাড়া কুসংস্কারের প্রভাব তো আছেই।
তাই বাল্যবিবাহ রোধে পরিকল্পিত সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরম্নরি। তা হলে এর সংখ্যা দ্রম্নতই কমে আসবে, এতে সন্দেহ নেই। বিষয়টি অগ্রাধিকার লাভ করবে এটাই সকলের কাম্য।

Leave a Reply