কুয়াশার কম্বলে দূষিত নগরী দিলিস্ন

11/11/2017 1:04 am0 commentsViews: 6

এফএনএস ডেস্ক: বিশ্বের অন্যতম দূষিত নগরী দিলিস্নকে গত কয়েক দিন ধরে জুঝতে হচ্ছে মারাত্মক ধোঁয়া-শার সঙ্গে।
কুয়াশার সৱর এতটাই ভারী, যে তাকে সংবাদ মাধ্যমে বর্ণনা করা হচ্ছে কুয়াশার কম্বল হিসেবে।
বিবিসি জানিয়েছে, বিশ্ব স্বাস’্য সংস’া দূষণের যে সীমা পর্যনৱ জনস্বাসে’র জন্য নিরাপদ বলে বিবেচনা করে, ভারতের রাজধানীর বাতাস এখন তার চেয়ে ৩০ গুণ বেশি দূষিত।
এই পরিসি’তিকে ‘পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি’ ঘোষণা করেছে ভারতের মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন।
কিন’ এই ধোঁয়াসার উৎস কী?
বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে এনডিটিভি লিখেছে, বছরের এই সময়টায় ভারতের ওপর দিয়ে যে বাতাস বয়ে যায়, তা আসে মধ্যপ্রাচ্যের দিক থেকে। কুয়েত, ইরান সৌদি আর-বের ওপর দিয়ে আসার সময় সেই বাতাসে মেশে মরম্নর ধুলো।
ভারতের উত্তর অঞ্চলে পৌঁছানোর আগে পাকিসৱানে তুলনামূলকভাবে শীতল এলাকা পাড়ি দেয় সেই বাতাস। সেখানে ধুলোর সঙ্গে যোগ হয় জলকণা, তৈরি হয় কুয়াশার।
কেবল দিলিস্ন নয়, এই কুয়াশা ভারতীয় রাজধানীর আশপাশের রাজ্যগুলোতেও হানা দিচ্ছে। কিন’ দিলিস্নর পরিসি’তি করম্নণ করে তুলেছে হরিয়ানা আর পাঞ্জাব।
এনডিটিভি লিখেছে, বছরের এই সময়টায় ওই দুই রাজ্যের কৃষকরা ফসল তোলার পর মাঠেই নাড়া পুড়িয়ে দেয়। বিসৱীর্ণ এলাকায় সেই নাড়া পোড়ানোর ধোঁয়া মিশছে আরব থেকে ধুলো আর পাকিসৱান থেকে জলকণা নিয়ে আসা কুয়াশার সঙ্গে।
সব মিলিয়ে যে ভারি ধোঁয়াশার সৃষ্টি হচ্ছে, তা ঝুলে থাকছে দিলিস্নর আকাশে। রাতে তাতে জলীয়-বাষ্পের পরিমাণ আরও বাড়ছে, সকাল থেকে পুরো নগরী ঢেকে থাকছে ধূসর -বাদামি কুজ্ঝটিকায়।
নাসার স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্য বিশেস্নষণ করে দিলিস্নর ধোঁয়াশার এমন ব্যাখ্যাই দিচ্ছেন আবহাও-য়াবিদরা।
এনডিটিভি লিখেছে, দিলিস্নর বাতাসে এখন ভাসমান বস’কণার (পার্টিকুলেট ম্যাটার) পরিমাণ ‘বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত নগরী’ বেইজিংয়ের চেয়েও দশ গুণ বেশি। কাশি, শ্বাসকষ্টের মতো নানা উপসর্গ নিয়ে রোগীর ভিড় বাড়ছে হাসপাতালে।
এর মধ্যেও জীবিকার তাগিদে রাসৱায় নামতে হচ্ছে মানুষকে। সবার মুখে দেখা যাচ্ছে মাস্ক, মাথায় আচ্ছাদন। দৃষ্টি সীমা এতটাই কমে এসেছে যে প্রত্যেক চালককে গাড়ি চালাতে হচ্ছে ঝুঁকি নিয়ে।
এই আতঙ্কজনক পরিসি’তিতে বেশ কিছু পদৰেপ নিয়েছে দিলিস্ন রাজ্য সরকার। শহরে গাড়ির পার্কিং ফি চারগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে কিছু স্কুল। নিত্য-প্রয়োজনীয় পণ্যবাহী গাড়ি ছাড়া আর কোনো ট্রাক বা বাণিজ্যিক বাহনকে দিলিস্নতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।
ভারতের সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের গবেষক পলাশ মুখার্জি বিবিসিকে বলেন, “গত বছরও ঠিক একই জিনিস হয়েছিল। বাতাসে যে পলিউট্যান্টগুলো আছে সেগুলো বেরোনোর কোনো পথ পাচ্ছে না আবহাওয়ার কন্ডিশনের কারণে। বাতাসের গতি কমে গেছে বলে দূষণ বেরোতে পারছে না।ৃ ‘মিক্সিং লেয়ার’ যেটাকে বলে, সেটার উচ্চতা অনেক কমে যাওয়ায় বায়ুমন্ডলের নিচের দিকে পলিউ-ট্যান্টের ঘনত্ব অনেক বেড়ে গেছে, সেটাই সমস্যার প্রধান কারণ।”
তবে ভারতের আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আগামি এক সপ্তাহে দিলিস্নতে পশ্চিমা ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা তারা দেখছেন না। ফলে অবস’ার দ্রম্নত উন্নতিরও আশা কম।

Leave a Reply