জনদুর্ভোগ চরমে

09/11/2017 2:09 am0 commentsViews: 57

তৈয়বুর রহমান: অতিরিক্ত অটোরিকশা, ত্র্বটিপূর্ণ ট্রাফিক ব্যবস্থা ও অপরিকল্পিত ডিভাইডার। জনদুর্ভোগ চরমে, হিমশিম ট্রাফিক পুলিশও। অথচ সিটি কর্পোরেশনের পৰ থেকে নিয়ম বহির্ভুতভাবে দেয়া হচ্ছে অটোরিকশার লাইসেন্স। একেতো অতিরিক্ত অটোরিকশা, ট্রাফিক সিগনাল বাতির অভাব, তার ওপর নগরীর জনগুর্বত্বপূর্ণ স্থানে অপরিকল্পিত ডিভাইডার, এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা। নগরীতে এখন কত অটোরিকশা চলছে তার হিসাব নাই কারো কাছে।
এই বিপুল পরিমাণ অটোর চাপে বেহাল ট্রাফিক ব্যবস্থা। অটোর চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে নগরীর যত্রতত্র বসানো হচ্ছে ত্র্বটিপূর্ণ ডিভাইডার। যা জনচলাচলকে করে তুলেছে বিপদজনক। নগরীর জনঅধ্যুষিত এলাকা হচ্ছে সাহেব বাজার। এখানে প্রতি দিন বিভিন্ন শিৰা প্রতিষ্ঠানে আসে শতশত ছাত্র ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি এবং পেশার মানুষ। সাহেব বাজারে চলাচলের জন্য গুর্বত্বপূর্ণ সড়ক হচ্ছে মনিচত্বর-জিরো পয়েন্ট। মনিচত্বরের পাশেই রাজশাহী কলেজ ও সরকারি কলেজিয়েট স্কুল। এ পথ দিয়েই নগরীর শতশত মানুষ সাহেব বাজার আসে এবং যায়। এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে নগরীর বাইরে থেকে বাজারে আসা ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আর ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে অসংখ্য অটোরিকশা। অটোচালকরা ইদানিং সাহেব বাজার সড়কের ফুটপাত ছাড়া সবই তাদের দখলে নিয়ে ফেলেছে। এর ফলে যাত্রী বা পথচারিদের রাস্তায় পা ফেলার জো-নাই। সাহেব বাজারের সড়কগুলো এখন অটো চালকদের দখলে।
বেলা হবার সাথে সাথে সেখানে শুর্ব হয় হাজার হাজার মানুষের কর্মযজ্ঞ। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে এরই মধ্যে রাজশাহী কলেজ থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত অস্থায়ী ডিভাইডার দেয়ার পরও বন্ধ হয়নি স্কুল, কলেজের ছাত্রছাত্রীসহ পথচারী ও অটো সাথে ধাক্কাধাক্কি। ডিভাইডারটি রাজশাহী কলেজ গেট পর্যন্ত দেয়ায় রাস্তাটি হয়ে পড়েছে সঙ্কুচিত। এর ফলে রাজশাহী কলেজের সামনে রাস্তা পার হতে গিয়ে পথচারিদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। এলাকাটি পরিণত হয় রণৰেত্রে।
একেতো মাত্রাতিরিক্ত অটো, তার ওপর শতশত ছাত্রছাত্রী আর পথচারির ধাক্কাধাক্কি সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের নাজেহাল অবস্থা। শুধু সেখানেই নয় তার উত্তাপ গিয়ে পড়ে গোটা সাহেব বাজার জুড়ে। শুর্ব হয় অটোতে অটোতে ঠোকাঠুকি, অটোর সাথে পথচারিদের ঠেলাঠেলি। আর অটোচালকের কোন প্রশিৰণ না থাকায় অহরহই ঘটছে দুর্ঘটনা। এ অবস্থা মোকাবিলা করার জন্য মোতায়েন রয়েছেন ট্রাফিক পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশ। তারা এই সুযোগে চালককে না পেরে অটো পেটাচ্ছে, কারো ধরছে কলার, আবার কারো কাছ থেকে টু’পাইস কামিয়ে নিচ্ছে। এ হচ্ছে প্রতি দিনের খেলা।
নগরীর সব চেয়ে গুর্বত্বপূর্ণ পয়েন্ট হচ্ছে জিরো পয়েন্ট। এর সাথে রাস্তার সংযোগ রয়েছে উত্তর দিক থেকে গণকপাড়া সড়ক, পশ্চিম দিক থেকে মনিচত্বর হয়ে আসা মূল সড়ক, পূর্ব দিক থেকে আলুপট্টি হয়ে আসা সড়ক। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অটোযোগে এই সব সড়ক দিয়ে সাহেব বাজার এসে থাকেন। এর ফলে নগরীর গণকপাড়া থেকে, পূর্ব আলুপট্টি দিক থেকে এবং পশ্চিমে মনিচত্বরের দিক থেকে হাজার হাজার অটোর স্রোত এসে পড়ে জিরো পয়েন্টে। অথচ রাজশাহী কলেজ থেকে মনিচত্বর হয়ে কুমারপাড়া পর্যন্ত অটো ঘোরানোর কোন ব্যবস্থা নাই। ডিভাইডার দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে এলাকাটি এখন রণ ৰেত্রে পরিণত হয়েছে।
এর পাশাপাশি রয়েছে অটোচালকদের নিকট থেকে বৈধতার কাগজ দেখার নাম করে চাঁদাবাজি। যাতে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়তে হচ্ছে অটোচালকদের।
শুধু সাহেব বাজার নয়, নগরীর লক্ষ্মীপুর মোড়েও অস্থায়ী ডিভাইডার দেয়া হয়েছে। ফলে সড়কটি হয়ে পড়েছে একেবারে সঙ্কুচিত। সেখানে এমন অবস্থা যে একটি অটো দাঁড়ালেই আরেকটি পার হওয়া দুস্কর। অথচ এরই মাঝেই রাস্তায় যত্রতত্র অটো দাঁড় করিয়ে যাত্রী উঠানো হচ্ছে। এতে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। ফলে পথচারিদের পড়তে হচ্ছে চরম বিপাকে। এতে পথচারিদের মাঝেমধ্যেই লাঞ্ছিতও হতে হচ্ছে। অনেক সময় বয়স্ক ও অপরিচিত পথচারিদের রাস্তা পার হতে অসহায়ের মত দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। অনেক সময় ট্রাফিককে পথচারিদের হাত ধরে রাস্তা পার করাতে দেখা গেছে।
অধিকাংশ অটোচালকই প্রশিৰণবিহীন এবং ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞ। তাই তারা কোন আইন ও নিয়মের ধার ধারে না। যাত্রী তোলা নিয়ে তাদের মাঝে এক অসম প্রতিযোগিতা চলে আসছে। এমনকি রাস্তার ওপর এক অটোর পাশে আরেক অটো দাঁড় করিয়ে পথ বন্ধ করে যাত্রী উঠা- নামা করায়। ইদানিং সাহেব বাজার সড়কের ফুটপাত ছাড়া সবই চলে গেছে অটোচালকের দখলে। এর ফলে যাত্রী বা পথচারিদের রাস্তায় পা ফেলার জো-নাই। সাহেব বাজারের সড়কগুলো এখন অটোজটে জর্জরিত। এ অবস্থা থেকে পথচারিরা মুক্তি পাবার আকাঙৰায় দিন গুণছেন।
এ ব্যাপারে ট্রাফিক পুলিশের সহকারি পুলিশ কমিশনার (সদর) ইফতে খায়ের আলম বলেন, অতিরিক্ত অটোর চাপ সামাল দিতে অস্থায়ী ডিভাইডার বসানো হয়েছে। তবে এতে জনদুর্ভোগের বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন এবং এ সম্পর্কে কি করা যায় তা চিন্তা করা হচ্ছে বলে জানান।
এ বিষয়ে সংশিৱষ্টদের ধারণা ,নগরীতে এখন প্রায় ৩০ হাজারের অধিক অটো চলাচল করছে। আর এসব অটো সিটি কর্পোরেশনের কতিপয় কর্মকর্তার সহযোগিতায় অবৈধভাবে চালু করা হয়েছে। আরেক সূত্রে জানা গেছে যে একই লাইসেন্সে একাধিক অটো নগরীতে চলাচল করলেও ধরার উপায় নেই অবৈধ কোনটা।
সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ মোহাম্মদ নূর-ঈ-সাঈদ-এর কথা বলে জানা জানা যায় নগরীতে এখন সাড়ে ৭ হাজার অটোরিকশা লাইসেন্স রয়েছে। তবে প্রতি দিন নগরীর বাইরে থেকে নগরীতে প্রবেশ করছে শতশত অটো। যার কারণে নগরীর সমস্ত রাস্তা চলে যাচ্ছে অটোর দখলে।

Leave a Reply