মধ্যস্বত্বভোগীরাই লাভবান

09/11/2017 1:04 am0 commentsViews: 24

বাজারে সব জিনিসের দামই চড়া। চালের দামে ঊর্ধ্বগতি স্থির হলেও তেমন নামেনি। পেয়াজের ঝাঁঝ অনেকটাই সহ্য হয়ে এসেছে। কাঁচা মরিচসহ শীতের সবজি এখন চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। এখানেও মধ্যস্বত্বভোগীদের লাভের কথাই পত্রিকায় ফলাও প্রচার পেয়েছে।
কৃষিপণ্য কৃষকের কাছ থেকে বাজারে আসতেই দাম বেড়ে যায় অস্বাভাবিক। বাড়তি দাম কৃষকের ঘরে যায় না। অনেক ৰেত্রে লাভবান হওয়া দূরে থাক, উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খায় কৃষক। কাঁচা পণ্য নিয়ে দরাদরি করারও সুযোগ কম। আবার বাজারে ব্যবসায়ীদের হাঁকা দাম নিয়েও অসহায় ক্রেতা সাধারণ। উৎপাদক থেকে ক্রেতা-ভোক্তাদের হাতে আসতেই কৃষিপণ্যের যে বাড়তি দাম সেটা থেকে লাভবান হয় তৃতীয় পৰ, মধ্যস্বত্বভোগী।
তারাই কৃষকের কাছ থেকে এনে ব্যবসায়ীদের কাছে বাড়তি দামে পণ্য সরবরাহ করে। এরপর যুক্ত হয় ব্যবসায়ীদের লাভের অংক। ফলে উৎপাদক ও ক্রেতাকে কাঁচকলা দেখিয়ে প্রধানত মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটই মোটা হয়। কাঁচা বাজারের এই চিত্রই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। এখানে কোনো নিয়ন্ত্রণ আছে বোঝা যায় না।
এখন বাজারে শীতের সবজি উঠতে শুর্ব করেছে। কয়েক কিলোমিটার দূরের হাট-বাজার থেকে শহরের বাজারে আসতেই দাম বেড়ে যায় কেজি প্রতি ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। এ নিয়ে ক্রেতাদের অসন্তোষ থাকলেও জানাবার জায়গা নেই। কৃষি বিপণন বা ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর থাকলেও কার্যকর ভূমিকা দেখা যায় না। সিটি কর্পোরেশনও নির্বিকার বাজারে নিত্যপণ্যের গলাকাটা দামের ব্যাপারে। ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের বেপরোয়া হয়ে উঠতে অসুবিধা কোথায়?
কৃষিপণ্য বিপণনে বা ভোক্তা অধিকার রৰায় সরকারি-বেসরকারি সংস্থার তৎপরতা অবশ্য দেখা যায় মাঝে মধ্যেই। কিন্তু তাদের অভিযানে কাজ হয়, এমনটা দেখা যায় না। তারা যে জরিমানা করেন সেটাও শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ে ক্রেতাদের ওপরেই, এমন ধারণা অনেকেরই।
শুধু বাজারই নয়, দেশজুড়েই যেন একই অবস্থা। সর্বত্রই মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট। ফলে মনিটরিং ব্যবস্থাই হারিয়ে গেছে। এ অবস্থায় বাজার নিয়ন্ত্রণে নতুন মন্ত্রণালয়ের দাবি উঠেছে। এতে কি অবস্থার পরিবর্তন আশা করা যায়? মধ্যস্বত্বভোগীদের লাগাম কি আদৌ টেনে ধরা যাবে?

Leave a Reply