পরিকল্পিত পদৰেপ ছাড়া এই ইলিশ ধরা কি বন্ধ হবে ?

19/10/2017 1:04 am0 commentsViews: 34

জাতীয় মাছ ইলিশ রৰায় এর বংশবিসৱারের নিশ্চয়তা অপরিহার্য। এ জন্য অক্টোবর মাসের প্রথম থেকে ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ ধরা, পরিবহন, বাজারজাত সবই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ সময় ৰতিগ্রসৱ জেলেদের সহায়তার ব্যবস’াও রাখা হয়েছে। তাদের জীবন রৰায় পরিবার প্রতি ২০ কেজি চালের বরাদ্দ আছে। ফলে সরকারের ইলিশ রৰা কর্মসূচির বিরোধিতা আসেনি কোনো পৰ থেকেই। তবে এখন পরিসি’তি বেশ এলোমেলো দেখা যাচ্ছে।
প্রতিদিনই পত্র-পত্রিকায় ফলাও করে ইলিশ ধরার সচিত্র খবর আসছে। আইন-শৃংখলা রৰা বাহিনীর অভিযানে শত শত মন মাছ, হাজার মিটার কারেন্ট জালসহ জেলেরা আটক হচ্ছে। জরিমানা হচ্ছে, সাজা দিয়ে জেলে পাঠানো হচ্ছে। এদিকে নদী তীরের এলাকাগুলিতে ইলিশের বেচা-কেনাও চলছে আড়ালে-আবডালে। টাটকা মাছ ও অল্প দামের কারণে মানুষ কিনছেও বেশ। ঈদের মাংস ফুরিয়ে যাওয়া ফ্রিজ ভরে উঠছে পদ্মার নিষিদ্ধ ইলিশে। অর্থাৎ জেলেদের অবৈধ কাজের সুযোগ নিতে পিছিয়ে থাকা লোক কমই দেখা যাচ্ছে।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী জেলাতেই মোবাইল কোর্ট কাজ করছে ১৮ টি। এ পর্যনৱ অভিযান চালানো হয়েছে ১৮৮ টি। এতে ২ লাখ ৩৮ হাজার মিটার জাল আটক করা হয়েছে যার মূল্য প্রায় ৪৭ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। অনেক স’ানে আটক জাল পুড়িয়ে ফেলাও হয়েছে। মামলা হয়েছে ১৩ টি। জরিমানা আদায় করা হয়েছে ৪৮ হাজার ২শ টাকা। অনেককেই জেলে পাঠানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার পবা উপজেলার নবগঙ্গা এলাকায় অভিযানকালে ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ ও ধ্বংস করা হয়। ১৪০ কেজি ইলিশ উদ্ধার করে শিশু সদনে দেয়া হয়। আটক ৮ জনকে ১ বছরের সাজা দেয়া হয়। তারপরও যে বেআইনী ইলিশ ধরা বন্ধ হবে তার নিশ্চয়তা নেই।
দেখা গেছে, অভিযান কালে দ্রম্নতগতি সম্পন্ন ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে ইলিশ শিকারী জেলেরা পালিয়ে যাবার সুযোগ পায়। কারণ, মৎস্য বিভাগের স্পিডবোট নেই। লোকবলের অভাবের কথাও সংশিস্নষ্টদের মুখেই শোনা গেছে। তাছাড়া জেলেরা সাধারণত দিন আনে দিন খায়। তাদের ৰতি পুষিয়ে নিতে পরিবার প্রতি ২০ কেজি চাল দেয়ার ঘোষণাও বাসৱবায়িত হয়নি ঠিকমতো। এই প্রথমবারের মত রাজশাহীতে ৭ হাজার তালিকাভুক্ত জেলে পরিবারের মধ্যে চাল দেয়া হচ্ছে মাত্র ১৮০০ পরিবারকে। তারপরও এখন পর্যনৱ সে চালের দেখা নেই। জানা গেছে, সময়মতো চাহিদা পাঠানো হলেও চাল আসতে দেরি হবার কারণে তা বিতরণ করা যায়নি। তাহলে বিচারা জেলেরা ৰুধার জ্বালা মেটাবেই বা কি করে? আর নাগরিক সমাজে নিষিদ্ধ ইলিশ কেনার আগ্রহ না থাকলে জেলেরা কি এতটা আগ্রহী হতো? বৃহত্তর স্বার্থ রৰায় ৰুদ্র স্বার্থ বিসর্জন দেবার ঘটনা যদি সমাজ থেকে উধাও হয়ে যায় তবে শুধু দুর্বলদের ওপর আইন চাপিয়ে কি সফলতা পাওয়া যাবে?
ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মসূচীর সফলতার জন্য আগে থেকেই প্রস’তি নেয়ার পাশাপাশি পরিকল্পিত ভাবে তার বাসৱবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য প্রচার-প্রচারণা ও ৰতিপূরণের বিষয়টা অবশ্যই প্রাধান্য দেয়া দরকার। আর মৎস্য বিভাগের সৰমতা ও পর্যাপ্ত জনবল না থাকলে ইলিশ রৰা কর্মসূচী এলোমেলো হবে এটাই স্বাভাবিক।

Leave a Reply